default-image

জাতীয় লিগে খেলছেন, বোলিংও করছেন। কিন্তু মনের ভেতর খচখচানি ছিলই—কখন আসবে খবরটা। প্রত্যাশিত সেই সুখবর এল কাল। আইসিসি থেকে ই-মেইলে বিসিবিকে জানানো হয়েছে, সোহাগ গাজীর বোলিং অ্যাকশন বৈধ ঘোষিত হয়েছে। চাইলেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করতে পারবেন। বিসিবির কাছ থেকে খবরটা শুনে সোহাগ এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়ছেন।
কাল বিকেলে মুঠোফোনে কল করতেই খুশির আভাটা ধরা পড়ল এই অফ স্পিনারের কণ্ঠে, ‘আজ (গতকাল) দুপুরে বিসিবি থেকে আমাকে ফোন করে জানানো হয় খবরটা। আমিও এর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। সব সময় মন খারাপ হয়ে থাকত। কখন পরীক্ষার ফল আসবে, কখন আমার অ্যাকশনটাকে শুদ্ধ বলে ঘোষণা করা হবে...এটা একটা বোঝা হয়ে ছিল মাথার ওপর।’
সেই বোঝা কাল নেমে গেল সোহাগের মাথা থেকে। গত আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাঁর বোলিং অ্যাকশন। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর কার্ডিফের মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন। তাতেও অ্যাকশনে সমস্যা ধরা পড়ায় সোহাগকে আরও কাজ করে দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষা দিতে হয় গত ২৪ জানুয়ারি। এবারের পরীক্ষাটা হয় চেন্নাইয়ের শ্রীরামাচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই দিনে ওখানে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন পাকিস্তানের অফ স্পিনার সাঈদ আজমলও। কাল তাঁর বোলিং অ্যাকশনকেও ত্রুটিমুক্ত ঘোষণা করেছে আইসিসি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, সব ধরনের ডেলিভারির সময়ই দুই স্পিনারের কনুই ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকছে।
তবে ভবিষ্যতে কখনো তাঁদের বোলিং অ্যাকশন আবার সন্দেহজনক মনে হলে আম্পায়াররা আবারও প্রশ্ন তুলতে পারবেন। যদিও সোহাগের বিশ্বাস, সে সুযোগ আর তাঁরা পাবেন না, ‘আমি এর মধ্যেই জাতীয় লিগে খেলা শুরু করেছি এবং অনেক ওভার বল করছি। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, এই সমস্যা আর হবে না।’ কিন্তু অ্যাকশন বদলানোয় বোলিংয়ের গুণ-মান কমে যাবে না তো? সোহাগ নিশ্চিন্ত যে তাও হবে না, ‘বল ডেলিভারির সময় আমার পায়ের অবস্থানটা আগে ঠিক থাকত না, এখন সেটা ঠিক হয়ে গেছে। বোলিং বা অ্যাকশন খুব একটা না বদলেই সমস্যার সমাধান করা গেছে।’
সোহাগের ঠিক আগে আগে বাংলাদেশ দলের পেসার আল আমিনকেও যেতে হয়েছে একই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। ওই সময়টাতে অবশ্য বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের বোলিং অ্যাকশন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন আম্পায়াররা। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর অবস্থানের কারণেই হয়েছিল সেটা। নিজে সমস্যাটার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর সোহাগের উপলব্ধি, অ্যাকশনের ত্রুটি আগেই দূর হয়ে যাওয়া উচিত, ‘একজন তরুণ বোলার হয়তো নির্দিষ্ট একটা অ্যাকশনে বল করে অভ্যস্ত। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সময় সে জানেও না তার অ্যাকশন বৈধ না অবৈধ। যে কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাওয়ার পর তাকে সমস্যায় পড়তে হয়। আমি মনে করি এটা ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিক করে ফেলতে পারলেই ভালো।’
সোহাগ হয়তো ঠিকই বলেছেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে বৈধ অ্যাকশন নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা একজন বোলারের পক্ষে তখনই সম্ভব, যখন বিসিবি সেই সুযোগটা তাঁকে করে দেয়। কিন্তু বিসিবির যে এ মুহূর্তে কোনো বোলিং অ্যাকশন রিভিউ প্যানেলই নেই! যে কারণে জাতীয় লিগের সর্বশেষ রাউন্ডে রাজশাহীর অফ স্পিনার ফরহাদ হোসেনের অ্যাকশনকে আম্পায়ার-ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে সন্দেহজনক ঘোষণার পরও তাঁকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা যাচ্ছে না।
সদ্য শেষ হওয়া প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সময় বিসিবির আম্পায়ার্স কমিটি ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য বোলিং অ্যাকশন রিভিউ এবং পুনর্বাসন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো প্রস্তাব আকারেই আছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য আশ্বাস দিলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের আগামী মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আমরা একটা বোলিং অ্যাকশন পর্যবেক্ষণ প্যানেল গঠন করব। এখন যাদের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেই প্যানেল সেগুলো পর্যবেক্ষণ করবে।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন