করোনার কারণে একটু পিছিয়ে গেলেও বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশের এই যুবারা স্বপ্ন দেখছেন আরও বড় কিছুর।
করোনার কারণে একটু পিছিয়ে গেলেও বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশের এই যুবারা স্বপ্ন দেখছেন আরও বড় কিছুর।ছবি: এএফপি

‘একটা বছর চলে গেল!’ ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দারুণ বোলিং করা পেসার তামজিম হাসানের কণ্ঠে যেন কিছুটা আক্ষেপও। এক বছর আগে আজকের এই দিনেই দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ভারতকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে বাংলাদেশ।

দিনটা ওই যুবদলের ক্রিকেটারদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। কাল সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের ওপেনার তানজিদ হাসান যেমন বলছিলেন, ‘ভুলব কেন? এটা কি ভুলে যাওয়ার দিন? এটা তো দারুণ এক স্মৃতির দিন।’

সেদিন রকিবুল হাসানের ব্যাট থেকে আসা জয়সূচক রানে উল্লাসে মেতেছিল বাংলাদেশ। পচেফস্ট্রুমের সেই বিকেলে রকিবুলের সেই উদ্যাপন কার না মনে আছে! তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনারও মাঝেমধ্যে নিজের উদ্যাপনের ভিডিওটা বের করে দেখেন, ‘ওই ম্যাচ জেতানোর মুহূর্তটা সব সময় মনে পড়ে। এটা নিয়ে দলের অনেকের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আড্ডা হয়, ভালোই লাগে।’

রকিবুল সেই দলটাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেন। প্রায় দুই বছর ধরে গড়ে উঠেছিল দলটা। বিশ্বজয়ী সেই দলের খেলোয়াড়দের অনেকেই আপাতত ‘হাই পারফরম্যান্স দলে’ থাকলেও বয়সভিত্তিক দলের সেই আমেজ নেই। রকিবুল তাই বলছিলেন, ‘ওই দলটাকে খুব মিস করি। ওই দলটা তো আর এক হবে না।’

default-image
বিজ্ঞাপন

যুবদলের অনেকেই হাই পারফরম্যান্স দলের ক্যাম্প থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছেন। তবে এই এগিয়ে যাওয়ার শুরুটা হওয়ার কথা ছিল আরও এক বছর আগেই। বিশ্বকাপজয়ীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে বিসিবি বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছিল। করোনার কারণে যার সবই ভেস্তে যায়। পেসার তানজিমের হতাশাটা সেখানেই, ‘সবকিছুই একটু দেরি হয়ে গেল। কিন্তু কিছু করার নেই। সারা দুনিয়াই তো বন্ধ ছিল।’

তাতে অবশ্য আকবরদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ হয়নি। বিশ্বকাপজয়ী দলের আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন যেমন কদিন আগেই ডাক পেয়েছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। পরে চোটের কারণে ছিটকে পড়লেও পারভেজ হাল ছাড়ছেন না, ‘সবাই কিন্তু নিজেদের কীভাবে ভবিষ্যতের জন্য গড়া যায়, সেটা নিয়ে ভাবছে।’

সেই যুবদলের অলরাউন্ডার শামিম পাটওয়ারিও গত বছর হয়ে যাওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে নিজের প্রতিভা দেখিয়ে নজর কেড়েছেন। তিনিও কাল পারভেজের সুর ধরে বললেন একই কথা, ‘অনেকটা সময় চলে গেছে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় দলে খেলতে হবে। এখন সবার স্বপ্ন এটাই।’

default-image

আর সবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার বড় প্রেরণা হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপাটা আছেই। অনুপ্রেরণার জন্য ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারিতে ফিরে তাকালেই হলো। বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার তামজিম সেটাই করতে চান, ‘সামনেও হয়তো অনেক বড় ম্যাচ খেলব। তখন ওই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারব।’

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন