বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: সামনে তো ওয়ানডে সিরিজ। আপনার হাঁটুর চোটের সর্বশেষ অবস্থা কী?

তামিম ইকবাল: দেখুন, এটা এমন একটা চোট যে আগামী তিন-চার বা পাঁচ দিনেই ঠিক হয়ে যাবে না। টেপিং করে, ব্যথাটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই আমাকে খেলতে হবে। খেলার পর আমাদের ফিজিও বা মেডিকেল বিভাগ যে কয়েক সপ্তাহের পরিকল্পনা দেবে, আমাকে সেটা মেনে চলতে হবে।

প্রশ্ন: টেস্ট না খেললেও গত কয়েক দিন নেটে ব্যাটিং করেছেন। কোনো সমস্যা কি বোধ করেছেন তখন?

তামিম: ব্যাটিংয়ে আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে ম্যাচের ব্যাপারটা তো অন্য রকম। ব্যাটিংয়ে, ফিল্ডিংয়ে সেখানে আপনাকে যেকোনো কিছুই করতে হতে পারে। হাঁটুর মোচড় খাওয়াটাই আমার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সব ঠিক আছে।

default-image

প্রশ্ন: মাঠের বাইরে থেকে টেস্ট ম্যাচটা কেমন দেখলেন?

তামিম: খুবই ভালো লেগেছে। ম্যাচে একটা সময়ে আমরা খুব বাজে অবস্থায় ছিলাম। সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াই। বোলিং নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমার মনে হয়েছে, বল হাতে সিনিয়র, জুনিয়র—সবাই চেষ্টা করেছে ভালো কিছু করার জন্য। যে ধরনের উইকেটে খেলা হয়েছে, তাতে জিম্বাবুয়ের ২০ উইকেট নেওয়া খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। স্পিনাররা তো সব সময়ই আমাদের মূল শক্তি। তাসকিনের স্পেল দেখে আমারই অনেক গর্ব হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করার পর যখন কেউ এ রকম ভালো ফল পায়, সেটা খুবই ভালো।

প্রশ্ন: তাসকিনের ৭৫ রানের ইনিংসটা...

তামিম: অসাধারণ! আমি বলব ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংস। ওর ইনিংসটা না হলে পুরো খেলাই অন্য রকম হয়ে যেতে পারত। কোচরা সব সময় বলেন, ব্যাটিংয়ে টেল এন্ডারদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে এই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ওর ৭৫।

default-image

প্রশ্ন: টেস্টের উইকেট যে রকম ব্যাটিংবান্ধব ছিল; মাহমুদউল্লাহ,সাদমান, নাজমুলদের সেঞ্চুরি দেখে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, খেললে তো আপনিও একটা বড় ইনিংস পেতে পারতেন...

তামিম: না, ক্রিকেট একটু অন্য রকম খেলা। আমি খেললে হয়তো ভালো না–ও করতে পারতাম। আবার ভালো করতেও পারতাম। আমি ওভাবে চিন্তা করি না। আমি মনে করি, যে সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়েছে, আমার জন্য এবং দলের জন্য সেটাই সঠিক ছিল।

প্রশ্ন: ওয়ানডে সিরিজের পর আপনার খেলায় হয়তো লম্বা বিরতি পড়বে। চোটের কারণ বিশ্রাম নিতে দলের হয়ে পর পর তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে হয়তো খেলা হবে না। ক্রিকেট কতটা মিস করবেন?

তামিম: দেখুন, মেডিকেল বিভাগের পরামর্শেই যা হওয়ার হবে। তারা কী রিপোর্ট দেবে, তার ওপর নির্ভর করবে আমি আসলে কয়টা সিরিজ বা ম্যাচ মিস করব। আর এই ওয়ানডেগুলো খেলে আমি কী অবস্থায় থাকব, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে এই মুহূর্তে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না।

প্রশ্ন: তার মানে কি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আপনার টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার সম্ভাবনা এখনো বাতিল হয়ে যায়নি?

তামিম: খেলোয়াড় তালিকায় আমার নাম এখনো আছে। তার আগে আমি তিনটি ওয়ানডে খেলব, খেলার পর কী হয় দেখা যাক। আর মেডিকেল বিভাগ তো একটা পরিকল্পনা করেই রেখেছে।

default-image

প্রশ্ন: ওয়ানডে সিরিজে আইসিসির ওয়ানডে সুপার লিগের পয়েন্টের ব্যাপারও থাকবে। লক্ষ্য নিশ্চয়ই থাকবে ৩-০ তে সিরিজ জয়...

