default-image

প্রথম ইনিংসেও মাত্র ৯০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ড ২০৪ করেছিল। ৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা জ্যাক লিচ দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার সাকিব মাহমুদ তো এখনো মাঠেই নামেননি। আরেকটি ‘মিরাকলে’র আশা তাই করতেই পারে ইংল্যান্ড। অবশ্য টানা পাঁচ সিরিজ হারের লজ্জার রেকর্ড গড়া ঠেকাতে চাইলে অলৌকিকের আশা না করে আর উপায় নেই।

ইংল্যান্ডের এমন দশার দায় তাদের ব্যাটসম্যানদের। অ্যাশেজে নিজেদের যত দোষত্রুটি আছে, সবই দেখিয়েছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। গ্রেনাডার উইকেটে আরও কদর্যভাবে তা বেরিয়ে এসেছে। আর সেটা দেখাতে সহযোগিতা করেছেন মেয়ার্স।
মেয়ার্সকে নতুন করে চেনানোর কিছু নেই, অন্তত বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে।

২০২১ সালে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনায়াস জয়ের আশা করছিল বাংলাদেশ। প্রায় দ্বিতীয় দল নিয়ে বাংলাদেশে আসা সে দল অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ উপহার দিয়েছিল চট্টগ্রামে। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কাইল মেয়ার্স যা করেছেন, তার তুলনীয় আসলেই খুব কম আছে। টেস্ট অভিষিক্ত এক ব্যাটসম্যান বিরুদ্ধ পরিবেশে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১০ রানে অপরাজিত ছিলেন। ব্যাটসম্যান মেয়ার্সকে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগী তাই কখনো ভুলবেন না।

default-image

মেয়ার্সকে সিরিজের শেষ ম্যাচে ওই ব্যাটিংয়ের জন্যই ফিরিয়ে আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি সেভাবে, প্রথম ইনিংসে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাঁর। কিন্তু বল হাতেই নিজেকে মনে রাখার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে বল হাতে ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে কোনো রান না দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছিলেন। পরে আর কিছু রান দিলেও আর উইকেট পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসে সে অপূর্ণতা মিটিয়ে নিয়েছেন।
প্রথমে সিলসের বলে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ধরা পড়েছেন জ্যাক ক্রলি। কিন্তু সেটা যে মাত্র সর্বনাশের শুরু, সেটা কে জানত। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে থার্ড ম্যানে বল পাঠিয়ে রান নেওয়ার চেষ্টা কাল হয়েছিল জো রুটের। ইংলিশ অধিনায়ক সে ভুল থেকে শিক্ষা নেননি। আবারও সেই থার্ড ম্যানে ঠেলে দিয়ে রান নেওয়ার চেষ্টা করলেন। আর তাতেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ৫ রানে। ইংল্যান্ডের রান তখন ২৭।

সেটা ৩ উইকেট হারিয়েই ২৭ হয়ে গেল ক্ষণিকের মধ্যেই। ড্যান লরেন্সের কী বুঝে মেয়ার্সের বল চলে যেতে দিলেন। সে বল আঘাত হানল স্টাম্পে। একটু পর অ্যালেক্স লিসও ফিরতে পারতেন, কিন্তু স্লিপে বলটা হাতে আটকাতে পারেননি বোনার। একটু পরই ছাড়ব না খেলব করতে করতে ক্যাচ তুলে দিলেন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ড ৩৯/৪!
মাঝে ৪১ রানের এক জুটি গড়েই বেয়ারস্টো বিদায় নিয়েছেন। হাস্যকরভাবে রানআউট হয়েছেন বেন ফোকস। ইংল্যান্ডের সর্বনাশ চূড়ান্ত করার দায়িত্ব আবার নিয়েছেন মেয়ার্স। ৩১ রান নিয়ে এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন লিস। তাঁকেও পরের স্পেলে তুলে নিয়েছেন। ৬ বল পরই ক্রেইগ ওভারটনকে তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট মেয়ার্সের। ১০১ রানে ৮ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড দিনের শেষ ৫ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে আরও দুই রান তুলেছে।

এর আগে জশুয়া দা সিলভার দৃঢ়তা দেখেছে ইংল্যান্ড। ১২৮ রানে প্রথম ৭ উইকেট খোয়ানো ক্যারিবীয়রা কাল রাতে থেমেছে ২৯৭ রানে। আটে নামা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভা ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন। পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসা দা সিলভা অষ্টম উইকেটে আলজারি জোসেফকে (২৮) নিয়ে ৪৯, নবম উইকেটে কেমার রোচকে (২৫) নিয়ে ৬৮ রান করার পর দশম উইকেটে জেইডেন সিলসকে (১৩*) নিয়ে ৫২ রানের জুটি গড়েছেন।

মন্তব্য করুন