বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ রকম দৃশ্য কাল সকাল থেকেই দেখা গেছে। সমর্থকদের দলগুলো একেক সময় একেক প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিল। যখন যাঁর নাম ধরে স্লোগান, তখন গায়ে তাঁর ছবিসংবলিত টি-শার্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্যানেলবিহীন নির্বাচনেও তাই বজায় থাকল সৌহার্দ্য আর সহাবস্থান।

বিসিবির নির্বাচন সব সময়ই জটিল এক পাটিগণিত। ২৫ পরিচালকের দুজন আসেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত হয়ে। বাকি ২৩ জনকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ হয়ে আসতে হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। সেই ২৩ জনের মধ্যে কেউ কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান, এবার যেমন হয়েছেন ৭ জন। বাকি ১৬টি পদের জন্য ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ২৪ জন। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরও ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিন প্রার্থী। তাঁদের নাম ব্যালটে থেকে গেলেও প্রকৃত প্রার্থীর সংখ্যা তাই নেমে আসে ২১ জনে। এই ২১ জনই কাল লড়েছেন ১৬টি পদের জন্য।

default-image

এই ১৬ পদে কারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন, সেটিও অনুমিতই ছিল। ২১ জনের বেশির ভাগই যে ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’! সে কারণেই সমর্থকেরাও চরিত্র বদলে একেকবার একেকজনের পক্ষে। আর ফলাফলটা অনুমিত ছিল বলে ফলাফল ঘোষণার আগেই তাদের সমর্থনটা মাঝেমধ্যে রূপ নিচ্ছিল জয়োৎসবে।

নির্বাচনে প্রকাশ্যে কোনো প্যানেল না থাকলেও সর্বশেষ বোর্ডে থাকাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য ঐক্য তো ছিলই। তাঁরা চেয়েছেন, তাঁকে যেমন নির্বাচিত হতে হবে, তেমনি অন্য সঙ্গীরাও যেন নির্বাচিত হতে পারেন। এই সমীকরণ ঠিক রাখতে দৃষ্টিটা বেশি ছিল দুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শ্রেণি-১–এ রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদকে হারিয়ে যেন বোর্ডে থেকে যেতে পারেন আগের পরিচালনা পর্ষদে থাকা সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, এটাই ছিল অদৃশ্য সেই প্যানেলের চাওয়া। সাইফুলের কাছে মাসুদের ৭-২ ভোটে হারে সেটি পূরণও হয়েছে।

default-image

ঢাকা বিভাগের দুটি পদের লড়াই থেকে নির্বাচনের আগের দুই দিনে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে যান কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম ও মাদারীপুরের খালেদ হোসেন। মানিকগঞ্জের নাঈমুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জের তানভীর আহমেদ তাই ১৭টি করে ভোট পেয়ে একরকম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই নির্বাচিত হন।

শ্রেণি-৩–এর নির্বাচনও কৌতূহলোদ্দীপক ছিল। তবে লড়াইটা এখানেও জমেনি। বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক পরিচালক খালেদ মাহমুদের লড়াইয়ে অদৃশ্য প্যানেলের সমর্থন ছিল দ্বিতীয় জনের দিকেই। মাহমুদের ৩৭-৩ ব্যবধানের জয়ে প্রতিফলন ঘটেছে সেটিরই।

শ্রেণি-২–এ নির্বাচন হয়েছে ঢাকার ক্লাব প্রতিনিধিদের মধ্যে। এই শ্রেণিতে ভোটার ছিলেন ৫৭ জন, নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন ১৬ জন, আগের রাতে একজন সরে দাঁড়ানোয় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী ছিলেন ১৫ জন। এই ১৫ জনের মধ্যে বোর্ড পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন ১২ জন। যাঁদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩টি করে ভোট পেয়েছেন সর্বশেষ বোর্ড সভাপতি আবাহনীর নাজমুল হাসান, গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের গাজী গোলাম মুর্তজা ও আজাদ স্পোর্টিংয়ের এনায়েত হোসেন সিরাজ।

এই শ্রেণিতে নির্বাচিত অন্য ৯ জন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের নজীব আহমেদ (৫১), মোহামেডানের মাহবুবুল আনাম (৪৭), শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের ওবেদ রশীদ নিযাম (৫১), কাকরাইল বয়েজ ক্লাবের সালাহ্উদ্দিন চৌধুরী (৪৯), শেখ জামাল ক্রিকেটার্সের ইসমাইল হায়দার মল্লিক (৫২), সূর্য তরুণের ফাহিম সিনহা (৫০), ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাবের ইফতেখার রহমান (৫০), ঢাকা এসেটসের মনজুর কাদের (৪৯) ও আসিফ শিফা ক্রিকেট একাডেমির মনজুর আলম (৪৬)।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের ১৯ জন ছিলেন আগের বোর্ডেও। নতুন মুখ ছয়জন ইফতেখার রহমান, সালাহ্উদ্দিন চৌধুরী, ওবেদ রশীদ নিযাম, ফাহিম সিনহা, মনজুর আলম ও তানভীর আহমেদ। এই ২৫ পরিচালকের ভোটেই নির্বাচিত হবেন নতুন বোর্ড সভাপতি।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন