বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তা হারারেতে কেমন কাটছে ক্রিকেটারদের ঈদ? সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে পেসার তাসকিন আহমেদ বলছিলেন, ‘পরিবারকে খুব মিস করছি। কিন্তু কিছু করার নেই। দেশের হয়ে খেলতে এসেছি, এটাও একটা আনন্দের বিষয়। আর এখানে আমরাও একটা পরিবারের মতো। হয়তো মা–বাবা, আমার আড়াই বছরের ছেলে তাসফিক; ওকেও মিস করছি অনেক। তারপরও ভালো লাগছে যে আল্লাহর রহমতে আমরা এখানে ঈদের নামাজ পড়তে পারলাম।’

default-image

আগের দিন দারুণ এক ইনিংস খেলা নুরুল হাসানও সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে বলেছেন, ‘সবাই সুস্থভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন, এটাই আশা।’

সিরিজ উপলক্ষে হারারেতে আসা আরেকটা দল আছে ব্রন্টে গার্ডেন হোটেলে। দল বলতে বাংলাদেশ থেকে আসা কয়েকজন সাংবাদিক এবং টেলিভিশন সম্প্রচারের কাজে নিয়োজিত টোটাল স্পোর্টসের লোকজন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় মনোরম এই হোটেলের সুইমিংপুলের পারে ঈদের নামাজ পড়েছেন বাংলাদেশের দুই ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান ও শামীম আশরাফ চৌধুরী, পাকিস্তানের ধারাভাষ্যকার সিকান্দার বখত, টোটাল স্পোর্টসের হেড অব প্রোডাকশন তানভীর আহমেদ এবং সিরিজ কাভার করতে আসা বাংলাদেশের চার সাংবাদিক।

default-image

ব্রন্টে গার্ডেন হোটেলে ঈদের নামাজ পড়িয়েছেন আতহার আলী খান। এ নিয়ে দুই দিন ধরেই তাঁর প্রস্তুতি, যেন নির্ভুলভাবে নামাজ পড়ানো যায়।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ধারাভাষ্যকার হিসেবেই পরিচয় বাংলাদেশ দলের সাবেক এই ক্রিকেটারের। যেখানেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, সেখানেই তিনি। তবে ১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফির পর এবারই প্রথম ঈদে পরিবারের সঙ্গে নেই আতহার আলী। মাঝে দেশের বাইরে আরও দু–একবার ঈদ করলেও স্ত্রী সঙ্গে ছিলেন।

১৯৮৬ সালের আইসিসি ট্রফির কথা মনে করে আতহার বলছিলেন, ‘সম্ভবত কোনো একটা ম্যাচের আগের দিন ঈদ ছিল। বার্মিংহামে আমরা অনুশীলন করতে গিয়ে মাঠেই ঈদের নামাজ পড়েছিলাম।’

default-image

খেলার সময়ের ঈদ নিয়ে মজার স্মৃতি আছে আরেক ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরীরও, ‘২০০৩ বিশ্বকাপে ডারবানে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। আমি ধারাভাষ্যে বলেছিলাম, বাংলাদেশ দল নিশ্চয়ই কানাডাকে হারিয়ে দেশের মানুষকে ঈদ উপহার দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ম্যাচটা ৬০ রানে হেরে যাই।’

ব্রন্টে গার্ডেন হোটেল ঈদ উদ্‌যাপন করা মানুষের সংখ্যা টিম হোটেল ক্রেস্টা লজের চেয়ে কম হলেও ঈদের আমেজটা যেন এখানেই বেশি! ঈদ উপলক্ষে আজ হোটেলের রান্নাঘর দখলে নিয়ে নিয়েছেন টোটাল স্পোর্টসের তানভীর আহমেদ। হোটেলে থাকা বাংলাদেশি অতিথিদের জন্য দুপুরে নিজ হাতে রান্না করছেন ঈদের বিশেষ খাবার।

পরিবার–পরিজনহীন ঈদ ক্রিকেটের সঙ্গে থাকাদের জন্য নতুন নয় অবশ্য। আতহারের কথা তো শুনলেনই, ঈদে দেশের বাইরে থাকার ঘটনা এরপরও অনেকবারই ঘটেছে ক্রিকেটারদের জীবনে। এবারের আগে যেমন বাংলাদেশ দল সর্বশেষ দেশের বাইরে ঈদ করেছে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের সময়। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সেবার রোজার ঈদটা তাদের কেটেছিল লন্ডনে।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন