স্মিথের ক্যাচ, স্মিথের ম্যাচ

সেঞ্চুরির পর স্টিভ স্মিথ l এএফপি
সেঞ্চুরির পর স্টিভ স্মিথ l এএফপি

নিউজিল্যান্ড ইনিংসের মাঝপথে হঠাৎই যেন পাখা গজাল স্টিভ স্মিথের। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে প্রায় উড়াল দিয়ে লুফে নিলেন বিজে ওয়াটলিংয়ের ক্যাচ। সেই ওয়াটলিং, যাঁর দরাজ হাতই স্মিথকে রেকর্ড গড়া এক ইনিংস খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। দুই দলের ফিল্ডিংয়ের দুই রূপেই লেখা হয়ে গেল ম্যাচের ভাগ্য। স্মিথের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৬৮ রানের জয় দিয়ে সিরিজ শুরু হলো অস্ট্রেলিয়ার।
অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হিসেবে কাল সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছুঁয়েছেন স্মিথ। অথচ ১৩ রানেই থামতে পারতেন, ট্রেন্ট বোল্টের বলে যদি ক্যাচটা ধরতে পারতেন ওয়াটলিং। ওই ওভারেই বোল্টের জোরালো এলবিডব্লুর আবেদনে সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। নিউজিল্যান্ড রিভিউ নিলেই আউট হয়ে যেতেন স্মিথ। ৪৮তম ওভারে স্মিথ যখন আউট হয়েছেন, ততক্ষণে ১৫৭ বলে ১৪টি চার ও ৪ ছক্কায় ১৬৪ রান হয়ে গেছে তাঁর।
নিউজিল্যান্ড ফেলেছে ট্র্যাভিস হেডের ক্যাচও। ৭ রানেই আউট হতে পারতেন হেড। জিমি নিশামের বলে হেডের সহজ এক ক্যাচ ফেলেছেন ম্যাট হেনরি। স্মিথ-হেডের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২৭ রান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অথচ ৯২ রানেই ৪ উইকেট তুলে নিয়ে দারুণ শুরু করেছিল সফরকারীরা। অভিষেকেই গতির ঝড় তুলেছিলেন বোলিং অ্যাকশনে অ্যালান ডোনাল্ডকে মনে করিয়ে দেওয়া লোকি ফার্গুসন। তাঁর প্রথম ওভারের প্রতিটি বলই ছিল ৯০ মাইল গতির চেয়ে বেশি! আর ষষ্ঠ বলেই বোল্ড করেছেন ওয়ার্নারকে। কিন্তু ওই সাফল্যতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শেষ দিকে উল্টো স্মিথের মারকাটারি ব্যাটিং অভিষেকে সবচেয়ে খরুচে কিউই বোলার বানিয়ে দিয়েছে তাঁকে।
তাড়া করতে নেমে এক মার্টিন গাপটিল ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই ভয় দেখাতে পারেননি স্বাগতিকদের। যেকোনো সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গাপটিলের প্রথম সেঞ্চুরিটা তাই বিফলেই গেছে। গাপটিলের ১০২ বলের ১১৪ রান ছাড়া আর অন্য কেউই বড় স্কোর করতে পারেননি। ব্যাটসম্যানরা সবাই উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসায় ৪৫তম ওভারে ২৫৬ রানে থেমেছে নিউজিল্যান্ড। সূত্র: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩২৪/৮ (স্মিথ ১৬৪, হেড ৫২, ওয়েড ৩৮; বোল্ট ২/৫১, নিশাম ২/৫৮, হেনরি ২/৭৪)।
নিউজিল্যান্ড: ৪৪.২ ওভারে ২৫৬ (গাপটিল ১১৪, মানরো ৪৯, নিশাম ৩৪; হ্যাজলউড ৩/৪৯, মার্শ ২/৩৮, কামিন্স ২/৬২)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৬৮ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: স্টিভ স্মিথ।