টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হলো শরিফুলের।
টেস্ট খেলার স্বপ্ন পূরণ হলো শরিফুলের।ছবি: প্রথম আলো

ছেলে শরিফুল ইসলামের টেস্ট অভিষেক হতে পারে, এ আশায় বাবা দুলাল ইসলাম নিশ্চয়ই আজ সকাল থেকেই টিভির সামনে বসে ছিলেন। এ দিনের জন্যই তো পুরো পরিবারের এত কষ্ট করা! হলোও তা–ই। নিউজিল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর এবার শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট অভিষেক হলো বাঁহাতি পেসার শরিফুলের।

পঞ্চগড়ে একসময় শরিফুলের বাবা ভ্যান চালাতেন। পরিবারের অভাব মেটাতে ২০০১ সালে ঢাকার সাভারে আসেন। রিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগাড় করতেন তিনি। ২০১০ সালে আবার গ্রামে ফিরে যান। বাড়িতে ভিটের বাইরে আলাদা কোনো জমি ছিল না শরিফুলের বাবার। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে শরিফুল মেজ। বড় ভাই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এ রকম পরিবারের সন্তানের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটু বাড়াবাড়িই।

কিন্তু শরিফুল কখনো মেপে স্বপ্ন দেখেননি। আকাশ স্পর্শ করার স্বপ্নই তিনি দেখেছেন। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে আরেক বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখেই তাঁর স্বপ্ন দেখা শুরু। ক্রিকেট খেলতে হবে এবং সেটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে, এ নেশা পেয়ে বসে তখনই। পরের বছর জেএসসি পরীক্ষায় ফেল করলে শরিফুলের মামা তাঁকে দিনাজপুরের এক ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। পড়াশোনায় কিছু না হলেও এরপর শরিফুলের ক্রিকেটে ভাগ্য বদলাতে বেশি সময় লাগেনি।

default-image
বিজ্ঞাপন

৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই বাঁহাতি পেসারের প্রায় সব গুণই আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার। রাজশাহীর কোচ আলমগীর কবির শরিফুলকে কিছুদিন অনুশীলন করানোর পর তাঁকে নিয়ে যান রাজশাহী ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে। এরপর সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাসুদ ও জহুরুল ইসলাম ঢাকার ক্রিকেটে নিয়ে আসেন শরিফুলকে। ২০১৭, ২০১৮ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলেন। ২০১৯ সালে খেলেন বিপিএলে। বয়স পক্ষে থাকায় জায়গা করে নেন বয়সভিত্তিক দলেও। যেই দলের হয়ে ২০১৯ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপও জিতেছেন শরিফুল। শরিফুলই ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী দলের বোলিং আক্রমণের নেতা। বাংলাদেশ ‘এ’ দলে খেলেছেন। বিসিবি একাদশ, ইমার্জিং দলেও খেলে ফেলেন অল্প সময়ে।

তবে ২০১৬ সালের শরিফুল ও ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শরিফুলের মধ্যে পার্থক্য অনেক। শুরুতে রানআপ ও অ্যাকশনে সমস্যা ছিল শরিফুলের। সোজা রেখায় দৌড়ে বোলিং করতে সমস্যা হতো ১৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতির। গত কয়েক বছরে নিজেকে নতুন করে গড়েছেন। ফিটনেসে উন্নতির সঙ্গে গতিও বেড়েছে। যুব বিশ্বকাপ থেকেই ১৪০ কিলোমিটারের আশপাশে বল করছেন শরিফুল।

ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গত বছরের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে। যেখানে অভিজ্ঞ বাঁহাতি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারফর্ম করেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে প্রথম জাতীয় দলে ডাক পান। এরপর দলের সঙ্গে যান নিউজিল্যান্ডে। দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকে দেখান দক্ষতা। এবার টেস্ট ক্রিকেটার শরিফুল কেমন করেন, সেদিকে চোখ থাকবে পুরো বাংলাদেশের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন