default-image
>ক্রিস গেইলের ফিফটিতে খুলনা টাইটানসকে ৬ উইকেটে হারাল রংপুর রাইডার্স

সূর্যটা ডোবেনি বলে লাইনটি লেখা যাচ্ছে না। না হলে ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’—কথাটা বলার সব ব্যবস্থাই করেছিলেন ক্রিস গেইল। জয়ের জন্য ১৮২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে গেইল ২৯ বলে ২৯! জয়ের জন্য তখন ২৪ বলে ৪৩ রানের দূরত্বে রংপুর রাইডার্স। এতক্ষণ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে থাকা গেইল ফেটে পড়লেন পরের ওভারেই। জমজমাট হয়ে ওঠা ম্যাচটি তাই ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল ১৭তম ওভার শেষেই। এক ওভারে গেইলের তিন ছক্কায় ম্যাচটা যে তখন রংপুরের হাতের মুঠোয়!

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় স্কোর (৬ উইকেটে ১৮১) পেয়েছিল খুলনা টাইটানস। দলটির ভক্তদের আশা ছিল টানা দুই ম্যাচ হারের পর আবারও জয়ের ধারায় ফিরবে তাঁদের প্রিয় দল। রংপুর রাইডার্সের দুই ওপেনার মিলে তা হতে দেননি। অষ্টম ওভারের মধ্যে তাঁরা লিখে ফেলেছিলেন ম্যাচের ভাগ্য।

ক্রিস গেইল ও অ্যালেক্স হেলস। এমন দুই বিস্ফোরক ওপেনার থাকলে যে কোনো লক্ষ্যই তাড়া করতে নামা যায়। হেলস ও গেইল এবার বিপিএলে কোনো ম্যাচেই সেভাবে রান পাননি। ইংলিশ ওপেনার হেলস যেন এ ম্যাচেই খিদেটা মিটিয়ে নিতে চাইলেন! ৩ ছক্কা ও ৮ চারে ২৯ বলে খেলেছেন ৫৫ রানের ইনিংস। ৭.৪ ওভারে ইয়াসির শাহর বলে হেলস যখন ফিরছেন রংপুরের স্কোর তখন ১ উইকেটে ৭৮। গেইল তখন ১৭ বলে ২৩।

হেলস ঝড় তোলার সময় ক্যারিবিয় ‘দানব’ বেশ শান্তই ছিলেন। তিনে এবি ডি ভিলিয়ার্স নামায় গেইলের ওপর অতটা চাপ ছিল না। ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৪১ রানের সময়োপযোগী এক ইনিংস খেলেছেন ডি ভিলিয়ার্স। ১৩তম ওভারে খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে এই প্রোটিয়া যখন ফিরলেন জয় থেকে তখন খুলনা ৪৭ বলে ৬১ রানের দূরত্বে। গেইল উইকেটে থাকায় রংপুরের তেমন একটা ভাবনা ছিল না। যদিও বিপিএলে এবার এখনো বড় রান পাননি এই ক্যারিবিয়। কিন্তু আজ টিকে যাওয়ায় খুলনার বোলারদের মনে ভয় ছিল-ই, ক্যারিবিয় ঝড়টা বুঝি উঠবে আজই!

ঝড় উঠল ঠিকই, তবে সেটি ঠিক গেইলসুলভ নয়। পুরো ইনিংসজুড়ে ধুন্ধুমার ব্যাটিং নয়। বরং হাত খুলেছেন দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে। সেটি ওই ১৭তম ওভারে। খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ওই ওভারে তিন ছক্কায় ২০ রান তুলেছেন গেইল। এর মধ্যে মোহাম্মদ মিঠুনের অবদান মাত্র ১ রান! ১৭তম ওভার শেষে রংপুর তখন ১৮ বলে মাত্র ২৩ রানের দূরত্বে। পরের ওভারে এবার বিপিএলে নিজের প্রথম ফিফটিও তুলে নেন গেইল।১৯তম ওভারে জুনায়েদ খানকে ছক্কা মারতে গিয়ে ম্যাচটা তিনি শেষ করে আসতে পারেননি। ৫ ছক্কা ও ২ চারে ৪০ বলে ফিরেছেন ৫৫ রান করে। রংপুর তখন ৯ বল হাতে রেখে জয় থেকে ১১ রানে পিছিয়ে।

গেইল দলের জয়ের ভিত গড়ে দিলেও বিপদ এসেছিল তারপরও। শেষ ওভারে ৬ রান দরকার ছিল রংপুরের। ইয়াসির শাহর প্রথম বলেই স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন মিঠুন (১৫)। রাইলি রুশো তৃতীয় বলে ছক্কা মেরে রংপুরকে জয় এনে দেন ৬ উইকেটের জয়।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন