default-image

সাফল্য দিয়েই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুটা করেছিলেন বীরেন্দর শেবাগ। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মাটিতে করেছিলেন সেঞ্চুরি। ঘরের মাঠেও ছিল তাঁর দারুণ পারফরম্যান্স। কিন্তু এর পরেও অনিশ্চয়তা দানা বেঁধেছিল ভারতের সাবেক ওপেনারের ক্যারিয়ারে। হারিয়ে ফেলেছিলেন ফর্ম। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুম্বাইয়ের সেঞ্চুরি আর চেন্নাইয়ে ফিফটির পর টানা ৯ ইনিংসে ছিল না কোনো পঞ্চাশ বা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। এই সময় সে সময়কার অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর এক ‘হুমকি’ই বদলে দিয়েছিল তাঁর ক্যারিয়ার।

সৌরভের ওপর তখন শেবাগকে নিয়ে প্রচণ্ড চাপ। নির্বাচকেরা চাচ্ছিলেন শেবাগকে বাদ দিতে। কিন্তু সৌরভ দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর সতীর্থের পাশে। কিন্তু শেবাগকেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন রান করতে না পারলে দলে তাঁর জায়গা নেই।

সে সময় সৌরভ-শেবাগদের সঙ্গে ভারতীয় দলে খেলেছিলেন হালে ক্রিকেট বিশ্লেষক হয়ে যাওয়া আকাশ চোপড়া। তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সে সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন, ‘ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক রান করার পর শেবাগের ক্যারিয়ারে প্রথম ধাক্কা আসে। সৌরভ তাঁকে বলেছিল, “দেখ শেবাগ তুমি যদি রান না কর, তাহলে দলে তোমার জায়গা নেই। আমি চেষ্টা করলেও তোমাকে দলে রাখতে পারব না।”’

রানে ফিরতে বেশি সময় নেননি শেবাগ। পরের টেস্টেই ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি করেন এই মারকুটে ওপেনার। ২০০৩ সালে মোহালিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি রানে ফেরার জন্য বেছে নেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ৬৩০ রানের জবাবে শেবাগের ১৩০ রানের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ বাঁচানোর রসদ পায় ভারত।

কেবল শেবাগই নয়, তরুণ খেলোয়াড়দের আগলে রাখার একটা প্রবণতা ছিল সৌরভের। সে কথা বলেছেন আকাশ। শেবাগের মতোই যুবরাজ সিংয়ের ক্যারিয়ারে সৌরভের বড় ভূমিকা ছিল, ‘আমার মনে আছে যুবরাজ টানা ১৮-১৯ ম্যাচ খুব বাজে খেলেছিল। তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল। কিন্তু সৌরভ সেটি হতে দেয়নি। যুবরাজকে সমর্থন দিয়ে গেছে।’

শেবাগ আর যুবরাজের ক্যারিয়ার এরপর কোন পর্যায়ে গেছে, সেটি সবারই জানা। ভারতীয় ক্রিকেটে ইতিহাসের বড় তারকা হিসেবেই এ দুজন নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন