ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ড
ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেনি ইংল্যান্ডছবি: বিসিসিআই

আহমেদাবাদ টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়েছে কথাটার মধ্যে একচিলতে খামতি আছে। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হতে প্রায় ২৫ ওভার বাকি থাকতে ১০ উইকেটে জিতেছে ভারত।

তৃতীয় দিনের খেলা দেখার টিকিট যাঁরা কিনেছিলেন, তাঁরা বোকা বনে গেছেন। দুষতে পারেন ইংল্যান্ডকে। কাল ভারতীয় স্পিনের সামনে জো রুট–বেন স্টোকসরা যে দাঁড়াতে পারেননি। তাতে দুই দিনের মধ্যে টেস্ট হারে ভুলে যাওয়া এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ইংল্যান্ড দলকে।

টেস্ট ইতিহাসে দুই দিনের মধ্যে ফল দেখা গেছে ২২ ম্যাচে। আহমেবাদ টেস্ট এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। ইংল্যান্ড এর আগে সর্বশেষ দুই দিনের মধ্যে হেরেছে ১৯২১ সালে, অর্থাৎ ১০০ বছর আগে।

তবে এর সঙ্গে ‘প্রায়’ কথাটা যোগ করতে হচ্ছে—কারণ নটিংহামে ১৯২১ সালে সেই টেস্ট শুরু হয়েছিল ২৮ মে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের সেই প্রথম টেস্টেও ১০ উইকেটে হেরেছিল ইংল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন

সেই টেস্টের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, ইংল্যান্ড তাদের ঘরের মাঠে কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচে কখনো এত বাজে পারফর্ম করেনি। উইকেটকিপিং ছাড়া খেলার প্রতিটি জায়গায় দাপট দেখিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল জনি ডগলাসের ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ১৮ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা—১১২ রানে অলআউট হয়।

ঠান্ডা ও বাতাসের মধ্যে কঠিন সেই কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসেই বেশ খানিকটা এগিয়ে যায়। ওয়ারেন বার্ডসলের ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে ২৩২ রান তুলে ফেলে দলটি।

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৬৭ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের দিনটি ছিল বিশ্রামের। তখন টেস্টে পাঁচ দিনের খেলার ফাঁকে ‘রেস্ট ডে’ দেওয়ার প্রচলন ছিল।

মাঝে তাই এক দিন বিশ্রামের পর খেলার দ্বিতীয় দিনে জয়ের মুখ দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা ভালো করতে পারে ইংল্যান্ড।

ফ্রাঙ্ক উলির ৩৪ ও ডোনাল্ড নাইটের ৩৮ রানে ভর করে ১৪৭ রান তুলতে পারে স্বাগতিক দল। সব মিলিয়ে জয়ের জন্য ২৮ রানের লক্ষ্য পায় অস্ট্রেলিয়া।

দুই ইনিংস মিলিয়ে ইংল্যান্ডের এই বিপর্যয়ের হোতা ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতিমান ফাস্ট বোলার জ্যাক গ্রেগরি ও টেড ম্যাকডোনাল্ড। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেন গ্রেগরি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেন ম্যাকডোনাল্ড।

সেই হারের প্রায় ১০০ বছর পর আবারও দুই দিনের মধ্যে হারের মুখ দেখল জো রুটের ইংল্যান্ড। অবশ্য প্রতিপক্ষকেও দুই দিনের মধ্যে হারানোর স্বাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড।

এই নজির তারা সর্বশেষ গড়েছে ২০০০ সালে লিডস টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তার আগে ১৯১২ ওভাল টেস্টে, দক্ষিণ আফ্রিকাকেও দুই দিনের মধ্যে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।

১৮৮৮ থেকে ১৮৯৬ সালের মধ্যে সাতবার প্রতিপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে এই ভাগ্য মেনে নিতে হয়েছে।

টেস্টে এর আগে ভারত একবারই প্রতিপক্ষকে দুই দিনের মধ্যে হারাতে পেরেছিল। ২০১৮ সালে বেঙ্গালুরু টেস্টে আফগানিস্তানকে।

টেস্টে এখনো দুই দিনের মধ্যে হারের মুখ দেখেনি ভারত। পাকিস্তান হেরেছে একবার, ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শারজা টেস্টে।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন