২৩ বছর...দীর্ঘ ২৩ বছর পর মার্টিন ক্রোর চোখে আবার খেলা করছে স্বপ্ন!

স্মৃতির আয়নায় তাকানো যাক ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ইডেন পার্কের ড্রেসিংরুমের সামনে বসে মার্টিন ক্রো। স্তব্ধ, নির্বাক। শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে সামনে। সব হারিয়ে ফেলার হতাশায় যেন অসাড়। অসাধারণ ব্যাটিং আর নেতৃত্বে দলকে তুলেছিলেন সেমিফাইনালে। সেখানেও দল ছিল ফেবারিট। কিন্তু ইনজামাম-উল-হক নামের এক তরুণ কিউদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়ে খুলেছিলেন নিজেদের স্বপ্নের দুয়ার। সেই যে ক্রোর চোখ থেকে হারিয়ে গেল স্বপ্ন, হারিয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট থেকেও। প্রায় দুই যুগ পর আবার কিউইদের চোখে ঝিলিক দিচ্ছে স্বপ্ন। বরাবরের ‘ডার্ক হর্স’ দল এবার অন্যতম ফেবারিট। স্বপ্নাতুর ক্রো উত্তরসূরিদের বলছেন, ‘উজ্জীবিত হও ’৯২ বিশ্বকাপের চেতনায়!’

রাগবির দেশে ক্রিকেটের জোয়ার ঠিক না বইলেও তীব্র হয়েছে ঢেউ। সেটা দেখে রোমাঞ্চিত টিম সাউদি বলছেন, ‘দারুণ লাগছে এত জনসমর্থন দেখে। বিশ্বকাপ হলো গোটা দেশকে পাশে পাওয়ার সুযোগ। ২০১১ রাগবি বিশ্বকাপে দেশের মাটিতে শিরোপাজয়ের পর আমরা দেখেছিলাম উচ্ছ্বাসের জোয়ার। ক্রিকেট দিয়েও আমরা করতে চাই তেমন কিছু।’ বাংলাদেশ সময় কাল ভোরে অল ব্ল্যাকদের ছোঁয়ার অভিযান শুরু ব্ল্যাক ক্যাপদের। সামনে শ্রীলঙ্কা।

সাম্প্রতিক ফর্মে ফেবারিট নিউজিল্যান্ড। দুই দলের সিরিজ শেষ হলো মাত্রই, নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৪-২-এ। কিউইরা পরে ২-০-তে হারিয়েছে পাকিস্তানকে, প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কা সেখানে প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেছে, হেরে গেছে এমনকি জিম্বাবুয়ের কাছেও। তবে শ্রীলঙ্কা হলো কুংফু-কারাতে সিনেমার নায়কের মতো, শত আঘাতে জর্জরিত হয়েও শেষ পর্যন্ত যে টিকে থাকে। কিংবা পুরোনো সেই নকিয়া ফোনের মতো, বারবার হাত থেকে পড়ে যেটির স্ক্রিন আর নানা জায়গায় ফাটল, রং চটে গিয়ে বোঝার উপায় নেই সত্যিকারের চেহারা। কিন্তু কাজ করে যাচ্ছে ঠিকমতোই! নতুন শতাব্দীর শ্রীলঙ্কা বড় মঞ্চের বড় দল। ফাইনাল খেলেছে গত দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই।

এমনিতে উদ্বোধনী দিনে ম্যাচ দুটি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই, মেলবোর্নে খেলা বলে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের আগ্রহ বেশিই। তবে আগে শুরু হচ্ছে বলে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ক্রাইস্টচার্চে এই নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা লড়াই। শহরের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ল্যাঙ্কাস্টার পার্ক চার বছর আগে ভূমিকম্পে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই বিশ্বকাপ সামনে রেখে তৈরি হয়েছে হ্যাগলি ওভাল। এই ম্যাচ দিয়ে শুরু জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারার শেষের শুরুও। বিশ্বকাপ দিয়ে ওয়ানডেকে বিদায় জানাচ্ছেন সাঙ্গাকারা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে জয়াবর্ধনে।

ফর্ম বিপরীত হলেও দুই দলের মিলের শেষ নেই। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দারুণ সমন্বয় দুই দলেই, দু-তিনজন দারুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের পাশাপাশি আছে অভিজ্ঞ স্পিনার। দুই দলেই একটু অস্বস্তি ওপেনিং নিয়ে। মূল পার্থক্যটা পেস বোলিংয়ে। যেখানে কিউইদের সমস্যা, কাকে রেখে কাকে খেলানো হবে। শ্রীলঙ্কা কিনা মালিঙ্গার সঙ্গীদের খুঁজে পেতে হয়রান! তবে হার না-মানা মানসিকতা দুই দলেরই চিরন্তন অভ্যাস।

জমজমাট ম্যাচের রসদ তাই প্রস্তুত। বাংলাদেশের দর্শকেরা সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলা দেখতে চাইলে মিস করতে পারেন রোমাঞ্চের অনেকটাই। খেলা শুরু কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায়! তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো, এএফপি।

মুখোমুখিনিউজিল্যান্ডশ্রীলঙ্কা

                     ম্যাচ    নিউজিল্যান্ড   শ্রীলঙ্কা     টাই/পরি.

মোট               ৮৯             ৪১             ৪০           ১/৭

নিউজিল্যান্ডে     ৩৪             ২১             ১১           ০/২

বিশ্বকাপে          ৯               ৩               ৬            ০/০

১৫২৯

সবচেয়ে বেশি রান সাঙ্গাকারার

৭৪

সবচেয়ে বেশি উইকেট মুরালিধরনের

১৭০

সর্বোচ্চ ইনিংস রনকির

৫/৯

সেরা বোলিং মুরালিধরনের

নিউজিল্যান্ডকে শ্রীলঙ্কা প্রথমবার হারায় বিশ্বকাপেই, ১৯৮৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ৩ উইকেটে।

১৯৯২ বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কাকে আর হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। হেরেছে টানা ৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ!

গত দুটি বিশ্বকাপেই নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করেছে শ্রীলঙ্কা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজ ৫০তম ওয়ানডে খেলবেন জয়াবর্ধনে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা কিউই ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, ৩৫টি।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন