default-image

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আজ দর্শকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু যে অল্প সংখ্যক দর্শক আজ মাঠে ছিলেন, তাঁরা নিজেদের ধন্য মনে করতেই পারেন। তাঁরা ধন্য দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং দেখে। তাঁর ব্যাট থেকে যে এসেছে ৬৬ বলে ১৬২ রানের অবিস্মরণীয় এক ইনিংস। ইনিংসটিকে কী দানবীয় বলবেন? সেটার উপায় নেই। কারণ দানবীয় কোনো কিছুই তাঁর ইনিংসটিতে ছিল না। মার-মার কাট-কাট ছিল, সেটা তো থাকতেই হবে। কিন্তু প্রতিটি শট এতটা ব্যাকরণ মেনে খেলা, তাই ‘দানবীয়’ শব্দটি এখানে খুব মানানসই হচ্ছে না। ডি ভিলিয়ার্সের ইনিংসটিকে বরং অভিহিত করা যায় ‘শিল্পিত-তাণ্ডব’ হিসেবে। ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা আজ মাঠে থেকেই শিকার হলেন সেই তাণ্ডবের। এমন পরিশীলিত কায়দায় যে তাণ্ডব চালানো যায়, আজ এবি ডি ভিলিয়ার্স সেটাই যেন সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। তাঁর এই অনন্য ইনিংসের ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪০৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা—যা বিশ্বকাপে দলটির সেরা সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও যেকোনো দলেরই এটি সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে সিডনির ব্যাটিং উইকেটের সুবিধাটা পুরোপুরিই আদায় করে নেয় প্রোটিয়ারা। তবে সেটা প্রথম উইকেট পতনের পরপরই। দলীয় ১৮ রানের মাথায় প্রথম উইকেট পতনের পরপরই যেন জ্বলে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাশিম আমলা আর ফ্যাফ ডু প্লেসি তোলেন ১২৭ রান। এটি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দ্বিতীয় উইকেট জুটি। আমলা আর প্লেসির জুটিটি গড়ে দেয় প্রোটিয়াদের বড় সংগ্রহরে ভিত। ডি ভিলিয়ার্স সেই তৈরি ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই ব্যাটিং-তাণ্ডবে দলকে নিয়ে যান দুর্দান্ত এক সংগ্রহের পথে। ​আমলার ব্যাট থেকে আসে ৬৫। প্লেসি করেন ৬২। আমলাকে এলবির ফাঁদে ফেলেন ক্রিস গেইল। গেইলের বলেই উইকেটরক্ষক দিনেশ রামদিনের চমৎ​কার এক ক্যাচে পরিণত হন প্লেসি।

রাইলি রুশোও কম যাননি। তাঁর ৬১ রান খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফেরা আমলা আর প্লেসির শূন্যতাটা পূরণ করে বেশ ভালোভাবেই। এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে রুশো চতুর্থ উইকেট জুটিতে যোগ করেন আরও ১৩৪ রান। রুশোর ফিরে যাওয়ার পরপরই যেন নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সিডনির মাঠে ‘সেঞ্চুরিয়ন’ ফিরিয়ে আনেন ডি ভিলিয়ার্স।
অল্পের জন্য বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি করতে পারেননি ডি ভিলিয়ার্স। ৫২ বলে আসা তাঁর সেঞ্চুরিতে বেঁচে গেল আইরিশ ব্যাটসম্যান কেভিন ও’ব্রায়েনের ৫০ বলে করা শতরানের ইনিংসটি। তবে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি না পেলেও তিনি করেছেন ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সার্ধশত রানের ইনিংস। ৫২ বলে শতক ছোঁয়ার পর তিনি তাঁর ইনিংসের বাকি অংশটি খেলেছেন মাত্র ১২ বলে! তাঁর ইনিংসে খেলা বলের সংখ্যা মাত্র ৬৬টি। নামের পাশে জ্বল জ্বল করছে ১৬২ রানের এক ব্যক্তিগত সংগ্রহ। একজন ব্যাটসম্যান এমন ইনিংস খেলে ফেললে দলীয় সংগ্রহটা যেখানে যাওয়ার কথা, আজকের ​স্কোরটাকে ঠিক সেখানেই দেখছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই দ্বিতীয় চারশ পেরোনো স্কোর। ২০০৭ সালে বারমুডার বিপক্ষে ভারতের সংগৃহীত সংগ্রহটি এত দিনে একজন সঙ্গী পেল। ইনিংসের ৪৭তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে তিনি করছেন ‘চূড়ান্ত অপমান’ এক ওভারে ৩৪ রান তোলাকে ‘অপমান’ ছাড়া আর কী অভিধাই বা দেওয়া যায়। ‘অপমান’ গায়ে না মেখে হোল্ডার আবারও যান ইনিংসের শেষ ওভার করতে। এই যাত্রায় তাঁর ছয়টি বল থেকে ভিলিয়ার্স তোলেন ৩০ রান। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ৩০ ওভারের সংগ্রহকে ‘ডাবল’ করার কথা বলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা আজ ডাবলের বদলে ট্রিপলই করেছে নিজেদের ৩০ ওভারে সংগ্রহকে। ইনিংসের ৩০তম ওভার শেষে যেখানে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ছিল ১৪৭। ৫০ ওভার শেষে সেই সংগ্রহই ৪০৮!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবাই ছিলেন দারুণ খরচে। আজ খরচে না হয়ে বোধ হয় তাঁদের কোনো উপায়ই ছিল না। হোল্ডার ১০ ওভারে দিয়েছেন ১০৪ রান। গেইল আর আন্দ্রে রাসেল নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন