গত একটা বছর কীভাবে কেটেছে সাকিব আল হাসানের? তাঁকে এই প্রশ্নটা করলে হয়তো একটু দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারণে নিষিদ্ধ হওয়ার পর সময় কি খুব ভালো কাটতে পারে! কিন্তু সাকিব যে এই সময়টাতেই পরিবারকে সবচেয়ে কাছে পেয়েছেন। দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন। হাতে থাকা অফুরন্ত সময় পুরোপুরি দিয়েছেন দুই সন্তানকে। করোনাও তাঁর জন্য শাপে-বর হয়েছিল। ক্রিকেটহীন থাকার কষ্টটা বলতে গেলে পেতেই হয়নি তাঁকে। যেখানে বাংলাদেশের ৩৬টি ম্যাচ তাঁর দূর থেকে দেখার কথা ছিল, করোনার কারণে খেলা বন্ধ থাকার কারণে তিনি মিস করেছেন মাত্র চারটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও সাতটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।

default-image

এই সময়টা দেশের বাইরেই ছিলেন বেশির ভাগ সময়। যুক্তরাষ্ট্রেই গত এপ্রিলে জন্ম নেয় তাঁর দ্বিতীয় কন্যা সন্তান। প্রথম কন্যার সময় যেটি পারেননি, সেটাই করতে পেরেছেন দ্বিতীয়টির জন্য। মোট কথা এই এক বছর পুরোদস্তুর সংসারী সাকিবকে পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী উম্মে আল হাসান।

সাকিবও ব্যাপারটি উপভোগই করেছেন। গতকাল নিউইয়র্কে সুধীজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে সাকিব বলেছেন, ‘বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয়েছে। বলতে পারেন, বাচ্চার দেখাশোনা করেই সময় কাটানো হয়েছে। দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম হলো ছয় মাস আগে। প্রথম তিন-চার মাস আমিই ওর সঙ্গে প্রতি রাতে থাকতাম। ওর দেখাশোনা করতাম। বেবি সিটিংয়ের কাজটা করা হয়েছে। প্রথম বাচ্চার জন্য যেটা করতে পারেনি, এবার সেটা পুরোপুরি করতে পেরেছি। সেদিক থেকে খুবই খুশি।’

default-image
বিজ্ঞাপন

মাঝখানে দেশে এসেছিলেন। সেটি সেপ্টেম্বরের শুরুতে। অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। সেটি দিয়েই ফিরতে চেয়েছিলেন। এক মাস তাঁর আঁতুড়ঘর বিকেএসপিতে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু কোয়ারেন্টিন-জটিলতায় সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তিনি ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। এখন প্রস্তুত হচ্ছেন আবার দেশে ফেরার।

নভেম্বরের শুরুতেই ফিরতে পারেন তিনি। বিসিবির পাঁচ দলের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টই হতে পারে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তাঁর ক্রিকেটে ফেরার সিরিজ। তবে কীভাবে ক্রিকেটে ফিরবেন, কবে ফিরবেন, সে সিদ্ধান্তটা তিনি দেশে এসেই নিতে চান, ‘বাংলাদেশে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এরপরেই আসলে বাকি কাজগুলো কীভাবে কি হবে সেটার একটা রূপরেখা তৈরি হবে। এখান থেকে আসলে সেই রূপরেখাগুলো তৈরি করা সম্ভব না। দেশে ফেরার পরই করা হবে। বিসিবির সঙ্গে কথা বলেই করা হবে এবং সুন্দর করেই করা হবে। কিন্তু এটা দেশে ফেরার আগে সম্ভব না।’

default-image

বিসিবির সঙ্গে তাঁর সব সময়ই যোগাযোগ ছিল বলেই জানিয়েছেন সাকিব, ‘আমার তো বিসিবির সঙ্গে সব সময়ই কথা হয়। বোর্ডের সভাপতি পাপন ভাইয়ের (নাজমুল হাসান) সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ হয়। নির্বাচকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছি। আসলে যে পরিকল্পনা আছে সেটা বাস্তবায়নের জন্য দেশে ফিরতে হবে।’

সাকিবের পরিকল্পনা দ্রুতই বাস্তবায়ন হোক। তাঁকে মাঠে দেখতে যে সবাই অধীর সবাই।

মন্তব্য পড়ুন 0