পাওয়ারপ্লের শুরু আর শেষে দুই দলের দারুণ মিল। গুজরাট প্রথম ওভারেই তুলেছে ১৭ রান, আর হায়দরাবাদ ১৭ রান পেয়েছে ষষ্ঠ ওভারে। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমারের প্রথম ওভারটি ইনিংসের গতি ঠিক করে দেয়নি। লকি ফার্গুসনের ওভারটি তাই করেছে। ১৬৩ রানের লক্ষ্যে হায়দরাবাদের শুরুটা দেখলে ভ্রু কুঁচকে উঠতে বাধ্য। মোহাম্মদ শামি ও হার্দিক পান্ডিয়াকে যতটা সম্ভব সম্মান দিয়ে পার করেছেন অভিষেক শর্মা ও কেইন উইলিয়ামসন।

ম্যাচটা যে টি-টোয়েন্টি, সেটি প্রথম মনে হয়েছে পঞ্চম ওভারে। শামির প্রথম বলে চার, পরের বলেই দারুণ এক ছক্কা উইলিয়াসনের। ওভারের বাকি বলগুলোয় আর কিছু না হলেও সে ওভার থেকে ১৪ রান পেয়ে গেছে হায়দরাবাদ। রানরেট তবু ৬ পেরোয়নি দলটির। সে খেদ তাড়ালেন অভিষেক। লকি ফার্গুসনের প্রথম তিনটি বলকে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করলেন। পঞ্চম বলে থার্ডম্যান দিয়ে চার। ১৭ রান এল ফার্গুসনের প্রথম ওভার থেকে।

৬৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে অভিষেক (৪২) ফিরেছেন নবম ওভারে। উইলিয়ামসনের রান তখন ২১ বলে ২২। তবু কোনো তাড়াহুড়া দেখাননি। ১২ ওভার শেষেও হায়দরাবাদের রান ছিল ১ উইকেটে ৮২। ৮ ওভারে তখনো দরকার ৮১ রান। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক পান্ডিয়াকে দ্বিতীয় স্পেলে আসতে দেখেই উইলিয়ামসন রান তোলার প্রয়াস পেলেন। টানা দুই ছক্কায় ১৩তম ওভার থেকে তুলে নিলেন ১৬ রান। একটু পর আহত হয়ে চলে গেছেন রাহুল ত্রিপাতি (১৭*)। কিন্তু উইলিয়ামসন সেটা আমলে নেননি।

১৬তম ওভারে ফার্গুসনকে স্কুপ করে ছকা, আর তাতে পঞ্চাশ পেরোলেন উইলিয়ামসন। সে ওভারেই আরেকটি চারে লক্ষ্য ৪ ওভারে ৩৪-এ নামিয়ে আনেন উইলিয়ামসন।

নিজের শেষ ওভার করতে এসে প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে থামিয়েছেন পান্ডিয়া। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় ৫৭ রান করা উইলিয়ামসনের। সে ওভারে ৬ রান দিয়ে ম্যাচটা একটু জমানোর চেষ্টাও ছিল পান্ডিয়ার। কিন্তু উইকেটে যে নিকোলাস পুরান ছিলেন।

পরের ওভারেই ফার্গুসন নিজের বলে পুরানের ক্যাচ ফেলেছেন। পরের দুই বলে চার ও ছক্কায় এর মূল্য বুঝিয়েছেন পুরান। ১৮ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলেন পুরান। তাঁর সঙ্গী ৮ বলে ১২ রান করা এইডেন মার্করাম।

এর আগে গুজরাটের ইনিংস ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রথম ওভারে ১৭ রান পাওয়া দলটি ৮ ওভারের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে। অধিনায়ক পান্ডিয়াকে তাই স্বভাববিরুদ্ধ এক ইনিংস খেলতে হয়েছে। অ্যাংকরের ভূমিকায় খেলা পান্ডিয়া যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন ১৪তম ওভারে। অভিনব মনোহরের সঙ্গে তাঁর ৫০ রানের জুটিটি এসেছে ৩২ বলে। এতে অবশ্য প্রতিপক্ষ ফিল্ডারদেরও ভূমিকা ছিল। মোট চারবার ক্যাচ ফেলেছে হায়দরাবাদ। ২১ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে অভিনব তিনবার জীবন পেয়েছেন। ৭ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান তুলতে পেরেছে গুজরাট। ৪২ বলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন পান্ডিয়া।

ঘণ্টায় ১৫৩.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে আইপিএলে ভারতীয় বোলারদের সবচেয়ে দ্রুতগতির বলের নিজের রেকর্ড আবার ভেঙেছেন উমরান মালিক। তবে ১ উইকেট পেতে ৩৯ রান খরচ করেছেন এই পেসার। প্রথম ওভারে ১৭ রান দেওয়া ভুবনেশ্বর বাকি ৩ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন। ওয়াশিংটন সুন্দর ৩ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে গুজরাটকে আটকে রাখার কাজটা সামলেছেন।