মাঠ আর উইকেট আলাদা করা যায় না এমন উইকেট। সে উইকেটে শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার থরহরি কম্প অবস্থা। মারনাস লাবুশেনের পাল্টা আক্রমণ। লাবুশেনের পা পিছলে পড়ে ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়া। ট্রাভিস হেডের আগ্রাসন। ক্যামেরন গ্রিনের নিজের জায়গা থিতু করা। ইংল্যান্ডের আবারও ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা।

হোবার্টে প্রথম দুই সেশনে এভাবেই মুহূর্তে মুহূর্তে রং বদলেছে টেস্ট। অ্যাশেজের শেষ ম্যাচে জমজমাট এক ম্যাচে বাগড়া বসিয়েছে বৃষ্টি। শেষ সেশনে দিনের শুরুতে হারিয়ে ফেলা ওভারগুলো পুষিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাতের সেশনে মাত্র ৭.৩ ওভার খেলা হতে দিয়েছে বৃষ্টি। ৬ উইকেটে ২৪১ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া।

ওয়ার্নার ও স্মিথকে উয়াট করেছেন রবিনসন, তাঁর বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন লাবুশেনও
ছবি: রয়টার্স

দিনের খেলা শুরু হয়েছিল একটু দেরিতে। টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়া জো রুটের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তাঁর পেসাররা। ৬ ওভার টিকে থেকেও কোনো রান করতে পারেননি ডেভিড ওয়ার্নার। ২২ বল খেলে শূন্য হাতে ফিরেছেন ওয়ার্নার। তাঁর বাল্যবন্ধু ওয়ার্নারের চেয়ে ৪ বল বেশি খেলেছেন। ২৬ বলে ৬ রান করে উসমান খাজা ফিরেছেন ৩ ওভার পরই। ৯ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৭। পরের ওভার শেষ করার আগেই ফিরে গেছেন স্টিভ স্মিথ (০)। ১২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া তখন কাঁপছে। জিমি অ্যান্ডারসনকে কেন বসিয়ে রাখল ইংল্যান্ড, সে প্রশ্ন তখনো অতটা জোরালো হয়নি।

সেটা জোরালো করেছেন ট্রাভিস হেড। দশম ওভারে দলের ১২ রানে নেমেছিলেন, ৪৯তম ওভারে ফিরেছেন। মাঝের ৩৯ ওভারে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ১৯২ রান। এর ১০১-ই তাঁর। ১১৩ বলের ইনিংসে ১২টি চার ছিল। সে সঙ্গে ছিল ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে সুযোগসন্ধানী রান নেওয়ার চেষ্টা। এই অ্যাশেজে নিজের দ্বিতীয় শতকেও প্রথম শতকের মতোই আগ্রাসনকে অস্ত্র মেনেছেন হেড। যদিও আজকের পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে ব্রিসবেনের চেয়ে অনেক কঠিন ছিলর

প্রথম ১০ ওভার ইংল্যান্ড সিরিজে তাদের সেরা বোলিং করেছে। স্টুয়ার্ট ব্রড ও ওলি রবিনসন মিলে রীতিমতো কোণঠাসা করে রেখেছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু মার্ক উড ও ক্রিস ওকসকে পেয়েই প্রতি–আক্রমণে গেছেন লাবুশেন ও হেড। ৭৪ বলের জুটিতে ৭১ রান তুলেছেন দুজন। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগে অদ্ভুত এক আউটের মাধ্যমে হাসিঠাট্টার জন্ম দিয়েছেন লাবুশেন। ব্রডের স্টাম্প থেকে সরে এসে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন। পুরো ইনিংসেই এভাবে খেলেছেন অস্থির পায়ের এই ব্যাটসম্যান।

শেষ সেশনে গ্রিনকে আউট করেছেন উড
ছবি: রয়টার্স

কিন্তু ২৩তম ওভারের সে বলে লাইন মিস করেছেন লাবুশেন (৪৪)। বল তাঁকে অতিক্রম করে গেছে সেটা বুঝতে যখন পেরেছেন, তখন আর কিছু করার ছিল না, কিন্তু সেটা আটকানোর একটা স্বভাবজাত প্রতিক্রিয়াতে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে উইকেটের ওপর আছড়ে পড়েছেন। আউট হওয়ার সে দৃশ্য দেখে সতীর্থ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আর সহ-অধিনায়ক স্টিভ স্মিথই হেসে খুন হয়েছেন।

হেডের রান তখন ৩১। বলের চেয়ে তখনো তাঁর রান বেশি। গ্রিনকে থিতু হওয়ার সুযোগ দিয়ে সেভাবেই খেলে গেছেন। ৫৩ বলে পঞ্চাশের পর ১১২ বলে করেছেন শতক। অন্য প্রান্তে গ্রিনও ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন। দিনের শেষ সেশনে উডের বলে আউট হওয়ার আগে ৭৪ রান করেছেন গ্রিন। মিচেল স্টার্ককে (০ *) নিয়ে অ্যালেক্স ক্যারি (১০ *) জুটি ৫ রান তোলার পর বৃষ্টি নেমেছে। হালকা সে বৃষ্টিই শেষ সেশনের বাকি সময় আর খেলা হতে দেয়নি।