বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাউদির প্রথম ওভারে ৭ রান উঠলেও বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারিয়েছে দ্বিতীয় ওভারেই। বোল্টের প্রথম ওভারে অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন সাদমান ইসলাম। টেস্ট ক্যারিয়ারে মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই শূন্যতে ফেরার শঙ্কায় পড়েছিলেন মোহাম্মদ নাঈম, সাউদির বলে কট-বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সে দফা বিপদ না ঘটলেও ৩ বল পর বাড়তি বাউন্সের ডেলিভারিতে পেছনে গিয়ে স্টাম্পে বল ডেকে আনার সঙ্গে বিপদটা ডেকে এনেছেন তিনি। অভিষেকে ২৫তম বাংলাদেশ ব্যাটসম্যান হিসেবে এ বাঁহাতি ফিরেছেন ০ রানেই।

default-image

নাজমুল হোসেন এরপর বোল্টের বলে ক্যাচ দিয়েছেন স্লিপে। এর আগপর্যন্ত বাঁহাতি বোল্টকে ভালোভাবে সামাল দিলেও বেশ দেরিতে সুইং করা বলে ল্যাথামের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। মুমিনুল হক এরপর দুর্দান্ত সাউদির শিকার। ফুললেংথ থেকে ভেতরের দিকে ঢোকা বলটা ফাঁকি দিয়েছে শট খেলতে উদ্যত মুমিনুলের রক্ষণ। অধিনায়ক ফিরেছেন ০ রানে, বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে ১১ রানে ৪ উইকেটে।

এর আগে টম ল্যাথামের ২৫২ রানে সঙ্গে টম ব্লান্ডেলের ৬০ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় সেশনের শুরু থেকেই করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। প্রায় ঘণ্টাখানেক ব্যাটিং করেই তারা তোলে ৯৮ রান।

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা শুরু হয়েছিল আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ডেভন কনওয়ের শতক পাওয়া দিয়ে। ইবাদত হোসেনের লেগস্টাম্পের ওপর ফুললেংথের বলে ফ্লিক করে চার মেরে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ টেস্টে তৃতীয় শতক পান কনওয়ে। ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে তাঁর চেয়ে বেশি ৪টি করে শতক আছে শুধু সুনীল গাভাস্কার ও জর্জ হেডলির।

শতকের পর অবশ্য বেশিক্ষণ টেকেননি কনওয়ে। ল্যাথামের ডাকে সাড়া দিয়ে কাভার থেকে সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজের সরাসরি থ্রোয়ে রান-আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। এর আগে ল্যাথামের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে উঠেছে ২১৫ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে যেটি নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড।

default-image

প্রথম দিন অপেক্ষায় থাকা রস টেলর অবশেষে নেমেছেন তাঁর ক্যারিয়ারে শেষ টেস্টে ব্যাটিংয়ে। ক্রাইস্টচার্চের করতালির ভেতর নামার পর বাংলাদেশ খেলোয়াড়েরা তাঁকে দিয়েছেন গার্ড অব অনার। নামার পর খেলেছেন টেলর-সুলভ শট—কাভার ড্রাইভে চারের পর কাট করে মেরেছেন আরেকটি।

তাসকিনকে কাভার দিয়ে চার মেরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় দ্বিশতক পেয়েছেন ল্যাথাম। ৩০৫ বলে এ মাইলফলকে গেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ইনিংসে কোনো উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দ্বিশতক পাওয়ার মাত্র পঞ্চম ঘটনা এটি। ল্যাথাম এরপর ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংসকেও—২০০৪ সালে চট্টগ্রামে এর আগে ২০২ রান করেছিলেন স্টিফেন ফ্লেমিং।

অন্যদিকে অবশ্য ল্যাথামকে রেখে একে একে ফিরেছেন টেলররা। ইবাদতকে ফ্লিক করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে শরীফুলের হাতে ধরা পড়েছেন দারুণ শুরু করা টেলর। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ ইনিংসে ৩৯ বলে ২৮ রান করেছেন নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তি, ফেরার পথে অভিবাদন পেয়েছেন ইবাদতদের, উঠে দাঁড়িয়েছে হ্যাগলি ওভালও। হেনরি নিকোলস ফিরেছেন ০ রানেই। ইবাদতের বলে কট-বিহাইন্ড হয়েছেন এ বাঁহাতি, দারুণ রিভিউয়ে সে উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। বিরতির ঠিক আগে অবশ্য ড্যারিল মিচেলকে ফিরিয়েছিলেন শরীফুল ইসলাম। আউটসাইড-এজড হয়েছেন তিনি। রিভিউ নিয়েছিলেন, তবে আল্ট্রা-এজ দেখিয়েছে পরিষ্কার স্পাইক। মধ্যাহ্নবিরতির আগে ১২ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল কিউইরা।

default-image

দ্বিতীয় সেশনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ব্লান্ডেল ও ল্যাথাম। দুজনের জুটি ৫০ ছুঁয়ে ফেলে মাত্র ৬৪ বলে। মুমিনুলকে ছয়, চার, ছয়—এই ক্রমে ল্যাথাম পৌঁছে যান ২৫০ রানে। অবশ্য ঠিক পরের বলে আবার তুলে মারতে গিয়ে খাড়া ক্যাচ তোলেন, ভাঙে ব্লান্ডেলের সঙ্গে ৭৮ বলে ৭৬ রানের জুটি।

প্রায় সাড়ে চার সেশন ব্যাটিং করে ল্যাথাম ২৫২ রান করেছেন ৩৭৩ বলে, ৩৪টি চারের সঙ্গে মেরেছেন ২টি ছয়। এ ইনিংসে তিনি ব্যাটিং করেছেন ৬৭.৫৬ স্ট্রাইক রেটে। ক্যারিয়ারে ১২টি শতক ইনিংসে কিউই অধিনায়কের এটিই সবচেয়ে দ্রুতগতির। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬৪ রান ছুঁতে না পারলেও হ্যাগলি ওভালের সর্বোচ্চ ইনিংসটা খেলেছেন ল্যাথাম।

ল্যাথাম ফিরলেও অবশ্য নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কমেনি। মাত্র ৫৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন ব্লান্ডেল। দ্বিতীয় সেশনের ড্রিংকস বিরতির সময়ই ইনিংস ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। ব্লান্ডেল ৫৭ রান করেন মাত্র ৬০ বলে, মারেন ৮টি চার।

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন