হনুমা বিহারি গতকাল সিডনি টেস্টের শেষ দিন দেখিয়েছেন দৃঢ়চেতা মানসিকতা। অথচ গায়ক ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় মনে করেন একটু মেরে খেললেই নাকি ম্যাচটা ভারত জিততে পারত!
হনুমা বিহারি গতকাল সিডনি টেস্টের শেষ দিন দেখিয়েছেন দৃঢ়চেতা মানসিকতা। অথচ গায়ক ও মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় মনে করেন একটু মেরে খেললেই নাকি ম্যাচটা ভারত জিততে পারত!ছবি: এএফপি

হনুমা বিহারি কাল সিডনি টেস্টের শেষ দিন কী ব্যাটিংটাই না করলেন! রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ভারতকে বাঁচিয়েছেন হার থেকে। এ জুটি ২৫৯ বল মোকাবিলা করে দাঁতে দাঁত চেপে তিনি অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণকে হতাশ করেছেন তাঁদের ধৈর্যশীল, স্থিতধী ব্যাটিং দিয়ে। বিহারি নিজে মাত্র ২৩ রান করেছেন ১৬১ বল খেলে। অশ্বিনও ১২৮ বল খেলে করেছেন ৩৯ রান। পরিস্থিতির চাওয়া অনুযায়ীই ছিল এ জুটির ব্যাটিং, যে ব্যাটিংকে রীতিমতো প্রশংসায় ভাসাচ্ছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া।

কিন্তু সংগীতশিল্পী ও ভারতের কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়রই এমন ব্যাটিং ভালো লাগেনি। বিশেষ করে হনুমা বিহারিকে নিয়ে তিনি খুবই বিরক্ত। ভারতের এই তরুণ ব্যাটসম্যান যখন চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লড়ে যাচ্ছেন দলকে হার থেকে বাঁচাতে, ঠিক তখনই বাবুল একটা টুইট করে নিজের বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটের পরিস্থিতি না বুঝে ভারতীয় সংগীতশিল্পী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এমন টুইট জন্ম দিয়েছে ব্যাপক হাস্যরসের। নেটিজেনরা তাঁকে পরামর্শই দিয়েছেন খেলা না বুঝে এমন ফালতু মন্তব্য না করতে।

বিহারি তখন ১০৯ বলে ৭ রান করে অপরাজিত। ঠিক সেই সময় বাবুলের টুইট, ‘৭ রান করতে ১০৯ বল! একে নির্মমতা বললেও কম বলা হয়। হনুমা বিহারি কেবল ভারতের ঐতিহাসিক এক জয়ের সুযোগই নষ্ট করছে না, সে ক্রিকেটকেও খুন করছে। জেতার পথে না হাঁটা, সেটা যতই সংকীর্ণ হোক না কেন, একধরনের অপরাধ।’ তিনি অবশ্য টুইটের শেষে যোগ করেন, ‘আমি জানি, আমি ক্রিকেটটা কম বুঝি।’

বিজ্ঞাপন

বাবুলের এ টুইট দেখে অনেকেই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে আপনাকে মন্তব্য করতে হবে না। গানবাজনা আর রাজনীতি নিয়েই থাকুন।’ তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সংকীর্ণতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। একজনের মন্তব্য, ‘টুইটার অ্যাকাউন্টে নামের পাশে ওই নীল ছাপলেই তাঁর বুদ্ধিবৃত্তি নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়।’

default-image

তীব্র ট্রল আর সমালোচনার মুখে বাবুল অবশ্য কিছুক্ষণ পর আরও একটা টুইট করেছেন। তবে তিনি তাতে জানিয়েছেন, আগের টুইটের বক্তব্য থেকে তিনি সরে আসবেন না, ‘যদি হনুমা একটু উদ্যোগী হতো, কেবল দাঁড়িয়ে না থেকে খারাপ বলগুলোয় মারত, তাহলে ভারত একটা ঐতিহাসিক জয় পেলেও পেতে পারত। ঋষভ পন্ত যা করেছে, সেটা কেউই প্রত্যাশা করেনি। আমি আবারও বলছি, সেট ব্যাটসম্যান হিসেবে হনুমা বাজে বলগুলো মারতে পারত।’

ভারতীয় মন্ত্রী যা-ই বলুন না কেন, কাল হনুমা বিহারির ব্যাটিং নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কপিল দেব থেকে শুরু করে শচীন টেন্ডুলকারসহ অনেকেই। ভারত একজন দুর্দান্ত টেস্ট ক্রিকেটার পেয়ে গেল—এমন মন্তব্যও করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু বাবুল সুপ্রিয় স্রোতের বিপরীতে গিয়েই শুধু নয়, ক্রিকেটীয় ব্যাপার-স্যাপারগুলোকে কেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন মন্তব্য করে ফাঁসলেন, সেটা একটা বড় প্রশ্ন।

মন্তব্য করুন