বিজ্ঞাপন

তামিমের হাতে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনিং বোলার ব্লেসিং মুজারাবানি ও টেন্ডাই চাতারা মার খাওয়ার পর অলরাউন্ডার লুক জঙ্গুয়েকে আনেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। জঙ্গুয়ের প্রথম বলেই যে তামিম চার মেরে বসেন। কিন্তু জিম্বাবুয়েকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন সেই জঙ্গুয়েই।

এ উইকেটে অবশ্য সিকান্দার রাজার অবদানও কম নয়! তামিমের সজোরে উড়িয়ে মারা স্কয়ার কাটকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ বানান রাজা। ৩৪ বলে ২০ রান করে তামিম আউট হলে ৩৯ রানে ভাঙে তামিম-লিটনের উদ্বোধনী জুটি।

কিন্তু তাতেও তড়িঘড়ি করার মতো কিছু ছিল না। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন ততক্ষণে খেলছিলেন দারুণ। কিন্তু ১৩তম ওভারে এসে কী যেন হলো লিটনের!

যে শটটা প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর খেলার চেষ্টা করেছিলেন, সেটা আজ ২১ রানের সময়ে চেষ্টা করলেন তিনি। রিচার্ড এনগারাভার আগের বলেই অনেক বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাট চালিয়েছিলেন। সে দফা সংযোগ না হলেও পরের বলে পুল করতে গিয়ে লিটন বল তুললেন আকাশে। মিড-অনে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন টেলর, ৪৬ রানে বাংলাদেশ হারাল দ্বিতীয় উইকেট, ফিরলেন দুই ওপেনারই।

default-image

এরপর প্রথম ম্যাচের পর কাল আরেকবার মুশফিকুর রহিমের শুন্যতা টের পেল বাংলাদেশ। চারে নামা মোহাম্মদ মিঠুন ঠিক প্রথম ম্যাচের মতোই বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এলেন। এরপর রান আউট হলেন পাঁচে নামা মোসাদ্দেক হোসেন। মোসাদ্দেক ৯ বলে ৫ রান করে আউট হলে চোখের পলকে ৩৬ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলের রান তখন মাত্র ৭৫!

টপ অর্ডারের ছোট্ট ধসটা থামান সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ। এক-দুই রানের সঙ্গে জিম্বাবুয়ের আলগা কিছু বলের সুবিধা নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন দুই অভিজ্ঞ। ডানহাতি ও বাঁহাতি সমন্বয়ও সাহায্য করে জুটি গড়তে। মনে হচ্ছিল প্রথম ম্যাচের মতো বাংলাদেশ বিপদমুক্ত হবে এই জুটির কল্যাণে। কিন্তু মাঝের ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বোলিং করতে এসেই খেলা পাল্টে দিলেন জিম্বাবুয়ের স্ট্রাইক বোলার মুজারাবানি।

২৯তম ওভারে তাঁর ক্রস-সিমের বাড়তি বাউন্স মেশানো বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। ৩৫ বলে ২৬ রান করে আউট হলে ভাঙে সাকিবের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর ৫৫ রানের জুটি। তখন বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ১৩০ রান।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে রানের গতি কিছুটা কমলেও হাল ছাড়েননি সাকিব। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েন। মিরাজ বাকি ব্যাটসম্যানদের মতো ভুল শটে আউট হন (১৫ বলে ৬)।

default-image

তবে খুব একটা দুশ্চিন্তা করার মতো বিপদ তখনও হয়নি। আগের ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করা আফিফ হোসেন ক্রিজে এসে খেলছিলেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। কিন্তু আফিফের (২৩ বলে ১৫) সঙ্গে সাকিবের জুটিও দীর্ঘ হয়নি। আফিফের শট নির্বাচনের ভুলে ২৮ রানে ভাঙে জুটি। জয় থেকে বাংলাদেশ তখনও ৬৮ রান দূরে। ওভার হাতে আছে আরও ১২টি। কিন্তু উইকেট যে হাতে আর তখন ৩টি!

সেখান থেকে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে সাকিব গড়েন ম্যাচের সেরা জুটি। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৬৪ বলে ৬৯ রান যোগ করেন দুজন। সাকিব ৯৬ রানে ছিলেন অপরাজিত। অপরাজিত ২৮ রানে দারুণ নির্ভরতা আসে সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে। অতটুকুই তো দরকার ছিল সাকিবের! পাশে একজন সঙ্গীর নির্ভরতা পেয়ে অভিজ্ঞতার সবটুকু কাজে লাগিয়ে ম্যাচ বের করে এনেছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার।

শেষ দিকে তাঁর সেঞ্চুরি নিয়ে সম্ভাবনার দোলাচল ছিল। শেষ ওভারে যখন ৩ রান দরকার, সাকিব যখন স্ট্রাইকে, তখনো অঙ্কের হিসাবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মুজারাবানির প্রথম বলেই চার মেরে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা শেষ করে দিলেন সাকিব। দলের জয়টাই যে তাঁর কাছে আগে!

এমন ব্যাটিংয়ের পর সাকিবের ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকারই প্রশ্ন ওঠে না! এর সঙ্গে বোলিংয়ে সাকিবের দুই উইকেট যোগ করে নিন, ম্যাচসেরা আর কে হতে পারতেন!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন