পাকিস্তানের মাটিতে জানুয়ারিতে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচটি হয়েছে পরিত্যক্ত।
পাকিস্তানের মাটিতে জানুয়ারিতে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলে দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। অন্য ম্যাচটি হয়েছে পরিত্যক্ত। ছবি: এএফপি

এক করোনাভাইরাস কত কত ম্যাচ কেড়ে নিল বাংলাদেশ দলের!

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল, সেটি পিছিয়ে গেল। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির বলে এশিয়া কাপও এবার টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হওয়ার কথা ছিল, আইপিএলকে জায়গা করে দিতে যাওয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যে সেটি কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত আর এল না। মার্চে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর করোনার কারণে বাংলাদেশ কতগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার সুযোগ হারিয়েছে, সে তালিকাও কম লম্বা নয়।

এপ্রিলে পাকিস্তান সফরে ১ টেস্ট ১ ওয়ানডে, মে মাসে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে ৪ টি-টোয়েন্টির সিরিজ, জুনে অস্ট্রেলিয়া দলের ২ টেস্টের জন্য আসার কথা ছিল বাংলাদেশে, জুলাই-আগস্টে ৩ টেস্টের সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের (যে সফর পিছিয়ে এখন হওয়া-না হওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে)। এরপর আগস্টেই নিউজিল্যান্ড দলের ২ টেস্ট খেলতে আসার কথা ছিল বাংলাদেশে, সাকিব-মুশফিকদের আবার অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ৩ টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে যাওয়ার কথা ছিল নিউজিল্যান্ডে। ডিসেম্বরে আবার শ্রীলঙ্কার ৩ ওয়ানডে খেলতে আসার কথা ছিল বাংলাদেশে।

বিজ্ঞাপন

এতগুলো ম্যাচ, সিরিজ, টুর্নামেন্ট। এত সবের মধ্যে টি-টোয়েন্টি গুলো খেলতে না পারার আক্ষেপই হয়তো বাংলাদেশকে বেশি পোড়াবে। বিশ্বকাপ-এশিয়া কাপ হলো না, সিরিজগুলো হলে আরও অন্তত ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পেত বাংলাদেশ। এমনিতেই বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি এখনো খেলতে শেখেনি বলে সমালোচনার শেষ নেই, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ডে তাকালেও অনেক শূন্যতা চোখে পড়ে। ২০২০-এ তো হলো না, ২০২১-এ সাকিব-মুশফিকদের অপেক্ষা কী ঘুচবে?

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ কেমন, সেটির একটা ছবি হতে পারে র‍্যাঙ্কিং। অনেকটা সময় পর্যন্ত আফগানিস্তানের পেছনে থাকা বাংলাদেশ এখন অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বর দল। ম্যাচ ফল দেখেছে—সর্বশেষ এমন দশ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ৫ জয়, ৫ হার হয়তো বলবে, বাংলাদেশ কিছুটা হলেও শিখছে খেলাটা।

তবে যখন শুনবেন, ওই পাঁচ জয়ের চারটিই জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে, একটি মাত্র ভারতের বিপক্ষে, আবার পাঁচ হারের মধ্যে দুটি করে ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে, একটি আফগানিস্তানের বিপক্ষেও—তখন মনে হবে, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ধারাবাহিক হওয়ার আসলে অনেক বাকি। আর স্বীকৃত বড় দলের বিপক্ষে জয়? সে এখনো কালেভদ্রেই পাওয়া হয়।

default-image
এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে একটিও জয় নেই বাংলাদেশের! অথচ এই তিন দলের বিপক্ষে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছে ১৮টি।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের শূন্যতার হিসেব করতে গেলেও বড় দলের বিপক্ষে রেকর্ডেই চোখ যাবে বারবার। এখন পর্যন্ত ৯৬টি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাংলাদেশ এত বছরে যে ৩২টি জয় পেয়েছে, এর মাত্র ১২টিই যে স্বীকৃত বড় দলের বিপক্ষে! সবচেয়ে বেশি ৯টি জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বড় দলের বিপক্ষে জয় বলতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ৪ বার, পাকিস্তানকে ২ বার। বাকি ২০ জয়ের সব আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান, কেনিয়া, নেপালের মতো দলের বিপক্ষে।

জয়ের ঘরে শূন্যতা চোখে পড়ে যখন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে রেকর্ড দেখবেন। এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে একটিও জয় নেই বাংলাদেশের! অথচ এই তিন দলের বিপক্ষে সব মিলিয়ে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছে ১৮টি। জয়ের ঘর শূন্য অবশ্য স্কটল্যান্ড আর হংকংয়ের বিপক্ষেও। তবে এই দেখে স্কটল্যান্ড আর হংকংয়ের নিজেদের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কাতারে ভাবার কিছু নেই। ওই দুটি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ খেলেছেই একটি করে ম্যাচ। প্রতিবেশীদের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকেই সবচেয়ে বেশিবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতকে হারিয়েছে ১ বার, পাকিস্তানকে ২ বার।

default-image
বিজ্ঞাপন

ওহ, আর একটা তথ্য চমক হয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টির রেকর্ডে যেটি অন্য রকম এক শূন্যতা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো টি-টোয়েন্টিই খেলেনি বাংলাদেশ দল! দ্বিপক্ষীয় সিরিজে তো খেলা হয়ইনি, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ ওভারের ক্রিকেটে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। ভাবা যায়!

এই বছরে সূচিতে বাংলাদেশের আর কোনো টি-টোয়েন্টি নেই। করোনাকে পাশ কাটিয়ে ক্রিকেট যখন আবার ফিরবে, সাকিব-মুশফিকেরা হয়তো এই শূন্যতাগুলো দূর করার ব্রত নিয়েই নামবেন মাঠে।

টি–টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ

মন্তব্য পড়ুন 0