দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ এখনো পাওয়া হয়নি ডেভিড ওয়ার্নার-কেন উইলিয়ামসনদের।
দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ এখনো পাওয়া হয়নি ডেভিড ওয়ার্নার-কেন উইলিয়ামসনদের। ছবি : আইপিএল ওয়েবসাইট

গত কয়েক বছর ধরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের পাশাপাশি আইপিএলের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল কারা? প্রশ্নের উত্তরে চাইলেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নাম বলা যায়। ২০১৬ সালে শিরোপা জয়ের পর পরের চার মৌসুমে টানা চারবার প্রথম রাউন্ডের গেরো কাটিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে তারা, একবার উঠেছে ফাইনালেও। কিন্তু তা সত্ত্বেও, দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ এখনো পাওয়া হয়নি ডেভিড ওয়ার্নার-কেন উইলিয়ামসনদের। সেই ব্যর্থতা ঘোচাতে এবার হায়দরাবাদ বদ্ধপরিকর।

হায়দরাবাদই একমাত্র দল, যে দলে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের দুজন প্রতিনিধি খেলে গেছেন। মোস্তাফিজ তো ২০১৬ সালে শিরোপাই জিতিয়েছিলেন দলটাকে, হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান তারকা। ওদিকে সাকিব আল হাসান ঠিক ততটা প্রভাব রাখতে পারেননি দলটায়। এবার হায়দরাবাদে দুজনের কেউই নেই। একজন পাড়ি জমিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে, আরেকজন মাঝের এক মৌসুম মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলে এবার রাজস্থান রয়্যালসে। শিরোপা জয়ের আশায় এভাবেই কিছু খেলোয়াড়কে বিদায় জানিয়েছে হায়দরাবাদ, আবার ভরসা রেখেছে নতুন কিছু খেলোয়াড়ের ওপর।

বিজ্ঞাপন

গতবার হায়দরাবাদের মূল খেলোয়াড় যাঁরা ছিলেন, এবারও ঘুরেফিরে তাঁরাই আছেন। নিলামেও খুব বেশি যে চমক দেখিয়েছে দলটা, তা নয়। তুলনামূলকভাবে কম দামে কয়েকজন খেলোয়াড় দলে টেনে বেঞ্চের শক্তি বাড়িয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, নিজেদের শক্তিমত্তা নিয়ে হায়দরাবাদ নিশ্চিত। স্কোয়াডে খুব বড় পরিবর্তনের দরকার নেই।

প্রায় অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে হায়দরাবাদ কি নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে? দেখে নিন স্কোয়াডের খুঁটিনাটি।

default-image

সম্পূর্ণ স্কোয়াড

ব্যাটসম্যান: ডেভিড ওয়ার্নার, কেন উইলিয়ামসন, জেসন রয়, মনীশ পান্ডে, আবদুল সামাদ, প্রিয়ম গর্গ, বিরাট সিং।

পেসার: ভুবনেশ্বর কুমার, থাঙ্গারাসু নটরাজন, খলিল আহমেদ, সন্দ্বীপ শর্মা, বাসিল থাম্পি, সিদ্ধার্থ কল

স্পিনার: রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, শাহবাজ নাদিম

অলরাউন্ডার: মোহাম্মদ নবী, জেসন হোল্ডার, কেদার যাদব, বিজয় শঙ্কর, অভিষেক শর্মা, জগদীশ সূচিত

উইকেটকিপার: জনি বেয়ারস্টো, ঋদ্ধিমান সাহা, শ্রীবৎস গোস্বামী

বিজ্ঞাপন

শক্তি

মুম্বাই ইন্ডিয়ানস থেকে শুরু করে পাঞ্জাব কিংস, রাজস্থান রয়্যালস থেকে শুরু করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু—আইপিএলের বেশির ভাগ দলেরই শক্তির জায়গা টপ অর্ডারের ব্যাটিং। সানরাইজার্স হায়দরাবাদও এর ব্যতিক্রম নয়। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, জনি বেয়ারস্টো, কেন উইলিয়ামসন, মনীশ পান্ডেদের নিয়ে গড়া টপ অর্ডার নিজেদের দিনে যেকোনো বোলিং আক্রমণকে তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ওয়ার্নার-বেয়ারস্টোর ওপেনিং জুটিকে তো নিঃসন্দেহে গত কয়েক বছরে আইপিএলের সেরা ওপেনিং জুটির খেতাব দিয়ে দেওয়া যায়। এবার এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার মিচেল মার্শের জায়গায় রয়কে এনে ঘুরেফিরে নিজেদের টপ অর্ডারের তেলে মাথায় আরও তেল দিয়েছে হায়দরাবাদ। ফলে কোনো কোনো কারণে ওয়ার্নার-বেয়ারস্টো-উইলিয়ামসনের একজন না খেলতে পারলে, রয় সে ভূমিকা পালন করবেন।

default-image

বলার অপেক্ষা রাখে না, দলটায় বিদেশি খেলোয়াড়ের সংগ্রহ দুর্দান্ত। ওপরের চারজন তো আছেনই, অন্যান্য বিদেশি খেলোয়াড়ের মধ্যে আছেন তিন আফগানি রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও মুজিব উর রহমান; স্পিন বিভাগের শক্তি বাড়ানোর জন্য পাঞ্জাব কিংস থেকে শেষ জনকে আনা হয়েছে। আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার। বোলিং বিভাগেও দলের শক্তি ঈর্ষাজাগানিয়া। শুধু পেস বিভাগেই আছেন ভুবনেশ্বর কুমার থেকে শুরু করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ‘ইয়র্কার কিং’ বলে খ্যাত থাঙ্গারাসু নটরাজন, বিরাট কোহলিকে বারবার আউট করে খ্যাতি কুড়ানো সন্দ্বীপ শর্মা। আছেন খলিল আহমেদ, সিদ্ধার্থ কল ও বাসিল থাম্পি। অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্করও ডানহাতি মিডিয়াম পেসটা বেশ ভালোই করতে পারেন। ডানহাতি, বাঁহাতি, ইয়র্কারে পটু, সুইংয়ে দক্ষ, গতিময় সব ধরনের দেশীয় পেসারই আছেন হায়দরাবাদে, ফলে এবার বিদেশি পেসার একজনকেও দলে নেয়নি।

একই অবস্থা স্পিন বিভাগেও। ডান হাতে লেগ স্পিন করার জন্য রশিদ খান আছেন, একই কাজ মোটামুটি কাজ চালানোর মতো করতে পারেন আবদুল সামাদ। ডান হাতে অফস্পিন করার জন্য দলে আছেন মোহাম্মদ নবী ও মুজিব উর রহমান। নতুন আসা অলরাউন্ডার কেদার যাদবও তা–ই। বাঁহাতি অফস্পিনারের ভূমিকা পালন করার জন্য দলে আছেন অভিজ্ঞ শাহবাজ নাদিম, তরুণ অলরাউন্ডার জগদীশ সূচিত ও অভিষেক শর্মা। অর্থাৎ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যখন যেমন ধরনের বোলিং চান, সেটাই পাচ্ছেন অধিনায়ক ওয়ার্নার।

default-image

দুর্বলতা

কথায় বলে, অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট। কথাটা সানরাইজার্সের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে খুব ভালোভাবে যায়। দলে এতগুলো বিশ্বমানের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, কাকে কোন পজিশনে খেলানো হবে, এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঝামেলায় পড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। গত মৌসুমে যে সমস্যাটা চোখে পড়েছিল বেশ ভালোভাবে। যে কারণে বেশ কয়েক ম্যাচে সুযোগ পাননি নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক উইলিয়ামসন।

দলে বিদেশির আধিক্যও অনেক সময় মধুর সমস্যায় ফেলে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। ওয়ার্নার, উইলিয়ামসন, বেয়ারস্টো আর রশিদকেই বেশির ভাগ সময় মূল একাদশে খেলায় ফ্র্যাঞ্চাইজিটা, ফলে টপ অর্ডারের শক্তি বাড়লেও মিডল অর্ডারে খেলানোর জন্য কোনো বিদেশিকে একাদশে সেভাবে নিতে পারে, স্কোয়াডে মোহাম্মদ নবী কিংবা জেসন হোল্ডারের মতো মিডল অর্ডারে ঝড় তোলার মতো অলরাউন্ডার থাকা সত্ত্বেও। ফলে দেখা যায়, ইনিংসের শেষ দিকে এসে মিডল অর্ডারের দায়িত্ব পালন করার জন্য আনকোরা দেশীয় প্রতিভাদের ওপর ভরসা করতে হয়। যে দায়িত্ব গত বছর ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন প্রিয়ম গর্গ, অভিষেক শর্মা, আবদুল সামাদের মতো প্রতিভাবান কিন্তু অনভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানেরা।

বিজ্ঞাপন
default-image

দলে ফিনিশারের অভাবও বেশ ভুগিয়েছে হায়দরাবাদকে। দলে অভিজ্ঞ কোনো ফিনিশার নেই। এর আগে এই দায়িত্ব বিজয় শঙ্করকে দেওয়া হলেও তেমন লাভ হয়নি। ফলে এবার চেন্নাই সুপার কিংস থেকে নিয়ে আসা হয়েছে অলরাউন্ডার কেদার যাদবকে। ভারতের হয়ে গত বিশ্বকাপ খেললেও এই যাদব এখন জাতীয় দল থেকে বেশ দূরে। হায়দরাবাদের হয়ে নিজেকে প্রমাণ করে বছরের শেষে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার একটা শেষ চেষ্টা অবশ্যই করবেন এই অলরাউন্ডার।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন