সেই ১৯৯৬ সালের কথা। কোয়েটায় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমেছে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। সবাইকে চমকে দিয়ে ১৪ বছর বয়সী একজনকে ওয়াসিম আকরাম, শহীদ আফ্রিদি, সাঈদ আনোয়ারদের সঙ্গে খেলতে নামিয়ে দিল পাকিস্তান। কিশোর অলরাউন্ডারের নাম হাসান রাজা। ব্যাট হাতে ১১ রান করলেও সে বল হাতে কিছু করার সুযোগ পায়নি সেদিন।

ব্যাটে-বলে তেমন ঝলক না দেখিয়েও ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই হয়ে গেল হাসানের। কারণ? ওই যে, বয়স! ইতিহাস ঘেঁটে জানা গেল, এত কম বয়সে কারও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব নেই। পরে এই রেকর্ড নিয়ে অনেক তদন্ত, অনেক কাটাছেঁড়া হলেও শেষমেশ ১৪ বছর ২৩৩ দিনে অভিষিক্ত হওয়া হাসানের কাছেই রয়ে গেছে রেকর্ডটা। তবে আইসিসি এবার যে নিয়ম চালু করতে চলেছে, তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও হাসান রাজাদের আসার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

default-image
বিজ্ঞাপন

ন্যূনতম ১৫ বছর বয়স না হলে এখন কেউ আইসিসি আয়োজিত কোনো ম্যাচ, টুর্নামেন্ট, এমনকি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটেও অংশ নিতে পারবে না। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা জানিয়েছে, পুরুষ, নারী কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে খেলতে চাইলে এখন থেকে যেকোনো খেলোয়াড়ের বয়স ন্যূনতম ১৫ হতে হবে। তবে একদম বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আইসিসির কোনো সদস্যদেশ যদি চায়, ১৫ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় খেলাতে পারবে। সে ক্ষেত্রে আইসিসি বেশ কিছু দিক বিবেচনা করে অনুমতি দেবে, একদম বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, সদস্যদেশ আইসিসিতে আবেদন করতে পারবে ১৫ বছরের কম বয়সের কোনো খেলোয়াড় খেলানোর জন্য। সে ক্ষেত্রে ক্রিকেটার হিসেবে ওই খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা কেমন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর মতো তার যথেষ্ট মানসিক পরিপক্বতা এসেছে কি না, সেগুলো বিবেচনা করবে আইসিসি।

হাসান রাজা ছাড়াও আরও দুজন এই পর্যন্ত ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছেন। তাঁরা হলেন রোমানিয়ার মারিয়ান ঘেরাসিম ও কুয়েতের মিত ভাবসার।

মন্তব্য পড়ুন 0