default-image

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা মুখোমুখি হয়েছে মোট দুবার। দুবারই হেরেছে বাংলাদেশ। সাত বছর পর টি-টোয়েন্টিতে আবার প্রোটিয়াদের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এবার কী পরিসংখ্যানে বদল আনতে পারবে বাংলাদেশ? প্রতিপক্ষ যখন দক্ষিণ আফ্রিকা, অধিনায়ক হাঁটছেন সতর্ক হয়েই। পরিসংখ্যান সরিয়ে রেখে মাশরাফি জানালেন, বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় পুঁজি সাহস।

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—সব দিক দিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা ভারসাম্যপূর্ণ এক দল। দলে আছে এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফ্যাফ ডু প্লেসি, ডেভিড মিলারের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান। ক্রিকেটের এ ছোট সংস্করণে বাংলাদেশ দলে সাকিব আল হাসান বাদে নেই বড় কোনো নাম। তবে মাশরাফি জানালেন, বাংলাদেশ দলের বড় সম্বল সাহস, ‘ওদের ব্যাটিং,বোলিং, ফিল্ডিং—সব বিভাগই ভালো। ফিল্ডিংয়েই ১৫-২০ রান আটকাতে পারে। বোলিংও অসাধারণ। ব্যাটিংয়ে দুই-তিনজন আলাদা ধরনের খেলোয়াড় আছে, যারা একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। এসব জায়গায় তারা কিছুটা এগিয়ে। আমাদের দলে হয়তো ওরকম টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার নেই। কিন্তু আমরা যদি দল হিসেবে ভালো খেলতে পারি এবং যে ধারাবাহিকতায় খেলছি সেটা যদি ধরে রাখতে পারি, ভালো কিছুই হবে। আমাদের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে, সাহস নিয়ে খেলতে পারা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হচ্ছে সাহস নিয়ে খেলা।’
সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। গত আট মাসে ১১ ওয়ানডের ১০টিই জিতেছে বাংলাদেশ। জিতেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখতে পারে বাংলাদেশ? মাশরাফি অবশ্য অতীতে নয়, পা রাখতে চান বর্তমানেই, ‘আসলে অতীত খুব একটা সাহায্য করে না। শেষ আমরা যে সিরিজটা জিতেছি, সেটা এখন খুব একটা কাজে লাগবে না। নির্দিষ্ট দিনে আমাদের শুরু ও শেষ ভালো করতে হবে। দল এখন ভালো করছে। আর যে দল ভালো করে, তাদের আত্মবিশ্বাসও উঁচুতে থাকে।’
এমনিতে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ৪২ ম্যাচে জিতেছে মাত্র ১২টি। এর জন্য অনভিজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন মাশরাফি, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। টি-টোয়েন্টি আমরা খুব কম খেলি। আমাদের মাত্র একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, যে সারা বিশ্বে টি-টোয়েন্টি খেলে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ৮-১০ ক্রিকেটার আছে যারা নিয়মিত সারা বিশ্বে খেলছে। তাদের দারুণ কিছু তরুণ ক্রিকেটারও আছে। তবে এসব শুধুই পরিসংখ্যান। মাঠে আমরা যদি ভালো খেলতে পারি, তবে ভিন্ন কিছুই হবে।’
পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যতই পার্থক্য থাকুক না কেন দিন শেষে বাংলাদেশ অধিনায়কের আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাচ্ছে গত কমাসের পারফরম্যান্সই, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তবে যেহেতু আমরা দল হিসেবে নামব, আমাদের শক্তি নিয়ে চিন্তা করাই ভালো। তাদের সঙ্গে খেলা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। ওদের আত্মবিশ্বাসও অনেক উঁচুতে। তবে আমরা আমাদের খেলা নিয়ে চিন্তা করছি। যেভাবে শেষ কয়েকটা সিরিজ খেলে এসেছি, সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে ভালো খেলার চেষ্টা করব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0