তামিম: অবশ্যই। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ম্যাচটা জেতা। হ্যাঁ, সিরিজে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ৩০ পয়েন্ট। এতে দ্বিতীয় চিন্তা করার সুযোগ নেই। তবে জিম্বাবুয়ে টেস্টের তুলনায় ওয়ানডেতে ভালো দল। টেস্ট দলে ছিল না, এমন কিছু ভালো খেলোয়াড় হয়তো ওয়ানডে দলে আসতে পারে। সেটা হলে জয়টা আমাদের জন্য সহজ হবে না। আমরা মাঠে নামব আর জিতে যাব, ব্যাপারটা এ রকম নয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, হারারে উইকেটে সকালে একটু ঝামেলা থাকেই। জিম্বাবুয়েতে আমাদের অতীত রেকর্ডও খুব বলার উপায় নেই। তবে হ্যাঁ, এখানে আমরা আগে যতবারই এসেছি, সে তুলনায় এবারেরটাই সবচেয়ে ভালো দল। দল হিসেবে আমরা এখন অনেক শক্তিশালীও। আমি তো অবশ্যই আশা করি যে আমরা ৩০ পয়েন্টই পাব। তবে তার আগে আপনাকে প্রতিটা মিনিট, প্রতিটা বল, প্রতিটা ম্যাচ ভালো খেলতে হবে।

প্রশ্ন: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ১৬টি ওয়ানডে সাক্ষাতেই বাংলাদেশ জিতেছে। কিন্তু এই ম্যাচগুলো সবই আপনারা খেলেছেন ঘরের মাঠে। জয়ের ধারা ধরে রাখার ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের কন্ডিশন কি কোনো বাধা হতে পারে?

তামিম: ঘরের মাঠে শুধু জিম্বাবুয়ে নয়, যেকোনো দলের বিপক্ষেই আমরা শক্তিশালী। স্পিন বোলিংটা তখন আমাদের সুবিধা হয়ে দাঁড়ায়। এখানে সে সুবিধা না–ও পেতে পারি। টেস্টে যদিও আমাদের স্পিনাররা ভালো বল করেছে, কিন্তু ওয়ানডে তো অনেক অল্প সময়ের খেলা। কাজেই চ্যালেঞ্জিং তো হবেই। অনেকের কাছে মনে হতে পারে, আমরা জিম্বাবুয়েতে সব ম্যাচ সহজে জিতে যাব। কিন্তু আমি বা আমার দলের কেউই বিষয়টা সেভাবে নিচ্ছি না।

প্রশ্ন: দলের কোন বিভাগকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে?

তামিম: ব্যাটিং, বোলিং—দুটোই। বড় রান তাড়া করতে হলে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। আর ম্যাচ জিততে বোলিং তো সব সময়ই একটা ব্যাপার। জিততে হলে ভালো বল করতেই হবে। অনেক সময় মোটামুটি ব্যাটিং করেও ম্যাচ জেতা যায় যদি বোলিং খুব ভালো হয়। এবং অবশ্যই ফিল্ডিং...ফিল্ডিংয়ে ভালো করাটা এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি। এই জায়গাতে গত কয়েকটি সিরিজ ধরেই আমরা সমস্যায় আছি। শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে আমরা ভালো ফিল্ডিং করেছি। শেষ ম্যাচটাতেও যদি কিছু ক্যাচ হাতছাড়া না করতাম, তাহলে ফলাফল অন্য কিছু হতে পারত।

default-image

প্রশ্ন: এখানেও তো টেস্টে কিছু ক্যাচ পড়েছে। ফিল্ডিংয়ে উন্নতি হচ্ছে না কেন?

তামিম: দেখুন, ক্যাচ পড়বেই। আমি যত চেষ্টাই করি, খেলার মধ্যে এটা কম-বেশি হবে। মূল সমস্যা হলো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ পড়া। নিউজিল্যান্ড সফরে যদি দেখে থাকেন বা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে, এমন একটা সময়ে ক্যাচ পড়ল যে তাতে খেলার চিত্রটাই বদলে গেল। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রচুর পরিমাণে পরিশ্রম করতে পারি, প্রচুর পরিমাণে ফিল্ডিং অনুশীলন করতে পারি। কিন্তু সেটা তো প্রতিটা দিন, প্রতিটা সেশনেই করি। ভালো দিক হলো যে, আমরা জানি এটা আমাদের সমস্যা এবং সে অনুযায়ী কাজ করছি। আপনি যখন জেনেও না জানার ভান করবেন, তখনই সমস্যা।

প্রশ্ন: নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর সব মিলিয়ে সাকিব আল হাসান আগের মতো ছন্দে নেই। এটা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা কি আছে?

তামিম: একটা ফোঁটাও দুশ্চিন্তা নেই। সাকিব অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটার। আর ওর ভালো ফর্মে ফেরাটা আমার কাছে মনে হয় মাত্র একটা শট দূরেই আছে। ও একটা ভালো শট খেলবে এবং ছন্দে ফিরে আসবে। এটা সে আগেও অনেকবার করেছে। আমি নিশ্চিত, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও অনেকবার করবে। নেটে অনেক পরিশ্রমও করছে সে। ফর্মে ফেরাটা তার জন্য শুধুই সময়ের ব্যাপার। তার সেরাটা খুব তাড়াতাড়িই আবার দেখা যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: সিরিজে আপনার ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য?


তামিম: (হাসি) সুস্থ থেকে এই তিনটা ম্যাচ খেলা।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন