সূর্যের ‘আক্রমণ’

আক্রমণ—শব্দটা বেমানান। কিন্তু সূর্যরশ্মি সরাসরি চোখের ওপর পড়লে তখন সেটাকে ‘আক্রমণ’ মনে হতেই পারে কারও। আলোয় ধাঁধিয়ে যাওয়া চোখে যে কিছু দেখা যায় না! নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড–ভারত প্রথম ওয়ানডেতে এমন এক ঘটনাতেই খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অথচ ক্রিকেট ম্যাচ তো প্রার্থনা করে প্রখর সূর্যালোকেরই। কিন্তু সেদিন ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ানের ব্যতিক্রমী এক অভিজ্ঞতা হয়। সূর্যের আলো সরাসরি চোখে পড়ায় দেখতে সমস্যা হচ্ছিল, ক্রিজে দাঁড়াতে পারছিলেন না। এ কারণে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়। প্রায় আধ ঘণ্টার মতো বন্ধ ছিল খেলা। সে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার শন জর্জ পরে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানকে বলেছিলেন, ‘আম্পায়ার হিসেবে এই ১৫ বছরে এমন কিছু এর আগে কখনো দেখিনি। তবে সবকিছুরই তো প্রথমবার থাকে।’

নেপিয়ারে সূর্যের আলোয় খেলা বন্ধ হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রথম নয়। সেই ম্যাচের কয়েক দিন আগেই নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে একই মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস ও ক্যান্টারবুরি। সূর্যের আলো সরাসরি চোখে পড়ায় সেই ম্যাচও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া লন্ডন অলিম্পিক স্টেডিয়ামকে আইসিসি বিশ্বকাপের ভেন্যু তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল এই সূর্যেরই ভেলকির কারণে। সেখানে সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় উইকেটের এক প্রান্তে ব্যাট করতে সমস্যা হয়। খেলোয়াড় ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সমস্যার কারণে বাদ পড়ে অলিম্পিক স্টেডিয়াম।

আগুন!

জয়ের জন্য দরকার ১৮ রান। এমন সময় ব্যাটিং রেখে ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয় নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাটসম্যানদের। কারণ, আগুন লাগার অ্যালার্ম বেজে উঠেছে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার মাঠে। পরে জানা গেল, নিউ সাউথ ওয়েলসেরই এক খেলোয়াড় টোস্ট বানাতে গিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলেন, তাতে অ্যালার্ম বেজে ওঠায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলে আসে। ২০১৭ সালের সেই ম্যাচটা পরে ৬ উইকেটে জিতে নেয় নিউ সাউথ ওয়েলস। ওহ্‌, খেলোয়াড়ের নাম—অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা অফ স্পিনার নাথান লায়ন!

২২ গজের বুকে গাড়ি

২০১৭ সালে রঞ্জি ট্রফিতে দিল্লি–উত্তর প্রদেশ ম্যাচ চলছিল। এক বেরসিক চালক মাঠের মধ্যে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন। শুধু কি তাই, পিচও মাড়িয়ে দেন। খেলোয়াড়–আম্পায়াররা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেও পারেননি। গাড়ি নিয়ে উইকেটের ওপর কয়েকবার মোড়ও নেন সেই চালক। নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে পরে বলেন, কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না দেখায় তিনি মাঠে ঢুকে পড়েন। গাড়ি চালাতে চালাতে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন! অবশ্য এ ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ম্যাচ রেফারিও উইকেট দেখে ‘খেলার যোগ্য’ বলে রায় দেন।

default-image

খাবার আসতে দেরি

ব্লুমফন্টেইনে ২০১৭ সালের টেস্টে সে ঘটনায় জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ দলের নাম। মধ্যাহ্নভোজনের সময় খাবার দিতে দেরি হয়। আলাদা দুটি ক্যাটারিং সার্ভিসের ওপর দুটি দলের খাবার তৈরির দায়িত্ব ছিল। কারণ, বাংলাদেশ দল চাইছিল হালাল খাবার পরে জানা যায়, ক্যাটারিং সার্ভিস বাংলাদেশ দলের খাবারের ভুল মেনু পাওয়ায় দেরি হয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়। তবে এতে বাংলাদেশের বোলারদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। মাত্র একটি উইকেট নিয়ে প্রথম দুই সেশনে ২৫৬ রান দেন বোলাররা।

শজারুর কাঁটা

গ্লস্টারে ১৯৫৭ সালের জুলাইয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে মুখোমুখি হয় ডার্বিশায়ার ও গ্লস্টারশায়ার। সেই ম্যাচে মাঠে ঢুকে যায় একটা শজারু। খেলোয়াড়েরা জুতা দিয়ে গুঁতাগুঁতি করেও সেই খুদে অনুপ্রবেশকারীকে মাঠ থেকে বের করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ডার্বিশায়ারের উইকেটকিপার জর্জ ডকস শজারুটিকে মাঠের বাইরে পাঠাতে সমর্থ হন। হাতে কিপিং–গ্লাভস থাকায় শজারুর কাঁটায় সমস্যা হয়নি ডকসের।

সাপ!

২০০৯ সালে সিডনির ব্ল্যাকটাউনে অনূর্ধ্ব–১৭ দলের খেলোয়াড়েরা মিলে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। হঠাৎ করেই মাঠে একটি বিষাক্ত সাপ ঢুকে পড়ে। ফিল্ডারদের আতঙ্কিত করার পর উইকেট পরিদর্শনেও চলে যায়। খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ২০ মিনিট। অস্ট্রেলিয়াতেই কয়েক বছর আগে আরও একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল। এক ম্যাচে বোলার বল ছাড়ার সময় ব্যাটসম্যান একটি সাপ দেখতে পান। ক্রিজ থেকে বেরিয়ে তাঁকে মারতে গিয়েও সফলও হন তিনি। কিন্তু বোলার যেহেতু বল করেছেন, তাই স্টাম্পড হয়েছেন কি না, তা দেখতে পেছনে ঘুরতেই দেখেন উইকেটকিপার সাপের ভয়ে চম্পট দিয়েছেন!

ইঁদুর

১৯৫৭ সালে ক্যান্টারবুরিতে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ চলছিল। হুট করে এক পোষা ইঁদুর মাঠে ঢুকে পড়ে। ইঁদুরের মালিকও দৌড়াতে দৌড়াতে মাঠে ঢুকে পড়েন। ইঁদুরটিকে হ্যাট দিয়ে তুলে নেন তিনি। ১৯৬২ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড–পাকিস্তান টেস্টেও এক ইঁদুরের কারণে খেলায় বিঘ্ন ঘটেছিল। মাঠে ঢুকে পড়া সেই ইঁদুরকে তাড়া করেছিল লর্ডসের প্রয়াত সেই বিখ্যাত বিড়াল পিটার—একমাত্র প্রাণী, যার শোকগাথা লেখা হয়েছে উইজডেনে।

সূর্যগ্রহণ

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৯৮০ সালে মুম্বাইয়ে ভারত–ইংল্যান্ড বিশেষ টেস্টটির নাম ছিল জুবিলি টেস্ট। ওই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হওয়ায় ম্যাচে বিশ্রামের দিনেও (রেস্ট ডে) খেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনে ৫৮ রানে ৬ উইকেট নেন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার ইয়ান বোথাম। পরের দিন বিশ্রাম নিয়ে তৃতীয় দিনে শতক ও আরও সাতটি উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দেন ১০ উইকেটে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন