default-image

কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ? ২৯ মার্চ ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে না গড়ানো পর্যন্ত তা বলা মুশকিল। তবে আলোচনা-জল্পনা-কল্পনা তো থেমে নেই। সম্প্রতি সিডনিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির কাছে নিজেদের অভিমত জানালেন ইয়ান চ্যাপেল, সুনীল গাভাস্কার ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। হোম কন্ডিশন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের ফর্ম—সবকিছু বিবেচনা করে এই গ্রেটদের কাছে ফেবারিটের তালিকায় সবার ওপরে আছে অস্ট্রেলিয়া দল।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণটিকেই তাদের মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি গাভাস্কার। ‘ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উইকেট নেওয়ার মতো দারুণ বোলিং আক্রমণ তাদের আছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যা খুবই গুরুত্বপুর্ণ।’ প্রতিপক্ষকে স্বল্প রানে আটকে দিতে পারলে বাকি কাজটা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা ভালোভাবেই শেষ করবে বলে মনে করেন ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক। পাশাপাশি স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের মাঠে তারা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা পাবে বলেও মনে করছেন তিনি।
তবে ভিভিএস লক্ষ্মণ এগিয়ে রাখছেন অস্ট্রেলিয়দের ব্যাটিং শক্তিকে। ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, ‘আমি মনে করি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এবং জর্জ বেইলি ছাড়া তাদের সবাই এখন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে।’ শেন ওয়াটসন, সদ্যই অস্ট্রেলিয়া দলে যোগ দেয়া মিচেল মার্শ ও ব্র্যাড হাডিনকেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্লে-মেকার মনে করছেন লক্ষ্মণ।
অস্ট্রেলিয়া দলে কিছু সমস্যাও দেখছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল। মাইকেল ক্লার্কের ইনজুরি-শঙ্কা, ফকনারের আঘাত কাটিয়ে ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশা, জর্জ বেইলির হারানো ফর্ম নিয়ে একটু চিন্তিত এই কিংবদন্তি। নেতৃত্বের সংকটও ভোগাতে পারে অস্ট্রেলিয়া দলকে। তবে এত কিছুর পরেও অস্ট্রেলিয়া দলকে নিয়ে আশাবাদী এই ব্যাটিং গ্রেট। ‘আমি মনে করি না অধিনায়কত্ব নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে। কেননা ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তারা শুরু করেছে ক্লার্কের অধীনে, কিন্তু পরে খেলেছে ব্র্যাড হাডিন এবং স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বে। এরপর ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়ক ছিল জর্জ বেইলি। অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন নেতৃত্বের অধীনে তারা মানিয়ে নিতে শিখে গেছে।’ তবে সহ-অধিনায়ক হিসেবে তার কাছে বেইলির পরিবর্তে স্মিথকে বেশি যোগ্য মনে হয়েছে বলে জানান তিনি। সহ-অধিনায়কত্বের ভার বেইলির সাম্প্রতিক ফর্মকে আক্রান্ত করেছে বলে মনে করেন তিনি।
কয়েক মাস ধরে দুর্দান্ত ফর্মে আছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ভারতের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০তে জয়, এরপর তারা জয় পেয়েছে ভারত-ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলা ত্রিদেশীয় সিরিজেও। ফর্মে আছে ব্যাটসম্যানরা, বোলিং-ফিল্ডিং দুদিকেই বেশ ভালোরকম শক্ত অবস্থানে তারা। নিজেদের মাঠে খেলার বাড়তি মানসিক সুবিধা তো আছেই। কাজেই পঞ্চমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে এবারের আসরের বেশ বড় একটি অঘটন হয়ে থাকবে এটি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন