রাজস্থান ইনিংসে ধসের সূচনা রবীন্দ্র জাদেজার হাতেই।
রাজস্থান ইনিংসে ধসের সূচনা রবীন্দ্র জাদেজার হাতেই। ছবি: আইপিএল

স্পিন বোলিংয়ে অধিনায়কত্বে মহেন্দ্র সিং ধোনির জুড়ি নেই। আজ আরেকবার তার প্রমাণ পাওয়া গেল। চেন্নাই সুপার কিংসের ১৮৯ রান তাড়া করতে নেমে দারুণ খেলছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার জস বাটলার। ওভারপ্রতি যখন ১২ রান করে দরকার, তখন রাজস্থান এগোচ্ছিল ওভারপ্রতি ১০ রান করে। মাঝের ওভারের হিসেবে যা আদর্শই বলা যায়। কিন্তু হঠাৎ রবীন্দ্র জাদেজা ও মঈন আলী বোলিংয়ে মাত্র ৮ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজস্থান। ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার জন্য এই ধসই ছিল যথেষ্ট। শেষ পর্যন্ত ৪৫ রানের বড় ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ধোনির চেন্নাই।

৩৫ বলে ৪৯ করে বাটলার রাজস্থানের সহজ জয়ের আশাই জাগিয়েছিলেন। সঙ্গে শিবম দুবে কিছুটা সময় নিয়েও থিতু হন। ম্যাচের ১১ ওভার দাপট দেখানো রাজস্থানের স্কোরবোর্ডে তখন ৮৭ রান। ডেভিড মিলার, রাহুল তেওয়াতিয়া, ক্রিস মরিসরা তখনো ড্রেসিং রুমে। সেখান থেকেই তালগোল পাকিয়ে ম্যাচ হারে রাজস্থান।

বিজ্ঞাপন
default-image

গতকালের ম্যাচের মতো আজ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে তেমন শিশির ছিল না। স্পিনারদের বল কিছুটা থেমে আসছিল। ধোনি হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন বল পুরোনো হওয়ায়। এরপর ১২তম ওভারের দিকে জাদেজাকে বল তুলে দেন বাটলার ক্রিজে থাকা অবস্থায়। প্রতিপক্ষ দলের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাটসম্যানকে আউট করে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন জাদেজা। সঙ্গে উপরি পাওয়া হিসেবে পেয়ে যান দুবের উইকেট। এরপর বাকি কাজটা করেন মঈন। একে একে আউট করেন মিলার, রিয়ান পরাগ, ক্রিস মরিসকে। ৩ ওভারে মাত্র ৭ রানে মঈনের শিকার ৩ উইকেট।

শেষের দিকে জয়দেব উনাদকাট ও তেওয়াতিয়া কিছু রান যোগ করেছে শুধু হারের ব্যবধানই কমান। ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয়ে যায় ওই মাঝের ওভারের ধসেই। রাজস্থান শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে করে ১৪৩ রান। নিজেদের আগের ম্যাচেও পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের বড় জয়ের পর আজ ৪৫ রানের বড় জয়ে চেন্নাইয়ের নেট রান রেট ফুলে ফেঁপে উঠেছে।

default-image

স্পিন জাদুর আগে প্রথম ইনিংসে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং জয়ের আরেক কারণ। লম্বা ব্যাটিং লাইনআপের দল চেন্নাই আজ আগে ব্যাট করে ১৮৮ রান তুলেছে। কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যানই ফিফটি করেননি। যে–ই ক্রিজে এসেছেন, সে–ই হাত খুলে খেলেছেন।

চার-ছক্কার খোঁজে থাকা চেন্নাই ছোট ছোট ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে পৌঁছে যায় ১৮৮ রানে। রাজস্থানের বোলাররা খুব খারাপ বল করেনি। তবু মূল বোলাররা প্রত্যেকেই ওভারপ্রতি প্রায় ৯ রান করে খরচ করেছেন। বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নিয়েছেন চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন