ধোনির নেতৃত্বে আইপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল চেন্নাই
ধোনির নেতৃত্বে আইপিএলে জয় দিয়ে শুরু করল চেন্নাইছবি: টুইটার

বড় বিপদেই পড়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। ১০ জন খেলোয়াড় কোভিড-১৯ পজিটিভ। এতে অনুশীলন শুরু করতে হয় দেরিতে। এর মধ্যে আবার চলে গেলেন হরভজন সিং ও সুরেশ রায়না। কিন্তু কাল আইপিএলের প্রথম ম্যাচে চেন্নাইয়ের খেলায় এসবের কোনো প্রভাব টের পাওয়া গেল? জয় দিয়েই আইপিএল শুরু করেছে চেন্নাই। ক্রিকইনফোর পরিসংখ্যানবিদ ভারত সিরভি তাই টুইট করেছেন, ‘ধোনি থাকলে চেন্নাইয়ের জন্য কিছুই অসম্ভব না।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর কাল প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ধোনি। এর মধ্যে কেটে গেছে ৪৩৭ দিন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ তো আছেই। ঠিকমতো অনুশীলন পর্যন্ত করতে পারেননি ক্রিকেটাররা। অথচ ধোনির নেতৃত্বে কাল চেন্নাই কী গোছানো ক্রিকেট-টা খেলল! মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে ঠান্ডা মাথার জয় আর কি। মাঠে ধোনি বরাবরই এমন। তবে কাল ধোনিকে দেখে কিন্তু অনেকেই একটু অবাক হয়েছেন। ধোনির পাক ধরা দাঁড়ি গত বিশ্বকাপ থেকেই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু কাল দেখা গেল কুচকুচে কালো দাঁড়ি। কাটাও হয়েছে একটু অন্য রকমভাবে। পুরোপুরি ফ্রেঞ্চ কাট বলা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর এই নতুন ‘লুক’-এর সঙ্গে তামিল ভাষার সিনেমা ‘সিংহাম’ এর মূল চরিত্রের মিল খুঁজে পেয়েছেন। সে যাই হোক, কুচকুচে কালো দাড়িতে ধোনির ৩৯ বছর বয়স বেশ কমলেও চেন্নাই কিন্তু মোটামুটি ‘বুড়ো’দেরই দল।

default-image
বিজ্ঞাপন

ভ্রুকুটির কিছু নেই। ২০১৮ আইপিএল থেকে এমন কথা উঠছে। অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজাচ্ছে আইপিএলে অন্যতম সবচেয়ে সফল দলটি। তরুণের খেলা টি-টোয়েন্টিতে তারা বুড়োদের খেলাচ্ছে—এ পুরোনো অভিযোগ। মজার বিষয় হলো, দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর ২০১৮ সালে তথাকথিত ‘বুড়ো’দের নিয়েই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। চেন্নাইয়ের দলটার দিকে একটু তাকানো যাক। ধোনি, শেন ওয়াটসনরা তো অবসরই নিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। ফাফ ডু প্লেসি, কেদার যাদব, ইমরান তাহির, অম্বতি রাইড়ু, পিউস চাওলা, ডোয়াইন ব্রাভোরাও কিন্তু ত্রিশের আশপাশে। কিন্তু অভিজ্ঞতার যে কত দাম তা কালও বুঝিয়েছেন ডু প্লেসি-রাইড়ু। তাদের ১১৫ রানের জুটি জিতিয়েছে চেন্নাইকে।

দলটির অধিনায়ক ধোনি মনে করেন, দলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া ক্রিকেটার রাখারও প্রয়োজন আছে। কাল মুম্বাইকে হারানোর পর তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমাদের বেশির ভাগই অবসর নেওয়া ক্রিকেটার। সৌভাগ্যবশত কোনো চোটও নেই। সবাই তো বলছে অভিজ্ঞতা কাজে লাগছে। অনেক ম্যাচ খেলার পরই এটা অর্জন করা সম্ভব। ৩০০ ওয়ানডে খেলা যে কারও জন্যই স্বপ্ন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে দল সাজাতে হয়। তরুণদের পথ দেখাতে অভিজ্ঞদের দরকার হয়।’

কাল ধোনির ক্রিকেট-মস্তিষ্কের প্রশংসাও করলেন তাঁর সতীর্থ ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কুরান। তাঁকে ও রবীন্দ্র জাদেজাকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলেছেন ধোনি। এতে কুরান ৬ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলে চেন্নাইকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান। কুরান, ‘সত্যি বলতে ছয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ভীষণ অবাক হয়েছিল। সে (ধোনি) অসাধারণ। নিশ্চয়ই কিছু একটা ভেবে রেখেছিল। আমার ধারণা সে ডান হাতি-বাঁ হাতি সমন্বয়ের কথা ভেবেছিল।’ ম্যাচ শেষে ধোনিও কথা বলেছেন এ নিয়ে, ‘ওদের আগে পাঠানোর কথা ভেবেছিলাম কারণ প্রতিপক্ষ দলে তখনো দুজন স্পিনার বল করতে পারত। আমরা বোলারদের ওপর প্রভাব খেটেছি। এটা স্রেফ মানসিক কৌশল। ব্যাটিং লাইনআপ যেহেতু গভীর তাই ওদের আগে পাঠিয়ে দ্রুত রাত তুলতে চেয়েছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0