গত বছরের ডিসেম্বরে কায়েদে আজম ট্রফির প্রথম ম্যাচে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবের হয়ে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে হঠাৎ বুকের ব্যথা অনুভব করেন আবিদ আলী। এরপর ধাক্কাটা আসে চিকিৎসকের রিপোর্ট হাতে পেয়ে। জানতে পারেন, বুকের মধ্যে বাসা বেঁধেছে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম। অথচ তার কদিন আগে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে শতক ও অর্ধশতক করে পাকিস্তানের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন এই ওপেনার।

এরপরই জীবন মোড় নেয় দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায়। আশঙ্কা জাগে, ২২ গজে ফিরতে পারবেন তো!

এনজিওপ্লাস্টি অস্ত্রোপচারে হার্টে পরানো হয় দুটি স্ট্যান্ট। পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শেষ না হতেই হাতে তুলে নেন প্রিয় ব্যাট। সব দুশ্চিন্তা, শঙ্কা কাটিয়ে চার মাস পর নেমে পড়েন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে। আর সেখানে ফিরেই যেন সেই পুরোনো আবিদ। চট্টগ্রাম টেস্টের পর যে ঝড় বয়ে গেছে আবিদের জীবনে, তা যেন ভুলেই গেলেন ক্রিকেট মাঠে ফিরে।

কঠিন সময় পেছনে ফেলে নতুনভাবে ফিরেছেন আবিদ। ম্যাচ শেষে তাই সৃষ্টিকর্তার প্রশংসার পাশাপাশি পরিবার ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানান তিনি, ‘অস্ত্রোপচারের পর প্রথম ম্যাচে স্নায়ুচাপে ছিলাম কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা, মাঠে সময়টা ভালোই কেটেছে। কঠিন সময়ে পাশে থাকা ও সাহস জোগানোর জন্য পরিবার ও ভক্তদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ পুনর্বাসনের পর প্রথম ম্যাচের এমন পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে আবিদকে, ‘ইনিংসটি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং আরও কিছু ম্যাচে ভালো খেলে আমার ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক রাখার চেষ্টা করব। আবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করাই আমার লক্ষ্য।’

পাকিস্তানের জার্সিতে অভিষেক টেস্টে শতক পাওয়া আবিদ এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৬টি টেস্ট। চার শতক ও তিন অর্ধশতকে ৪৯.১৬ গড়ে ১১৮০ রান করেছেন। ওয়ানডেতে ৬ ইনিংসে একমাত্র শতক ও অর্ধশতকে ৩৯.০০ গড়ে রান করেছেন ২৩৪। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ হয়নি আবিদের।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন