নেপিয়ারে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সৌম্য সরকার।
নেপিয়ারে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সৌম্য সরকার।ছবি: এএফপি

নেপিয়ারে দুর্দান্ত খেলেছেন সৌম্য সরকার। নিউজিল্যান্ডে টি–টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এই বাঁহাতি যেন নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। ২৭ বলে ৫১ রানের ইনিংসটি তাঁর সামর্থ্যের প্রতিচ্ছবি।

সৌম্য যখন ফর্মে থাকেন, তখন তিনি কী করতে পারেন, কিউই দর্শকদের কাল তা দেখিয়েছেন। কিন্তু দিন শেষে ম্যাচটা হেরেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য নিয়ে ম্যাচ রেফারির ভুল, লক্ষ্য না জেনে ব্যাটিংয়ে নামা—সবকিছু ছাপিয়েই দিন শেষে হার বাংলাদেশ দলের।

নিউজিল্যান্ডে আরও একটি সফর শেষ হতে চলেছে। জয়টা অধরাই। ২০০১ থেকে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ যতবার গিয়েছে, সব সংস্করণ মিলিয়ে হারসংখ্যা টানা ৩১। কাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে হারলে সেটি ৩২ হবে। অকল্যান্ডে কি নিয়তি বদলাতে পারবে বাংলাদেশ?

বিজ্ঞাপন

আত্মবিশ্বাসী সৌম্য বিশ্বাস করেন, সেটি সম্ভব। তবে সেটির জন্য যেসব অনুষঙ্গ মিলিয়ে নিতে হবে, সেগুলোই তো এবারের নিউজিল্যান্ড সফরে কখনো একসুতায় মেলেনি।

কিন্তু তারপরও নিউজিল্যান্ড থেকে পাঠানো বিসিবির এক ভিডিওতে সৌম্য বলেছেন তাঁর বিশ্বাসের কথা। এসব কথা বাংলাদেশ ক্রিকেটেও পুরোনো মন্ত্রপাঠের মতো, ‘আর একটি ম্যাচ বাকি আছে আমাদের। যদি ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আমরা ভালো করতে পারি, তাহলে জেতা সম্ভব। নেপিয়ারের শেষ ম্যাচে আমরা ভালো ফিল্ডিং করেছি। দুই–একটা জায়গায় ছোটখাটো ভুল ছিল। এগুলো যদি না করি, তিন বিভাগে যদি আমরা একসঙ্গে ভালো করতে পারি, তাহলে কাল জিততে পারব।’

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততে পারে, এই বিশ্বাসই অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর হারিয়ে যেতে বসেছে। সৌম্য মনে করেন, জেতা খুবই সম্ভব। এবার নিউজিল্যান্ড সফরে যে পাঁচ ম্যাচ বাংলাদেশ খেলেছে, তাতে এই তিন বিভাগ কোনো ম্যাচেই একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারেনি। যেদিন বোলিং ভালো হয়েছে, সেদিন ব্যাটিং হয়েছে যাচ্ছেতাই। ব্যাটিং ভালো হওয়ার দিনে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের রুদ্রমূর্তির সামনে মোস্তাফিজুর রহমানরা ছিলেন অসহায়। কোনো ম্যাচে তো ক্যাচ ফেলার ধরন ছিল ভীষণ দৃষ্টিকটু।

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— এই তিন বিভাগেই ব্যর্থ হওয়ার নজিরও আছে। এমন দুঃস্বপ্নের সিরিজের শেষ দিকে এসেও আশার বাণীটা থাকছে সৌম্যর কণ্ঠে, ‘জেতা অবশ্যই সম্ভব। তবে আমরা যেভাবে খেলছি, হয়তো একদিন ব্যাটিংয়ে ভালো করছি, একদিন বোলিংয়ে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিনটিতেই একসঙ্গে ভালো করতে পারলে কাজটা সহজ হতো, জেতা সম্ভব হতো।’

অকল্যান্ডের ইডেন পার্কের ম্যাচটিতে কিন্তু চোখ রাঙাচ্ছে বৃষ্টি। তবে ঐতিহাসিকভাবে এ মাঠের উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। নেপিয়ারের মতো এ ম্যাচেও যদি বৃষ্টি বাগড়া দেয়, তাহলে কাজটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দলের জন্য। নেপিয়ারের বিতর্কিত ম্যাচটি হয়তো কিছুটা হলেও শিক্ষামূলক ছিল বাংলাদেশের জন্য।

সৌম্যরা প্রতি ম্যাচ থেকেই কিছু না কিছু শেখেন। কিন্তু এই শেখা কাজে লাগাতে না পারাটাই যে নিয়তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কাল অকল্যান্ডে সেই নিয়তি খণ্ডানো যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন