উইজডেনের চোখে স্টিভ ওয়াহর তোলা এ ছবিটিই ২০২০ সালের সেরা ছবি।
উইজডেনের চোখে স্টিভ ওয়াহর তোলা এ ছবিটিই ২০২০ সালের সেরা ছবি।ছবি: উইজডেন

২০২১ সালে ক্রিকেটের বর্ষসেরাদের নাম কাল জানিয়ে দিয়েছে উইজডেন। তাতে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন বেন স্টোকস। প্রথম কোনো ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে টানা দুই বছর উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমানাকের শীর্ষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে প্রথমবার শীর্ষ ক্রিকেটার হওয়া স্টোকস এবার শ্রেষ্ঠত্ব বুঝে নিয়েছেন সাদা পোশাকের ক্রিকেট দিয়ে। গত পঞ্জিকাবর্ষে ৫৮.২৭ গড়ে ৬৪১ রান তুলেছেন। এ সময়ে মাত্র ১৮.৭৩ গড়ে ১৯ উইকেটও পেয়েছেন স্টোকস।

স্টোকসের এমন অর্জনের চেয়েও আলোচনাটা স্টিভ ওয়াহকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেওয়া ওয়াহর আচমকা অ্যালমানাকে জায়গা করে নেওয়া এমনিতেই চমকে দিত। সেখানে ওয়াহর জায়গা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারণে।

২০২০ সালে ভারতে একটি প্রামাণ্যচিত্র বানাতে গিয়েছিলেন ওয়াহ। ভারতে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার ইচ্ছায় তিন সপ্তাহের ভ্রমণে গিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলেছিলেন স্টিভ। এমনই একটি ছবি উইজডেনের বর্ষসেরা ছবি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজস্থানের থর মরুভূমিতে একটি ছবি তুলেছিলেন স্টিভ ওয়াহ। ওসিয়ান শহরের কাছে তোলা সে ছবির প্রেক্ষাপট ওয়াহর মুখ থেকেই শোনা যাক, ‘জানুয়ারির এক শীতের সকালে সাড়ে সাতটার সময় আমরা থর মরুভূমির বালিয়াড়িতে পৌঁছাই। উদ্দেশ্য স্থানীয় কিশোরদের ক্রিকেট খেলতে দেখা। অনেক আলোচনার পর একটা খেলার জায়গা বেছে নেওয়া হয়, একটি মোটামুটি সমতল জায়গা দেখে উইকেট বানানো হয়, যেখানে টেনিস বল পড়ে বাউন্স খেতে পারবে। যখন খেলা শুরু হলো, কিছু উট ব্যবসায়ী ফ্রেমের মধ্যে ঢুকে ছবিটাকে পূর্ণতা এনে দিয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্মাদনার চিত্রটাও পরিপূর্ণভাবে ধরা পড়ল।’

স্টিভ ওয়াহর সে ছবিটা সেরা ছবি নির্বাচিত হওয়া নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমই। রানারআপ হওয়া বাকি দুই ছবি দেখে অবশ্য এমন প্রশ্ন তোলাটা স্বাভাবিক। প্রথম রানারআপ হয়েছে গত বিগ ব্যাশে তোলা এক ছবি।

সিডনি সিক্সার্সের জর্ডান সিল্ক ডাইভ দিয়ে একটা ছক্কা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। আধুনিক ক্রিকেটে এমন কিছু এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে কিন্তু এমন ছবি কোনো চিত্রগ্রাহকের ক্যামেরায় আটকানো খুব কঠিন। সে কঠিন কাজটাই করেছেন ড্যারিয়েন ট্রেনর।

default-image

দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন জেড লেস্টার। এই ফটোসাংবাদিক যে ছবি তুলেছেন সেটা ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন। ইংল্যান্ডের লিন্টন অ্যান্ড লিনমাউথ ক্রিকেট ক্লাব নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ঘেরা এক মাঠে ক্রিকেট খেলে। সে মাঠের পাশেই শৈলচূড়ার ওপর থেকে এক দর্শকের রোদ পোহাতে পোহাতে ক্রিকেট খেলা দেখার অনন্য এক ছবি তুলেছিলেন জেড লেস্টার।

স্টিভ ওয়াহর ছবির চেয়ে লেস্টারের ছবির পক্ষেই ভোট দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্রিকেটপ্রেমীরা। জেড অবশ্য বিনয়ের সঙ্গেই হার মেনে নিয়েছেন। মজা করে টুইটারে লিখেছেন, ‘স্টিভকে অভিনন্দন এবং উইজডেন ক্রিকেটকে ধন্যবাদ। সত্যি বলি অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়া, এরপর আবার উইজডেনের পুরস্কার জেতা খুব কঠিন কাজ। ওদিকে আমার রানারআপ হয়ে তারপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কিংবদন্তি হওয়ার পরিকল্পনাটা একটু কঠিন হবে বলেই ভয় পাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

স্টিভ ওয়াহর চমকের বাইরে উইজডেনের বাকি পুরস্কার খুব একটা আলোচনার জন্ম দেয়নি। স্টোকসের বাইরে এ বছর উইজডেনের বেছে নেওয়া বাকি পাঁচ ক্রিকেটার হলেন কেন্টের ৪৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডার ড্যারেন স্টিভেন্স, পাকিস্তানের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে ২৬৭ রানের ইনিংস খেলা জ্যাক ক্রলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১২০ রানের ইনিংস খেলা ডম সিবলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার ও পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এ বছর মেয়েদের শীর্ষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫৪ বলে ৭৮ রান করেছিলেন মুনি। আর টি-টোয়েন্টিতে বছরজুড়ে ৫৯টি ছক্কা মেরে ও ১৯৯.০৭ স্ট্রাইকরেটে রান তুলে এই সংস্করণের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন কাইরন পোলার্ড।

ওদিকে ওয়ানডে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে শুধু বছরে আটকে থাকেনি উইজডেন। বরং ওয়ানডের ৫০ বছরপূর্তিতে পাঁচ দশকের পাঁচ সেরা ক্রিকেটার খুঁজে নিয়েছে তারা। তাতে ৭০-এর দশকের সেরা হয়েছেন ভিভ রিচার্ডস। ৮০ ও ৯০–এর দশকের সেরা ভারতের দুই কিংবদন্তি কপিল দেব ও শচীন টেন্ডুলকার। এই শতাব্দীর প্রথম দশকের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। আর গত এক দশকের রাজত্ব বিরাট কোহলির।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন