বিজ্ঞাপন

পিডককের কোচ কার্ট বোগার্টস তখন তাঁর শিষ্যকে ‘ভাগ্যবান’ বলেছিলেন। কারণ, দুর্ঘটনার সময় পিডককের সাইকেলে বেশ ভালো গতি ছিল। গাড়ির ধাক্বায় ‘উড়ে গিয়ে অন্য পাশে’ পড়লেও প্রাণে বেঁচে যান।

কিন্তু কথায় আছে, ভাগ্য সাহসীদের পাশে দাঁড়ায়। সেই দুর্ঘটনার পর দুই মাসের কম সময়ের ব্যবধানে পিডকক অংশ নেন টোকিও অলিম্পিকে। না, পিডকক শুধু অংশ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি, তিনি অন্য ধাতে গড়া মানুষ। আজ ছেলেদের মাউন্টেন বাইক রেসে ইতিহাস গড়ে পিডকক যেন তা বুঝিয়ে দিলেন!

২১ বছর বয়সী এই সাইক্লিস্ট এখন অলিম্পিক মাউন্টেন বাইক ক্রস কান্ট্রি রেসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন।

default-image

একেবারে পেছনের দিক থেকে রেস শুরু করেছিলেন পিডকক। সার্কিটে নামার আগেই এগিয়ে যান ২৬ ধাপ। কিন্তু বাকি সময়ে মসৃণ ও দুর্দান্ত গতি তুলে শেষ ১.৫ কিলোমিটারে এগিয়ে যান দুইয়ে থাকা ম্যাথিয়াস ফ্লুকিগারের সঙ্গে।

এই ফ্লুকিগার সুইজারল্যান্ডের, সাইক্লিস্টদের র‌্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানের বিশ্বসেরা-২১। সেকেন্ডের ব্যবধানে তাঁকে পেছনে ফেলে সোনার পদক জিতে নেন পিডকক। ফ্লুকিগারকে রুপা জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে, ব্রোঞ্জ জিতেছেন স্পেনের ডেভিড ভালেরো সেরানো।

অলিম্পিকে ইতিহাস গড়ে সোনা জয়ের অনুভূতি পিডকক যেভাবে ব্যাখ্যা করলেন, সেটা যেকোনো প্রতিযোগীরই হয়তো মনের কথা, ‘অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে এর তুলনা চলে না। অলিম্পিক স্রেফ যেকোনো কিছুর ঊর্ধ্বে। দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, দেশের লোকেরা আপনার পক্ষে তা যে খেলাই পছন্দ করুক না কেন—এটা জাতীয় গর্বের বিষয়, অবিশ্বাস্য! কারণ, দুর্ঘটনার পর খুব কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে এসে এখানে পৌঁছাতে পেরেছি—সত্যিই অবিশ্বাস্য। ওই ঘটনার পর বড় ও ভালো কোনো রেসে অংশ নিইনি। খুব খেটে নিজেকে তৈরি করেছিলাম।’

default-image

ইংল্যান্ড ফুটবল দলের দেড় শ বছরের পথচলা নিয়ে বইয়ের লেখক ও ক্রীড়া সাংবাদিক পল আজ মজার এক টুইট করেন, ‘রাত ৩.১৩ থেকে সকাল ৮.১৫ মিনিটের মধ্যে ব্রিটেনের সোনার পদকজয়ীরা—অ্যাডাম পিটি, টম ডেলি, ম্যাটি লি ও টম পিডকক। সোমবার সকালটা বাজে, এ কথা কে বলে!’

গতকাল রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন কাটিয়ে পরের দিন কর্মব্যস্ত সকালে ব্রিটেনের এই অলিম্পিক সাফল্যের খবর নিশ্চিতভাবেই আনন্দের উপলক্ষ ইংলিশদের জন্য।

পিডকক সোনা জয়ের আধ ঘণ্টার কম সময় আগে ১০ মিটার সিনক্রোনাইজড সুইমিংয়ে সোনা জেতেন ডেলে-লি জুটি। এর আগে ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনা জেতেন পিটি।

ইতিহাস গড়ে সোনা জয়ের পর বাড়িতে সবার মনের অবস্থাটা টোকিওতে বসেই টের পেয়েছেন পিডকক, ‘আমি জানি মা এবং আমার প্রেমিকা বাসায় কাঁদছে। এখানে ওদের থাকতে না পারাটা আমার জন্য কষ্টের।’

default-image

জাপানে এখন গ্রীষ্মকাল। প্রচণ্ড গরমের মাঝেই অলিম্পিকে লড়ছেন প্রতিযোগীরা। এর আগে আর্চারিতে এক রাশিয়ান প্রতিযোগী গরমে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এমন কিছু ঘটতে পারে, পিডকক যেন তা বুঝতে পেরেই জাপানে আসার আগে ইংল্যান্ডে অনুশীলনে নিজেকে তৈরি করেছেন ভীষণ উষ্ণ পরিবেশে। উষ্ণ তাপমাত্রার এক ঘরে অনুশীলন করেছেন পিডকক। তার ফল পেলেন ইতিহাস গড়ে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন