ফর্মে মাত্রই ফিরেছেন, এরপরই জড়ালেন বিতর্কে!
ফর্মে মাত্রই ফিরেছেন, এরপরই জড়ালেন বিতর্কে!ছবি: এএফপি

গতকাল সিডনি টেস্টের শেষ দিনে স্টিভ স্মিথের এক কাণ্ডে চমকে গেছে সবাই। ঋষভ পন্তের ঝড়ে অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারত। এমন সময় স্টাম্প ক্যামেরায় স্মিথের কাণ্ড ধরা পড়লে সবাই বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পানি পানের এক বিরতিতে স্টাম্পের সামনে এসে পন্তের ব্যাটিং গার্ড জুতা দিয়ে ঘষে সমান করে দিচ্ছেন স্মিথ।

দুই বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিশ কাগজ–কাণ্ডে এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন। তবে সে ঘটনায় স্মিথ সহানুভূতিই পেয়েছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটের ওপরই দায় চেপেছিল বেশি। তবু নতুন করে স্মিথের এমন এক কাণ্ড সবাইকে বিস্মিত করেছে। এভাবে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের গার্ড মুছে দেওয়ার চেষ্টাকে প্রতারণা হিসেবে দেখছেন সাবেক অনেক ক্রিকেটার।

টিম পেইন অবশ্য অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের সাফাই গাইছেন। সিরিশ কাগজের সেই প্রতারণার ঘটনাই তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক বানিয়েছিল। কিন্তু দুঃসময়ে বরাবর স্মিথের পাশে থাকা পেইন এবারও বলছেন, সাবেক অধিনায়কের কোনো দোষ নেই। যদি বেআইনি কিছু করতেন, তবে ভারতীয়রাই ম্যাচের সময় এ নিয়ে অভিযোগ তুলতেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

গতকাল একদিকে পূজারা ইনিংস ধরে রেখেছিলেন, অন্যদিকে সময় ও বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন পন্ত। ৯৭ রানের ইনিংসে ৪০৭ রানের লক্ষ্যটাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন পন্ত। সে ইনিংসের সময়টায় অস্ট্রেলীয় বোলারদের অসহায় ঠেকছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্মিথ এসে স্টাম্পের সামনে পন্তের গার্ড মুছে দেওয়ার দৃশ্য দেখার পর তাই প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

যদিও পেইনের দাবি, এভাবে উইকেটে গিয়ে দাঁড়ানো ও জুতা দিয়ে ক্রিজে দাগ সৃষ্টি করা নাকি স্মিথের জন্য নতুন কিছু নয়। সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক নাকি ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যাটসম্যানের স্টান্স বোঝার জন্য ও বোলারের কোথায় বল করা উচিত, সেটা বোঝার জন্য নিয়মিতই এমন করেন, এটা তাঁর স্বভাবজাত, ‘আমি স্টিভের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি এবং যেভাবে পুরো ব্যাপারটা দেখানো হচ্ছে, তাতে সে খুবই হতাশ। আপনি যদি স্টিভ স্মিথকে টেস্ট খেলতে দেখে থাকেন, তাহলে এটা সে প্রতি ম্যাচেই করে। এক দিনে পাঁচ–ছয়বার করে এটা।’

সংবাদ সম্মেলনে পেইন স্মিথের আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘সে বরাবরই ব্যাটিং ক্রিজে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানে দাঁড়িয়ে শ্যাডো ব্যাটিং করে। আমরা সবাই জানি ওর বেশ কিছু অদ্ভুত রীতি আছে, যেগুলো শুধু স্টিভ স্মিথই করে। সেগুলোর একটি হলো সব সময় উইকেটে গিয়ে এভাবে দাগ দেওয়া।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়মিত অনুসরণ করেন—এমন অনেক সাংবাদিকই বলছেন, স্মিথ মাঝেমধ্যেই উইকেটে গিয়ে শ্যাডো ব্যাটিং করেন। গতকাল ম্যাচের আবহ এতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সবকিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা হচ্ছে। আর তাতেই এভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে স্মিথের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ারই সাবেক চায়নাম্যান বোলার ব্র্যাড হগ সে যুক্তি মানছেন না। তাঁর ভাষায়, ‘ওটা তাঁর জায়গা না।’ অর্থাৎ ফিল্ডিংয়ের সময় ব্যাটিং ক্রিজে দাগ দেওয়াটা হগও মানতে পারছেন না। ক্রিকেট আইনের একটি ধারায় উল্লেখ আছে, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পিচে কোনো ফিল্ডারের উপস্থিতি অবৈধ।

পেইন অবশ্য বলছেন, স্মিথ যেভাবে ক্রিজে দাগ দিয়েছেন, তাতে পন্তের গার্ড মোছেনি। স্মিথ বাঁহাতি বনে বোঝার চেষ্টা করছিলেন পন্ত কীভাবে খেলছেন আর স্বভাবজাতভাবেই ক্রিজে পা ঘষেছেন। তাঁর ভাষায়, স্মিথ যদি অন্যায় কিছু করতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ারের কাছে নালিশ চলে যেত, ‘স্মিথ নিশ্চিতভাবেই গার্ড পরিবর্তন করেনি। আর যদি সে করত, ভারতের খেলোয়াড়েরা সে সময় এ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হতো। এটা আমি স্মিথকে বহুবার টেস্ট ম্যাচে করতে দেখেছি। ওর সঙ্গে যত শিল্ড ম্যাচ (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) খেলেছি, সেখানেও দেখেছি। সে ফিল্ডিং করার সময় হেঁটে ক্রিজে যায়। সেখানে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কীভাবে শট খেলবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বেশ সমালোচনা চলছে স্মিথের। ভারতের সাবেক ওপেনার বীরেন্দর শেবাগ ওই ফুটেজ টুইট করেছেন। সঙ্গে, ‘কত চালই না চালা হয়েছে, স্টিভ স্মিথ তো পন্তের ব্যাটিং গার্ডের দাগও ক্রিজ থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করল।’ এতেও যে ভারতকে আঁতকানো যায়নি, সেটাও উল্লেখ করেছেন শেবাগ।

ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট পণ্ডিত ডেভিড লয়েড টুইটারে লিখেছেন, ‘বোকার মতো আচরণ করেছে স্মিথ।’ ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন লিখেছেন, ‘খুব খুব বাজে কাজ স্টিভ স্মিথের!’

স্মিথের আচরণে কোনো ভুল না পেলেও এমন সমালোচনার মুখে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন পেইন। এখন থেকে এমন আচরণ নিয়ে স্মিথকে সতর্ক করবার কথাও বলেছেন অধিনায়ক, ‘ঋষভ পন্তের গার্ড পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে, এটা কোনোভাবেই সম্ভব না। এটা স্মিথের অদ্ভুত খেয়ালের একটি। কিন্তু এখন যেহেতু এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ওর উচিত এ নিয়ে ভাবা। কারণ মানুষ তো এটা অন্যভাবে দেখছে।’

মন্তব্য করুন