বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আসলে ওমান-আমিরাতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাসকিনের সাফল্যটা শুধু উইকেট-সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে হবে না। বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাসকিন যে ওভারগুলো করেছেন, সেগুলোর দিকে ফিরে তাকালেই বুঝবেন আগের চেয়ে কত বেশি শাণিত এবং পরিণত বোলিং করছেন তিনি এই টুর্নামেন্টে।

তাসকিনের ঝোঁক সব সময়ই গতির দিকে, এটা তাঁর শক্তিও। বল হাতে ১৪০ কিমি গতি নিয়মিতই তোলেন। কিন্তু জোরে বল করা মানেই তো লাইন-লেংথ এলোমেলো হওয়ার ঝুঁকি! তাসকিনের ক্ষেত্রেও অতীতে তা-ই হয়ে এসেছে। বলে একটু জোর দিয়েছেন তো লাইন-লেংথে গড়বড়।

বিশ্বকাপে তাঁর উন্নতিটা এ জায়গাতেই। শুধু ওমানের বিপক্ষে ম্যাচেই এক-দুটি বল এদিক-সেদিক হয়েছে। নইলে গতি এবং লাইন-লেংথ দুটোতেই তাসকিনের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ। মোটকথা, বল তাঁর কথা শুনছে। যার ফলাফল হয়তো সব সময় উইকেটে অনূদিত হচ্ছে না, তবে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ছবি ফুটে উঠছে অন্যভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেই যেমন ৪ ওভারে কোনো উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন মাত্র ১৭।

default-image

এসবেরই পুরস্কার—সুপার টুয়েলভে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গতিতে বল করা সেরা পাঁচ বোলারের মধ্যে বাংলাদেশের তাসকিন একজন। যে দেশে উইকেট বানানো হয় স্পিনারদের জন্য, বোলিং আক্রমণ সাজানো হয় স্পিনারদের প্রাধান্য দিয়ে, যেখানে পেস বোলারদের শাণিত হওয়ার তেমন কোনো সুযোগই নেই; সেই বাংলাদেশের কোনো পেসারের বিশ্বকাপে এমন গতিময় হয়ে ওঠা বাড়তি কৃতিত্ব তো পেতেই পারে।

সুপার টুয়েলভে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গতিময় (ঘণ্টায় ১৫৩ কিমি) বলটি করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার আনরিখ নর্কিয়া। ঘণ্টায় ১৫২ কিমি গতি তুলে এরপরই আছেন পাকিস্তানের হারিস রউফ। তাঁরই সতীর্থ শাহিন আফ্রিদির ১৫১ কিমি গতির বলটা আছে তৃতীয়তে। চারে আছেন ঘণ্টায় ১৫০ কিমি গতির বল করে শ্রীলঙ্কার দুশমন্ত চামিরা। পাঁচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাসকিনের তোলা ১৪৯ কিমি।

default-image

এই গতিতে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুবার বল করেছেন তাসকিন। সুপার টুয়েলভের ম্যাচের আগে প্রথম পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও তুলেছিলেন ১৪৯ কিমি গতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত ম্যাচে চার ওভার বল করে তাসকিন ১৪০ কিমি গতির নিচে বল করেছেন মাত্র একটি। ১৪৫-এর ওপরে গতি উঠেছে প্রতি ওভারেই, প্রায় প্রতি ওভারেই তুলেছেন ১৪৬-১৪৭ কিমি গতি।

তাসকিনের বোলিংয়ের ইতিবাচক পরিবর্তনের খুব কাছের সাক্ষীদের একজন নির্বাচক হাবিবুল বাশার। দলের সঙ্গে থেকেই তিনি দেখছেন তাসকিনের বোলিংয়ের ধার কীভাবে বাড়ছে, ‘ওর পেস অনেক বেড়েছে। আগে যেমন পেস ওঠা-নামা করত, এখন তা নয়। ধারাবাহিকভাবেই ১৪০ কিমি গতির ওপর বল করছে। বলে নিয়ন্ত্রণও দারুণ!’

তাসকিনের স্বপ্ন এখন ১৫০ কিমি গতিতে বল করা। হাবিবুল বাশারের কথায় মনে হলো, সুযোগ পেলে পরের দুই ম্যাচেই সেটি করে দেখাতে চাইবেন তিনি, ‘ও এখনো তৃপ্ত নয়। ও চায় আরও ভালো বল করতে, আরও জোরে বল করতে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দুটিতে চমক কিছু ঘটে না গেলে এই বিশ্বকাপ বাংলাদেশ দলের কাছে হতাশার অন্য নাম হয়েই থাকবে। তবে সেই হতাশার মধ্যেও কেউ যদি একবিন্দু আলোর খোঁজ পান, সেটি হবে তাসকিন-আলো।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন