খুলেই বলা যাক। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন ওয়ানে কাল কেন্ট-ইয়র্কশায়ার ম্যাচটি ড্র হয়। কেন্ট নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল। প্রথম ইনিংসে ৫৭১ রানে অলআউট হওয়া ইয়র্কশায়ারের তখনো এক ইনিংস বাকি ছিল।

কিন্তু এই ম্যাচের ফল নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। হারারেতে জন্ম নেওয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে ওঠা কেন্টের পেসার নাথান গিলক্রিস্ট কাল নিজের খেলা প্রথম বলেই আউট হওয়ার পর আলোচনায় উঠে আসেন। কারণ, এ নিয়ে টানা ছয় ইনিংসে নাথানের স্কোর দাঁড়াল—০, ০, ০, ০, ০, ০!

নাথানের এই ‘শূন্যগাথা’র মধ্যেও চমক আছে আরও। কালকের ম্যাচ এবং কেন্টের আগের দুই ম্যাচ মিলিয়ে তাঁর স্কোর দাঁড়ায় এমন—০ এবং ০, ০ এবং ০, ০ এবং ০! অর্থাৎ, তিন ম্যাচেই ‘পেয়ার’ পেয়েছেন নাথান।

default-image

এর মধ্যে আবার ‘সোনার হাঁস’ অর্থাৎ ‘গোল্ডেন ডাক’ আছে তিনটি—কাল কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংস, আগের ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের প্রথম ইনিংস এবং তার আগের ম্যাচে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম বলেই আউট হন নাথান গিলক্রিস্ট।

ইংরেজ বাবার কারণে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী এই ক্রিকেটার এখন গর্ব করে বলতেই পারেন, ভাগ্যিস, ‘ভালোবাসা’ (পেয়ার) পেয়েছি, কিন্তু ‘রাজার ভালোবাসা’ (কিং পেয়ার) তো আর পাইনি! দুই ইনিংসেই প্রথম বলে আউট হলে ‘কিং পেয়ার’ পেয়েছেন বলা হয়। এদিক বিচারে নাথান কিন্তু যথেষ্ট ভালো ব্যাটসম্যান!

তা, নাথানের এই পারফরম্যান্সে যে যত ঠাট্টাই করুক, ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়া থেকে তাঁকে কিন্তু কেউ আটকাতে পারেনি। ছেলেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা সর্বোচ্চসংখ্যক ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন নাথান।

পরিসংখ্যান বলছে, ১২তম ক্রিকেটার হিসেবে টানা ৬ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেন তিনি। ছেলেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টানা ছয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়াই সর্বোচ্চ। নাথান এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।

প্রথম এই অনাকাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্সের দেখা পেয়েছিলেন সারে ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২২ ম্যাচ খেলা এডয়ার্ড জর্জ হার্টনেল। ১৮৪৪ সাল থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন তিনি। পরিসংখ্যানে তাঁর সব কটি ডাকের তথ্য-উপাত্ত বিশদ নেই, তবে ১৮৪৮ সালে দুই ম্যাচে তাঁর চারবার শূন্য রানে আউট হওয়ার তথ্য আছে।

default-image

হার্টনেলের সেই ‘ডাকগাথা’র (মতান্তরে) প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৫-০৫ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টানা ছয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন আলবার্ট উইলিয়াম রাইট। ৩০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার লেগ স্পিনার হলেও নামের পাশে একটি অর্ধশতক থাকায় বুঝে নিতে হয়, ব্যাটিংটা একদম খারাপ পারতেন না। তবু খারাপ সময় তো সবারই আসে, তাই না!

যেমন খারাপ সময় এসেছে উইলিয়াম ওরসলির। ল্যাঙ্কাশায়ারের এই উইকেটকিপার ১৩৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯০৭ সালে টানা ছয় ইনিংসে শূন্য রানে আউটও হয়েছেন।

হ্যাম্পশায়ার ও ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে মোট ২৮৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা মিডিয়াম পেসার ভিক্টর ক্যানিংস ওরসলির চেয়ে অন্তত ভালো ব্যাটসম্যান ছিলেন। একটি অর্ধশতক আছে তাঁর। কিন্তু ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে তিনিও ছয় ইনিংসে কোনো রান না করেই আউট হন।

default-image

ক্যানিংসের বহু বছর পর একই পথে হাঁটতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার আই এম কিডসনকে (১৯৮৭-৮৮ থেকে ১৯৮৮-৮৯)। এরপর শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেটে ৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা আতুলা সেদারা (২০০০-০১ থেকে ২০০৫-০৬) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার রোয়ান রিচার্ডসও (২০১১-১২ থেকে ২০১২-১৩) টানা ছয় ইনিংসে কোনো রান না করেই আউট হন। ইংল্যান্ডের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার চার্লি শ্রেকও ২০১৫ সালে একই ভাগ্য মেনে নেন।

এরপর আরও তিনজন আছেন এই তালিকায়—একজন ভারতীয়, একজন শ্রীলঙ্কান এবং আরেকজন বাংলাদেশি। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারটি ২৮ টেস্ট খেলা পেসার নুয়ান প্রদীপ।

সিলেট বিভাগের হয়ে খেলা পেসার ইমরান আলী ২০১৭-১৮ ও ২০১৯-২০ মৌসুম মিলিয়ে টানা ছয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন। আর ভারতীয় ক্রিকেটারটি?
রোহিত শর্মা! অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিকেট স্ট্যাটিসটিশিয়ান অ্যান্ড হিস্টোরিয়ানস (এসিএস) জানাচ্ছে, ভারত জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়কেরও প্রথম শ্রেণিতে টানা ছয় ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির আছে।

২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুমের মধ্যে টানা ছয় ইনিংসে কোনো রান না করেই আউট হন মুম্বাই ইন্ডিয়ানস অধিনায়ক। সত্যিই, শুধু নাথান গিলক্রিস্ট একাই নয়, খারাপ সময় ডাকাবুকো ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ারেও আসে!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন