default-image

মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলিরা আজ যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, অনেকের মতে সেই মঞ্চটা সৌরভ গাঙ্গুলীর অধিনায়কত্বেই তৈরি করা। ভারত এখন যে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায় ভয়ডরহীন ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন, সেটির ভিত্তি তো সৌরভের সময়ই গড়ে তোলা। বীরেন্দর শেবাগ, মোহাম্মদ কাইফ, যুবরাজ সিং, জহির খান, হরভজন সিং, ইরফান পাঠানের মতো একঝাঁক তরুণ–তুর্কিকে লাইসেন্স দিয়েছিলেন নিজের প্রতিভাকে শতভাগ বিকশিত করার। নিজের স্বভাবজাত নেতৃত্বগুণ ছিল, কিন্তু তাই বলে সৌরভ যে কারও কাছ থেকে অধিনায়কত্বের পাঠ নিতেন না, সেটি বলা যায় না। সৌরভও অধিনায়কত্বের ব্যাপারে উদাহরণ মনে করতেন কাউকে না কাউকে।

সৌরভ সেটি এক ইউটিউভ লাইভে এসে প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি। বিসিসিআইয়ের সভাপতি জানিয়েছেন, তিনি অধিনায়কত্বের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক শিখেছেন বীরেন্দর শেবাগের কাছ থেকে।

শেবাগের ক্যারিয়ারে সৌরভের অবদান সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। লোয়ার অর্ডারে একটু মেরে খেলতে পারে, সঙ্গে অফস্পিনটাও পারে—এমন কিছু গুণ নিয়েই জাতীয় দলে এসেছিলেন শেবাগ। কিন্তু ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপকে হটিয়ে মূল একাদশে সুযোগ করে নিতে পারছিলেন না। তখন এই সৌরভই পাশে দাঁড়ান তরুণ শেবাগের। বিনিময়ে নিজেও শেখেন নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিজের অধিনায়কত্বে শেবাগের অবদান স্বীকার করতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসের সেই বিখ্যাত ২০০২ ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ফিরে গিয়েছিলেন সৌরভ।

default-image
বিজ্ঞাপন

সে ম্যাচে ৩২৫ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। সে কন্ডিশনে অত রান তোলা ভারতের মতো ব্যাটিং–নির্ভর একাদশের জন্যও বেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু সে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে গিয়ে শেবাগ সৌরভকে শিখিয়েছিলেন, যে যেমন খেলোয়াড়, তাঁকে ঠিক সেভাবেই খেলতে দেওয়া উচিত। মতামত দিয়ে তাঁর স্বাভাবিক খেলার ধরনে বিঘ্ন সৃষ্টি করা উচিত না।

রান তাড়া করতে গিয়ে শেবাগকে নিয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন সৌরভ। দুজনই শুরু থেকে মেরে খেলতে শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে সৌরভ নিজে ভালোমতো কচুকাটা করছিলেন ড্যারেন গফ, অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, অ্যাশলি জাইলসদের। ১২ ওভারে ৮২ রান তুলে ফেলেছিলেন দুজন। ঠিক তখনই দলের অধিনায়ক সৌরভের মনে হলো, একটু রয়েসয়ে খেলা উচিত। মারকাটারি না খেলে এবার সিঙ্গেলস-ডাবলস নিয়ে খেলা উচিত। কিন্তু শেবাগ সে কথা মানেননি।

ইউটিউব চ্যাটে এর পরের কথাগুলো সৌরভের ভাষ্য থেকেই জেনে নিন, ‘আমরা ৩২৫ রান তাড়া করতে নেমেছিলাম। আমি আর শেবাগ ওপেন করতে নামি। লক্ষ্যমাত্রা দেখে আমি একটু বিরক্ত ছিলাম, হতাশ ছিলাম। কিন্তু শেবাগ আমাকে বলেছিল, আমরা জিতবই। প্রথম ১২ ওভারে ৮২ রান তোলার পর আমি ওকে বললাম, নতুন বলের বোলারদের যেহেতু মোকাবিলা করে ফেলেছি, এখন আস্তে আস্তে নিজেদের ওপর রাশ টেনে ধরি, সিঙ্গেলস-ডাবলস নিয়ে খেলতে থাকি।’

default-image

কিন্তু সৌরভের কথাকে শেবাগের থোড়াই কেয়ার! পরের ওভারে বল করতে এসেছিলেন মিডিয়াম পেসার রনি ইরানি। প্রথম তিন বলেই সপাটে চার মারেন শেবাগ। ওভারের ছয় বলে চার মারেন চারটা। সৌরভ ততক্ষণে রাগে কাঁপছেন, ‘রনি ইরানি যখন তার প্রথম ওভারে বল করতে এল, শেবাগ প্রথম বলেই চার মারল। আমি সেটা দেখে ওকে গিয়ে বললাম আচ্ছা ঠিক আছে, একটা চার যেহেতু এসেই গেছে, পরের বলগুলো সিঙ্গেল নিয়ে নিয়ে খেলি। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। দ্বিতীয় আর তৃতীয় বলেও সে চার মেরে বসে। আমি তো তখন শেবাগের এমন কাণ্ডে রাগে কাঁপছি।’

তবে কিছুক্ষণের জন্য রেগে গেলেও সেখান থেকেই অধিনায়কত্বের বড় শিক্ষাটা পেয়ে যান সৌরভ, ‘এরপরই আমি বুঝলাম, ওকে কিছু বলে লাভ নেই। ওর খেলার ধরনটাই এমন। মেরে খেলে। একজন খেলোয়াড় কীভাবে খেলে, সেটা বুঝে একজন অধিনায়ককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়।’

সৌরভ ও শেবাগের কল্যাণে দুর্দান্ত শুরু করা ভারত সে ম্যাচটা জেতে যুবরাজ সিং ও মোহাম্মদ কাইফের ব্যাটে চড়ে। ম্যাচ শেষে লর্ডসের ব্যালকনিতে ‘উদ্ধত’ সৌরভের সেই জার্সি খুলে ওড়ানো কে-ই বা ভুলতে পারে!

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন