default-image
>

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে হারের জন্য হতাশাজনক ব্যাটিংকে দুষলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচ। তামিম ইকবালের খানিকটা ‘নার্ভাস’ থাকাই স্বাভাবিক। কাল মাঠে ফিল্ডিংয়েও সময় বাংলাদেশ অধিনায়কের শরীরী ভাষা পড়ে অনেকের এমন মনে হতে পারে। বারবার বোলারদের কাছে দৌড়ে যাচ্ছেন, কিছু একটা বলছেন। দুই-এক ওভার পরপরই সিনিয়রদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করছেন। অতিরিক্ত সাবধানতা থেকে এমন হতেই পারে। আবার ম্যাচ শেষে অনেকের মনে হতে পারে, ফিল্ডিংয়ে অধিনায়ক তামিমের এই সাবধানি মনোভাব ব্যাটিংয়ের সময় বাকিরা যদি একটু দেখাতেন, একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলতেন। তাহলে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত, তামিম নিজে অন্তত তাই মনে করছেন।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডের স্কোরকার্ড দেখলে মনে হবে, বাংলাদেশ পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেছে। প্রতিপক্ষের ঝুলিতে তিন শ প্লাস স্কোর। তাড়া করতে নেমে ৯১ রানের হার। আর এই তাড়ার শুরুটা ছিল পুরোনো দিনগুলোর মতো। ৫০ না ৪০ রান তোলার আগেই টপ অর্ডার নেই! ছিলেন শুধু মুশফিকুর রহিম। পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও সাব্বির রহমানের ১১১ রানের জুটি বাংলাদেশকে আশ্চর্য পতন থেকে রক্ষা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫০ ওভারও খেলতে পারেনি। গুটিয়ে গেছে ৫০ বল হাতে রেখেই।

তিন শর বেশি রান তাড়া করে জেতা বাংলাদেশের জন্য এখন খুব কঠিন কিছু হওয়ার কথা না। বিশ্বকাপেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন শর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু কাল তার কাছাকাছি স্কোর তাড়া করতে নেমে মুশফিক-সাব্বিরের জুটি ছাড়া সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে তামিমের খানিকটা হতাশ হওয়ারই কথা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে কথাই বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘তাড়া করে জয়ের বিশ্বাসটা ছিল। কিন্তু হতাশাজনক ব্যাটিং করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হতাশাজনক ব্যাটিং।’

তিন ম্যাচের এ সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ। হাতে এখনো দুই ম্যাচ থাকায় সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে তামিম-মাহমুদউল্লাহদের হাতে। সে জন্য ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলার কথা বললেন তামিম, ‘আমরা সিরিজে এখনো টিকে আছি। শুধু আবার একতাবদ্ধ হতে হবে আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ সিরিজে আপনি কিছু করতে চাইলে দায়িত্ব নিতে হবে। ভালো শুরু পেয়ে ৫০, ৬০ ও ৭০ রানে ব্যাট করলে স্কোর বড় করতে হবে।’ কালকের ম্যাচটা দেখে থাকলে তামিমের এ মন্তব্যে সাব্বিরকে মনে পড়বেই।

কী দুর্দান্ত ব্যাট করছিলেন সাব্বির। ‘আত্মঘাতী’ আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলেন ভীষণ স্বচ্ছন্দ ও সহজাত আক্রমণাত্মক। ২৯তম ওভারে তিনি যখন আউট হলেন, বাংলাদেশ কেবল অর্ধেকটা পথ পেরিয়েছে। আর সাব্বির ব্যাট করছিলেন ৬০ রানে। অমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট থেকে বেরিয়ে এসে ধনঞ্জয়া সিলভাকে জোর করে মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন সাব্বির। সরাসরি তাঁকে না দুষলেও ম্যাচের ওই মুহূর্তটা তামিম ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘মাঝে ব্যাটসম্যান থাকলে আমরা হয়তো শেষ ১০ ওভারে ৭০/৮০ রানও তাড়া করতে পারতাম। কিন্তু আমরাই নিজেদের এ সুযোগটা দিইনি। মুশফিক-সাব্বিরের জুটিই ছিল চাবিকাঠি। কিন্তু সাব্বির ভুল সময়ে আউট হয়েছে।’

বোলিং নিয়ে খেদ নেই তামিমের। মোস্তাফিজুর রহমান ও শফিউল ইসলাম ভালো বোলিং করেছে বলেই মনে করেন তিনি। ব্যাটিং নিয়ে হতাশার কথা বলতে গিয়ে সমাধানের পথটাও বলে দিলেন তামিম, ‘আমার কাছে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, যখন একটি জুটি হচ্ছে, যদি দেখেন ওয়ানডেতে যাঁরা সেরা ব্যাটসম্যান আছেন, তাঁরা কিন্তু খেলাটা শেষ করার চেষ্টা করেন। আমাদের শুরুটা আজ ভালো ছিল না, কিন্তু তারপরও আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, ওই জুটিটা (সাব্বির-মুশফিক) যদি আরও ৬০/৭০ রান যোগ করতে পারত, তাহলে খেলাটা অন্য রকমও হতে পারত। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো উইকেটে যে–ই যাক, বড় স্কোর গড়ার চেষ্টা করতে হবে।’

কাল কলম্বোয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0