default-image
>

বিশ্বকাপের লড়াই শীর্ষ দশ দলের জন্য সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে আইসিসি। তথাকথিত খর্বশক্তির আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। এ কারণে নিজের মন খারাপের কথা সরাসরি আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের এক তারকা

বিশ্বকাপের মঞ্চে সহযোগী দেশগুলোর আলো ছড়ানোর ইতিহাস আজকের নয়।

১৯৮৩ বিশ্বকাপে অধিনায়ক ডানকান ফ্লেচারের ৬৯ রানের নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল ‘খুদে’ জিম্বাবুয়ে। ২০০৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কানাডার জন ডেভিসনের ৬৭ বলে সেঞ্চুরির তাণ্ডব কী সহজে ভোলা যায়? পেসার অস্টিন কডরিংটনের সেই দুর্ধর্ষ স্পেল এখনো বেদনা জাগায় বাংলাদেশ-ভক্তদের মনে। কিংবা কেনিয়ার কলিন্স ওবোয়ার ঘূর্ণিতে শ্রীলঙ্কার আত্মসমর্পণের সেই ম্যাচ, যা টিকোলো-ওদুম্বেদের তুলে দিয়েছিল সেমিতে। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে কেভিন ও’ব্রায়েনের সেঞ্চুরির উদাহরণ তো এখনো জ্বলজ্বল করে মানসপটে। ২০১৫ বিশ্বকাপেও এই আয়ারল্যান্ডের শিকার হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৭ বিশ্বকাপে হয়েছিল পাকিস্তান।

কিন্তু কয়েক বছর আগে আইসিসির করা এক বিচিত্র নিয়মের কারণে বিশ্বকাপে এমন অপ্রত্যাশিত চমক পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গিয়েছে। গত বছর থেকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট হয়ে গেছে দশ দলের প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আভিজাত্য বজায় রাখতে এবং ক্রিকেটের এই বিশ্ব আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তখন জানা গিয়েছিল। আইসিসির তৎকালীন প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসনের বলেছিলেন, বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই দশ দলের সিদ্ধান্ত, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যে ১০টি দল বিশ্বকাপে খেলবে, সেই দলগুলোর যেন প্রতিটিই বিশ্বকাপ জয়ের উপযোগী হয়। তারা যেন প্রতিটি প্রতিটিকে হারাতে পারে।’

আইসিসির এই সিদ্ধান্ত খুব স্বাভাবিকভাবেই মনঃপূত হয়নি আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, কানাডার মতো তথাকথিত ‘খুদে’ দলগুলোর। তাঁদের কাছ থেকে প্রতিবাদ এসেছে অনেক। তাতে আইসিসির থোড়াই কেয়ার! ২০১৯ বিশ্বকাপে দশ দলই খেলেছে। আর মন ভেঙেছে সহযোগী দেশগুলোর তারকাদের।

default-image

সে ক্ষত যে এখনো টাটকা, সেটা বোঝা গেছে আইরিশ ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি বালবির্নির এক টুইটে। করোনাভাইরাসের কারণে খেলাধুলা এখন সব বন্ধ। তাই বলে আইসিসি যে ঘুমিয়ে আছে, তা নয়। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড় ও ক্রিকেট ভক্তদের চাঙা করে রেখেছে তারা। সেদিনই যেমন, তাঁরা পোস্ট করল, ‘ক্রিকেটের কোন স্মৃতি আপনি চিরতরে ভুলে যেতে চান?

সে পোস্টের রিপ্লাইতেই মন খারাপ করা জবাবটা দিয়েছেন বালবির্নি। লিখেছেন, ‘দশ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তটা!’

বালবির্নির এক উক্তি যেন গোটা সহযোগী সমাজেরই মনের বার্তা! আইসিসি কী শুনবে এবার? নাকি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়েই থাকবে?

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0