বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর আগে ২৭ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে সাইফউদ্দিনের ফিফটি আছে দুটি, এর মধ্যে জেতা ম্যাচে একটি। ক্যারিয়ারে এরপর সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ২৮, সেটিও এসেছিল প্রথম ইনিংসে। রান তাড়া করে বাংলাদেশ জিতেছে, এমন ওয়ানডে ম্যাচে এর আগে কখনো তিনি ব্যাটিং করেননি!

টি-টোয়েন্টিতেও রান তাড়া করে জেতা ম্যাচে ব্যাটিং করেছেন মাত্র একবার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সাইফউদ্দিন যখন ক্রিজে আসেন, জয় থেকে ৬৯ রান দূরে বাংলাদেশ। এমন চাপের মুহূর্তে রোববারের ম্যাচটি তাই সাইফউদ্দিনের জন্য ‘নতুন’ অভিজ্ঞতা, অন্তত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

default-image

সাইফউদ্দিন বলেছেন, এ ক্ষেত্রে তাঁর কাজে এসেছে ফেনীতে খেলা এমন পরিস্থিতির এক ম্যাচ, ‘সত্যি বলতে আমার ক্যারিয়ার শুরু বয়সভিত্তিক দলে ব্যাটসম্যান হিসেবে। এর চেয়ে বড় চাপের মুহূর্তে আমি ব্যাটিং করেছি, যখন বয়সভিত্তিক দলে ফেনীর হয়ে খেলি। তখন দেখা গেছে ৪০ রানে ৫-৬ উইকেট পড়ে যেত। তখন একদিকে আমি খেলে স্কোর ২০০ পর্যন্ত নিয়ে যেতাম। তবে ওই পরিস্থিতি তো ছিল বয়সভিত্তিক দলে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ অবশ্যই আলাদা। চট্টগ্রামের হয়েও যখন বয়সভিত্তিক খেলি, চাপের মুহূর্তে খেলেছি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম এমন ছিল, ওই সময় সেসব অভিজ্ঞতা আমি বারবার মনে করেছি। এভাবেই ব্যাট করেছি।’

ম্যাচ শেষে কৃতিত্বের অনেকটা সাইফউদ্দিনকে দিয়েছিলেন জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। সাইফউদ্দিন বলছেন, সাকিবের সঙ্গে এমন একটা জুটি ছিল তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো, ‘৬৯ রান দরকার ছিল নামার সময়। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল তার (সাকিবের) সঙ্গে খেলে জুটি গড়ার। আগেও বলেছিলাম এ কথাটা। সুযোগটা কাল এসেছিল। মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখার জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি। অনেক সময় আলগা বল পেয়েছি, তবে দলের প্রয়োজনে “ডট” বল খেলেছি (ডিফেন্ড করেছি), তুলে মারিনি। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, সাকিব ভাই অনেক সমর্থন দিয়েছে। এ জন্য আমার কাজটা আরও সহজ হয়েছে।’

default-image

শুরুতে রান নেওয়ার বোঝাপড়ায় সাকিবের সঙ্গে সাইফউদ্দিনের একটু সমস্যা হচ্ছিল। সেটা হয়তো ম্যাচ পরিস্থিতিতে চাপের কারণে। তবে সাইফউদ্দিন প্রস্তুত ছিলেন, ‘অনেক চাপের মুহূর্ত হলেও এ সময়টার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। হবে কি হবে না, সেটা তো পরের ব্যাপার। তবে চেষ্টা করেছি নিজের প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখতে। যেহেতু সাকিব ভাই ক্রিজে ছিলেন, আত্মবিশ্বাস ছিল। যদি ডট না দিয়ে সিঙ্গেল নিতে পারি, ম্যাচটা কাছাকাছি নিতে পারি, ইনশা আল্লাহ, আমাদের পক্ষে আসবে ফল। সেটাই হয়েছে।’

সাইফউদ্দিন দ্বিতীয় ম্যাচে নেমেছেন ৯ নম্বরে। মেহেদী হাসান মিরাজ, আফিফ হোসেনের পর এসেছেন তিনি। সাইফউদ্দিনের কাছে এ ইনিংসটা ছিল নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখানোর, ‘সুযোগ সব সময় আসে না। ব্যাটসম্যান হিসেবে এর আগে নিজেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেভাবে প্রমাণ করতে পারিনি। অবশ্যই চাইব না যে সবাই আউট হয়ে যাক, আর আমার সুযোগ আসুক। তবে যেহেতু সুযোগ এসেছে, চেষ্টা করেছি কাজে লাগানোর। এটি ছিল আমার ব্যাটিং সামর্থ্য দেখানোর একটা উপলক্ষ। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার ছোট অবদানে দল জিতেছে, এতেই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত আমি।’

default-image

শুধু এ ম্যাচ নয়, সব সময়ই এমন মুহূর্তের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান সাইফউদ্দিন। এ জন্য ফিট থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি, ‘এর আগে প্রিমিয়ার লিগে প্রায় ২৫ দিনে ১৬টা ম্যাচ খেলেছি, এরপর লম্বা ভ্রমণ করে এখানে আসা। শরীরের ওপর ধকল গেছে। তবে আবার ম্যাচ আছে বলে দিনভর ঘুমানোর সুযোগ তো নেই। তাই সকালে নাশতা করেই জিমের কাজটা সেরে ফেলেছি। নিজেকে যেভাবে ফিট রাখা যায়। সামনে অনেক খেলা আছে, বিশ্বকাপ আছে। ফিট থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স এক দিন হবে, এক দিন হবে না। কিন্তু ফিট থাকলে যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারব। যেহেতু সামনে অনেক খেলা, সেহেতু ফিট থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। সব খেলোয়াড়ই সকাল-বিকেল ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। আমিও ব্যতিক্রম নই।’

কাল হারারেতে ওয়ানডে সিরিজে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ বলে এ ম্যাচেও ১০ পয়েন্ট তুলে নিতে চায় বাংলাদেশ। এ কারণে জিম্বাবুয়েকে এই সিরিজে ধবলধোলাই করতে চান বলে জানিয়েছেন সাইফউদ্দিন।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন