default-image

একটু দেরিতে সৌরভ ছড়াতে শুরু করেও হয়ে উঠেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফাস্ট বোলার। ৮ জুলাই থেকে কার্ডিফ টেস্ট দিয়ে শুরু অ্যাশেজে রায়ান হ্যারিস ভালোভাবেই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায়। কিন্তু অ্যাশেজের মাত্র চার দিন আগে সব ধরনের ক্রিকেট থেকেই আচমকা অবসরের ঘোষণা দিলেন রায়ান হ্যারিস। ৩৫ বছর বয়সী এই বোলারের জায়গায় অস্ট্রেলিয়া দলে নিয়েছে ২২ বছর বয়সী পেসার প্যাট কামিন্সকে।
পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই হাঁটুর চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে নিরন্তর। শল্যবিদের ছুরির নিচে গিয়েছেন বেশ কয়েকবার। অনেকবারই তাঁর মনে হয়েছে, আর বুঝি মাঠে ফেরা হবে না। কিন্তু প্রতিবারই ফিরেছেন দাপটের সঙ্গে। এই অ্যাশেজটা খেলেই ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন। বিশ্বকাপের দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সে জন্যই। কিন্তু প্রথম টেস্টের আগে এসেক্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও ছোবল দিল হাঁটুর পুরোনো চোট। দু-দুবার স্ক্যান করার পর যখন নিশ্চিত হওয়া গেল অ্যাশেজে খেলার মতো অবস্থায় ফিরতে পারবেন না, বিদায়ই বলে দিলেন ক্রিকেটকে। ব্যাগ্রি গ্রিন টুপিটা আর পরা হবে না ৩৫ বছর বয়সী পেসারের। গত জানুয়ারিতে ভারতের সঙ্গে খেলা সিডনি টেস্টটাই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকছে।
কাল হ্যারিস নিজেই জানিয়েছেন, ‘গতকাল খবরটা পাওয়ার পর আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয়েছে, ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ঠিক সময়টা এখনই। অসাধারণ একটা ক্যারিয়ার পেয়েছি, সে জন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ব্যাগ্রি গ্রিন পরার গর্বের সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না।’
বিদায় বলাটা সব সময়ই কঠিন। এভাবে বিদায় বলতে হবে, হ্যারিস নিজেও সেটা নিশ্চয়ই ভাবেননি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ছুঁয়ে গেছে আবেগ, ‘কখনোই ভাবিনি ২৭টি টেস্ট খেলতে পারব। আমি প্রতিটি মুহূর্তই উপভোগ করেছি। দল থেকে দূরে সরে যেতে হবে, এটা মেনে নিতে আমার সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে। যাদের সঙ্গে খেলেছি তাদের চেয়ে ভালো সতীর্থ আর পাব না। আমি জানি, এই অস্ট্রেলিয়া দলটি স্পেশাল, ওরা এই অ্যাশেজে গর্বিত করবে। আমি জানি, প্রতিটি বলই আমি দেখব।’ অবসর নিলেও হ্যারিস থাকছেন দলের সঙ্গেই, তরুণ বোলারদের পরামর্শক হিসেবে।
২০১০ ক্যারিয়ারে যখন ক্যারিয়ারের শুরু, তখন বয়স পেরিয়ে গেছে ৩০। কিন্তু পেস ও সুইংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে হ্যারিস ঠিকই আলো ছড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ২৭ টেস্টে ২৩.৫২ গড়ে ১১৩ উইকেট নিয়ে শেষ হলো ক্যারিয়ার। ২১টি ওয়ানডে খেলে ১৮.৯০ গড়ে নিয়েছেন ৪৪ উইকেট। ত্রিশের বেশি বয়সে অভিষেকের পর হ্যারিস ছাড়া আর মাত্র তিনজন টেস্টে ১০০ উইকেট পেয়েছেন—অস্ট্রেলিয়ারই ক্ল্যারি গ্রিমেট, ভারতের দিলীপ দোশি ও পাকিস্তানের সাঈদ আজমল।
সতীর্থদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন ‘রাইনো’। জেসন গিলেস্পি, ইয়ান বেলরা ‘মানুষ’ হ্যারিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আর অস্ট্রেলিয়ার কোচ ড্যারেন লেম্যান বলছেন, হ্যারিস তাঁর দেখা সবচেয়ে প্রতিভাবানদের একজন।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে হ্যারিস মানে বারবার চোটকে হারিয়ে দেওয়া এক বীরের গল্প। এএফপি, ক্রিকইনফো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0