বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০২১ সালটা শুরু হয়েছিল করোনাভাইরাসে স্থবির দেশের ক্রিকেটে প্রাণ ফিরিয়ে। নিজেদের প্রিয় সংস্করণ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা হয় তামিম ইকবালদের। ওই সিরিজ দিয়েই আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন সাকিব। কিন্তু ধাক্কাটা আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। উপমহাদেশের বাইরের দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সহজে টেস্ট হারে না, এমন ভাবমূর্তিটা দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল গুঁড়িয়ে দিয়ে যায়। চট্টগ্রামে কাইল মেয়ার্সের সেই অসাধারণ ইনিংস, তারপর ঢাকায়ও হেরে ২-০ ব্যবধান সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ।

মার্চে নিউজিল্যান্ড গিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচে হার। শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে একটু হাওয়া বদল হয়, পাল্লেকেলে টেস্টে ড্র করে মুমিনুলের বাংলাদেশ। একই মাঠে দ্বিতীয় টেস্টে হারলেও ভালো ক্রিকেট খেলে প্রশংসা কুড়ায় টেস্ট দল। একই সময় ভারতে চলছিল আইপিএল। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির যুক্তি দিয়ে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন সাকিব। ছিলেন না মোস্তাফিজও। এ নিয়ে সাকিব ও সাবেক ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে তৈরি হয় বিতর্ক।

সাকিব অবশ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই দলে ফেরেন। তবে সিরিজটি নিজের করে নেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারায় প্রথম দুই ম্যাচে মুশফিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। জয়ের সেই ধারা ছিল জুলাইয়ের জিম্বাবুয়ে সফরেও। একমাত্র টেস্টে ড্র, এরপর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে চওড়া হাসি নিয়ে দেশে ফেরে বাংলাদেশ। ওই সফরে একমাত্র টেস্ট চলাকালীন মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো নিয়ে আলোচনার কমতি ছিল না।

সেই মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালকে ছাড়াই প্রথমে অস্ট্রেলিয়া, এরপর নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসীই মনে হয়েছিল। জয়ের সমন্বয় ভাঙতে চাননি বলে তামিম নিজেই বিশ্বকাপ থেকে নাম সরিয়ে নেন! কিন্তু ঘরের মাঠের সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে পাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের কাছে হারের ধাক্কা, এরপর ওমান ও পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে জিতে সুপার টুয়েলভে গেলেও সেখানে কোনো জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিছুটা লড়াই করলেও বাকি ম্যাচগুলোতে দাঁড়াতেই পারেনি মাহমুদউল্লাহর দল। উল্টো দলের দিকে ধেয়ে আসা সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। বিশ্বকাপের এই ধাক্কা সামলানোর সময়ই পায়নি বাংলাদেশ, এর মধ্যেই পাকিস্তান এসে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজের সব ম্যাচে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস একেবারে নাড়িয়ে দিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহ-মুমিনুলদের। একই সময় জিম্বাবুয়েতে আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বাজে আম্পায়ারিং এবারও শিরোনামে এসেছে। প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে সাকিবের সেই স্টাম্পে লাথি মারার দৃশ্য তো বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের বিতর্কিত এক অধ্যায় হয়েই থাকবে। বিসিবি নির্বাচনের বছরও ছিল এটি। যথারীতি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এক নির্বাচনের মাধ্যমে নাজমুল হাসান তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স বিচারে দেশের ক্রিকেটের জন্য এটা ছিল হতাশার বৃত্তবন্দি এক বছর। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজ কি অন্য কিছু দেখাতে পারবে?

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন