সৌম্য ঝড় তুলেও বাঁচাতে পারেননি বাংলাদেশকে।
সৌম্য ঝড় তুলেও বাঁচাতে পারেননি বাংলাদেশকে।ছবি: এএফপি

প্রথমে লক্ষ্য ছিল ১৬ ওভারে ১৪৮ রান। হাতের নাগালেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যই বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার ১.৩ ওভার পর ১৭০ হয়ে যায়। আর বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬ ওভারে ১৪২ রানে।

নেপিয়ারে বিতর্ক জন্ম দেওয়ার ম্যাচটিতে সৌম্য সরকারের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের পরও বাংলাদেশ হেরেছে ২৮ রানে। ওয়ানডের ধবলধোলাইয়ের পর তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিয়েছে টিম সাউদির নিউজিল্যান্ড দল।

বৃষ্টির কথা ভেবেই টসে জিতে কিউইদের ব্যাটিংয়ে পাঠান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। বৃষ্টি আইনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করলে লক্ষ্যটা জেনে ব্যাটিং নিয়ে দলের পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো বাংলাদেশকে সেই সুবিধাটাও নিতে দিলেন না।

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টির কারণে ওভার কমিয়ে বাংলাদেশকে প্রথমে যে লক্ষ্য (১৬ ওভারে ১৪৮ রান) দেওয়া হয়, সেটি ছিল ভুল। কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমেছে। খেলে ফেলেছে ইনিংসের এক ওভার তিন বল।

এরপর খেলা বন্ধ করে হিসাব কষে জানানো হয় নতুন লক্ষ্য। নতুন লক্ষ্যে ১৬ ওভারে বাংলাদেশের জিততে দরকার ১৭০ রান!

এই তথ্য জানানোর পরপরই ওপেনার লিটন দাস আউট। কিন্তু নতুন লক্ষ্যে কী করতে হবে, সেই পরিকল্পনা নিয়েই যেন মাঠে নামেন সৌম্য। প্রথম ৬ বলে ৭ রান করা সৌম্য পরের কয়েক ওভারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে ২৫ বলে ৫টি চার ও ৩টি বিশাল ছক্কায় করেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি।

default-image

সৌম্যর ঝড়ে প্রথম ৬ ওভারে বাংলাদেশের রান ৭০! হাতে তখনো ৯ উইকেট। সেখান থেকে জয়ের আশাটা ছিল।

কিন্তু এক প্রান্তের বিধ্বংসী ব্যাটিং ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমের ধীরগতির ব্যাটিং সৌম্যর কাজটা কঠিন করে দিয়েছিল। পাওয়ার প্লের পর দ্রুত রান তোলার দায়িত্বটা তাঁকেই নিতে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৫১ রানে থামে সৌম্যর ইনিংস।

default-image

নাঈমের সুযোগ ছিল ম্যাচটা আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু আজ ব্যাটে বলে যেন সংযোগই হচ্ছিল না তাঁর। নাঈমের ব্যাটিংয়ের সময় নিউজিল্যান্ডের অনিয়মিত অফ স্পিনার গ্লেন ফিলিপস ৩ ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচায় নেন এক উইকেট।

ম্যাচে বাংলাদেশের যতটুকু নিয়ন্ত্রণ ছিল তা ফিলিপসের তিন ওভারে সেটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। নাঈম ১৬ ওভারের ম্যাচে ৩৫ বল খরচা করেন ৩৮ রান করেন। এরপর বাকি ব্যাটসম্যানদের ক্রিজে এসে শুধু বাড়ন্ত রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করে ১৪২ রান।

এর আগে শুরুতে ব্যাট করে ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়ের শুরুটাও ভালো হয় বাংলাদেশের। ৬.১ ওভারের মাথায় ফিন অ্যালেন, মার্টিন গাপটিল ও ডেভন কনওয়ের উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্থায়ী হয়নি উইল ইয়াং ও মার্ক চ্যাপম্যানের ইনিংসও। মেহেদী হাসান ও শরিফুল ইসলাম দারুণ বোলিং করেন।

কিন্তু শেষে এসে ফিলিপস ও ড্যারেল মিচেল বৃষ্টি নামার আগেই দ্রুত রান তুলে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। ইনিংসের ১৭.৫ ওভারের সময় বৃষ্টি নামে। তখন স্বাগতিকদের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৭৩ রান।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন