অনুশীলনে পাকিস্তান ক্রিকেট দল
অনুশীলনে পাকিস্তান ক্রিকেট দলছবি: টুইটার

এশিয়ায় টেস্ট জিততে কেমন লাগে, ভুলেই গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু আফগানিস্তানেই সফর করা বাকি। না হলে গত ছয় বছরে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান—চার দেশেই খেলা হয়ে গেছে তাদের।

কিন্তু টেস্টে জয় পাওয়া হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ এশিয়া জয়ের স্মৃতি ২০১৪ সালে। সেবার জুনে লঙ্কানদের ১৫৩ রানে হারিয়েছিল তারা। এরপর থেকেই এশিয়ার মাটিতে জয় পাচ্ছে না দলটি।

এরপর ১৩টি টেস্ট খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক বদলেছে একাধিকবার। কিন্তু ফল বদলায়নি। সর্বশেষ ৮ ম্যাচেই হেরেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

সে টেস্টে অবশেষে জয়খরা কাটাতে চায় তারা। না জিতেও উপায় নেই। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে হেরে বসায় পরের ম্যাচে ড্র করলেও সিরিজে হারবে তারা।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়বঞ্চিত করতে পারলেই আরেকটি ভুলে যাওয়া স্মৃতি ফিরে আসবে পাকিস্তানে। ১৭ বছর দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট সিরিজে হারানো হয়নি পাকিস্তানের।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে খুব অস্থির এক সময় কাটছে। দুদিন পরপর ক্রিকেট বোর্ডে অদলবদল হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশটিকে টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

অবশেষে কুইন্টন ডি কককে আপাতত টেস্টে অধিনায়কত্ব করার জন্য রাজি করিয়েছেন নির্বাচকেরা। ডি ককই তাই এশিয়া দলের দুর্দশা নিয়ে কথা বললেন। টানা হারের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজছেন, আপাতত এটাই জানালেন প্রোটিয়া অধিনায়ক, ‘আমি জানি, দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের রেকর্ড খুব ভালো নয়। আমরা এখানে বেশ কয়েকটি সিরিজ জিতেছি এবং আমি নিজেও কয়েকটিতে ছিলাম। এখন আমরা এটা (হারের ধারা) বদলানোর উপায় খুঁজতে চাই।’

করাচিতে যেভাবে খেলছে প্রোটিয়ারা, তাতে হারের ধারা থামানো কঠিন। দুই ইনিংসেই টপ অর্ডার ভালো অবস্থান এনে দিয়েছিল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ১১২ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিনেই ম্যাচটা পাকিস্তানের কাছে সঁপে দেয় সফরকারী দল।

দ্বিতীয় ইনিংসের ধসটা আরও কষ্টদায়ক। একপর্যায়ে ১ উইকেটে ১৭৫ রান ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সেখান থেকে ২৪৫ রানে অলআউট! ফলে রাওয়ালপিন্ডিতে পেসারদের দাপট দেখানোর কথা থাকলেও প্রোটিয়াদের জয়ের সম্ভাবনা কেউ দেখছেন না।

ওদিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর ঘরের মাঠে প্রথম কোনো তথাকথিত বড় দলকে হারানোর অপেক্ষায় পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ড সফরে দলটির আত্মবিশ্বাস রীতিমতো তলানিতে নেমে গিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে দলের পারফরম্যান্স সাবেকদের মুখ খুলে দিয়েছিল।

এমন অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় বাবর আজমদের আবার সাহস জোগাচ্ছে, ‘আমাদের জন্য এ জয় দরকার ছিল। নিউজিল্যান্ডে গত সিরিজ ভালো যায়নি। হ্যাঁ, এখন ঘরের মাঠে খেলছি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা একটি শীর্ষ দল এবং তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। আমরা খেলোয়াড়দের বলেছি আত্মবিশ্বাসী হতে। আমি চাই না ওরা চাপ নিক। বরং ভুল থেকে শিখুক এবং সেরাটা দিক।’

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন