বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নাঈমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বলছিলাম, শুরুটা ধীরে হলেও এক ওভারে ১০–১২ রান এলেই আমরা পুষিয়ে নিতে পারব। এরপর নাঈম এক ওভারে তিনটি চার মারল। তখন ম্যাচটা আমাদের দিকে চলে আসে।
সৌম্য সরকার

হঠাৎ করে পাওয়া সে সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগিয়েছেন এ পর্যন্ত খেলা ৫৪টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচের বেশির ভাগেই ওপেনিংয়ে খেলা সৌম্য। যদিও আজ শুরুর দিকে মানিয়ে নিতে একটু সমস্যাই হচ্ছিল তাঁর। ম্যাচ শেষে সৌম্য বলছিলেন, ‘কথা ছিল আমি তিনে ব্যাট করব। কিন্তু লিটন চোট পাওয়ায় ফিল্ডিং থেকে ওঠার পর কোচ বললেন, আমাকে ওপেন করতে হবে। প্রথম দিকে একটু জড়তা ছিল। যে শটগুলো খেলছিলাম, সবগুলো ফিল্ডারের হাতে চলে যাচ্ছিল। তখন নিজেকে নিজে বলেছি, একটু সময় নেওয়া উচিত।’

সেটা করেই শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৫০ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ সৌম্য সরকার। হুট করে ওপেনিংয়ে নেমে উইকেটে কীভাবে মানিয়ে নিয়েছেন, সেটা শুনুন তাঁর কাছেই, ‘ভেবে দেখলাম, কয়েকটা বল ধীরেসুস্থে খেলে একটা চার বা ছয় এলেই আবার নিজের মতো করে খেলব। সে জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। একটা ছয় মারার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। নাঈমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বলছিলাম, শুরুটা ধীরে হলেও এক ওভারে ১০–১২ রান এলেই আমরা পুষিয়ে নিতে পারব। এরপর নাঈম এক ওভারে তিনটি চার মারল। তখন ম্যাচটা আমাদের দিকে চলে আসে।’

সর্বশেষ ছয় টি–টোয়েন্টিতে এটি তৃতীয় ফিফটি সৌম্যর। সর্বশেষ ফিফটি করেছেন এ বছরেরই এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড সফরে। তার আগে গত বছরের মার্চে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ঢাকায় খেলা অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসটি সৌম্যের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আজ অবশ্য ৫১ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংস এসেছে আরেক ওপেনার নাঈমের ব্যাট থেকেও। ৮ বলে ১৬ রান করা নুরুল হাসানকে নিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তিনি।

default-image

সৌম্যর ব্যাটিং–সামর্থ্য নিয়ে কখনোই প্রশ্ন ছিল না। তবু কখনো টিম কম্বিনেশন, কখনো ফর্মের কারণে দলে নিয়মিত হতে পারেননি তিনি। কম গবেষণা হয়নি তাঁর ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও। অবশ্য সৌম্য যেন মেনে নিয়েছেন, তাঁকে টিকে থাকতে হবে এসবের সঙ্গে লড়াই করেই। তবে লড়াইয়ের কথাই যদি বলেন, নিজের সঙ্গে লড়াইটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়। ‘নিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটাই সবচেয়ে বড়। নিজে যদি ভালো খেলি, তখন অনেক কিছুই সহজ হয়ে যায়। নিজের খেলাটা খেলতে পারলে অবশ্যই আবার নিজের জায়গা পাকা করতে পারব’—হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে বলছিলেন সৌম্য।

জিম্বাবুয়ের ১৫২ রান তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশ যে দুই উইকেট হারিয়েছে, দুটিই রানআউটে। এ নিয়ে আক্ষেপ আছে সৌম্যর, ‘রানআউট নিয়ে হতাশা তো আছেই। যেভাবে খেলছিলাম, খেলা শেষ করে আসতে পারলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ত। আমি থাকলে খেলাটা আরও ২ ওভার আগেই শেষ হতে পারত। ওদের বাঁহাতি স্পিনার ছিল, আমি থাকলে মারতে পারতাম।’

নাঈম–সৌম্যদের সামনে জিম্বাবুয়ের কোনো বোলিং অস্ত্রই আসলে কাজে আসেনি। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট ছোট–বড় দলের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেয় বলে যে একটা কথা আছে, সেটাই যে তাদের বেলায় এখনো প্রযোজ্য নয়! এখন পর্যন্ত ৮৬টি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি খেলে জয় মাত্র ১৯টিতে, ৬৫টিতেই হার। আজকের আগে খেলা সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যেও তাদের জয় মাত্র একটি, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠেই। স্থানীয় সাংবাদিক ল্যারি কুইরিরাই কাল দুঃখ করে বলছিলেন, ‘টি–টোয়েন্টি খেলাটা এখনো শিখতে পারল না আমাদের ক্রিকেটাররা।’

২০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশও যে খুব ভালো তা নয়। জিম্বাবুয়ের যেখানে জয়ের হার ২২ শতাংশের সামান্য বেশি, আজকের ৮ উইকেটের জয়টিসহ বাংলাদেশ ১০০ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৩৩টিতে। হেরে যাওয়া ম্যাচের সংখ্যা জিম্বাবুয়ের মতোই, ৬৫টি।

আমরা সামনে যাদের বিপক্ষে খেলব—অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড—তিনটি দলই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেবারিট। আমরা কোথায় আছি, কোথায় উন্নতি করতে হবে—এসব দেখার ভালো সুযোগ পাওয়া যাবে এই সিরিজগুলোতে।
রাসেল ডমিঙ্গো, বাংলাদেশের কোচ

অক্টোবর–নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসে তাই এই ক্রিকেটটা একটু বেশিই খেলবে বাংলাদেশ দল। একটি ম্যাচ তো আজ হয়েই গেল, বিশ্বকাপের আগে এই সিরিজের বাকি দুই ম্যাচসহ বাংলাদেশ খেলবে আরও ১৫টি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।

বিশ্বকাপ আর হোম সিরিজগুলো সামনে রেখে স্বাভাবিকভাবেই বেশ রোমাঞ্চিত কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। আজ ম্যাচ শেষে এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ প্রথমে যদিও বলেছেন, ‘সামনের সিরিজগুলোর দিকে না তাকিয়ে আপাতত এই সিরিজেই আমাদের সব মনোযোগ’, পরে আবার যোগ করেছেন, ‘বেশ কয়েক সপ্তাহ হলো আমরা টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলছিলাম না। ছেলেরা অপেক্ষায় ছিল টি–টোয়েন্টিতে ফেরার। আমরা সামনে যাদের বিপক্ষে খেলব—অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড—তিনটি দলই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেবারিট। আমরা কোথায় আছি, কোথায় উন্নতি করতে হবে—এসব দেখার ভালো সুযোগ পাওয়া যাবে এই সিরিজগুলোতে।’

সে ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য আসলে ম্যাচ প্রস্তুতিরই সুযোগ। টেস্ট এবং ওয়ানডের শততম ম্যাচ জয়ের মতো আজ শততম টি–টোয়েন্টিতেও আসা জয়ে সেই প্রস্তুতিটা শুরু হলো দারুণভাবেই।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন