default-image

ব্যাপারটা জফরা আর্চারের জন্য আবেগেরই। বেন স্টোকসকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সেই আবেগটা তিনি গোপন রাখেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। প্রচণ্ড খারাপ সময়ে তাঁর পাশে স্টোকস দাঁড়িয়েছিলেন। বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহমর্মিতার হাত। আর্চার তো আবেগী হবেনই।

ঘটনাটা তিনি খুলে বলেছেন ব্রিটিশ গণমাধ্যমে লেখা এক কলামে। সেই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের টেস্ট দুটিতে স্টোকসকে ইংল্যান্ড পাচ্ছে না বলে। বাবার অসুস্থতার খবর শুনে ইংলিশ অলরাউন্ডার পাড়ি দিয়েছেন তাঁর জন্মভূমি নিউজিল্যান্ডে। এমন একজন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ড পাচ্ছে না, এটিকে ইংলিশ ক্রিকেট দলের জন্য বড় ধাক্কাই মনে করেন আর্চার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের সময় কোয়ারেন্টিন জৈব সুরক্ষা ভেঙে আর্চার নিজের বাড়িতে ঢুঁ মেরেছিলেন। করোনার এই সময় ক্রিকেট মাঠে ফেরাতে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের যে সুরক্ষা নীতি, আর্চারের এই কাণ্ড ছিল সেটির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তীব্র সমালোচনা তো হয়েছেই, শাস্তিও ভোগ করতে হয়েছে তাঁকে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে পড়েছিলেন। যেতে হয়েছিল পাঁচ দিনের নিভৃত বাসে। কারও সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এমনকি সতীর্থদের সঙ্গেও নয়। পাশাপাশি চারিদিক থেকে চাঁচাছোলা সমালোচনা তো শুনতে হয়েছেই। মোট কথা সময়টা ঠিক আর্চারের পক্ষে ছিল না।

সে সময় স্টোকস আর্চারের খোঁজ খবর নিয়েছেন নিয়মিতই। বাকিটা পড়ুন ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত এ ফাস্ট বোলারের কলাম থেকে নেওয়া কথায়ই, ‘প্রতিদিন স্টোকস অন্তত কয়েকবার আমার ঘরের সামনে এসে নক করে জানতে চেয়েছেন আমি ঠিক আছি কি না, আমার কিছু লাগবে কি না! এমন সতীর্থ পেলে আপনার আর কী লাগে!’

পাকিস্তানের বিপক্ষে স্টোকস না থাকাটা কেন ইংল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা, আর্চার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটিরও, ‘তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে পরের টেস্টে থাকতে পারবেন না—এটা বড় এক ধাক্কাই। স্টোকসের মতো ক্রিকেটারদের রানও করা লাগে না, উইকেটও নিতে হয় না, দলে তাঁদের উপস্থিতিই কড়া বার্তা দেয় প্রতিপক্ষকে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0