default-image

ফুটবল আর ক্রিকেটের হ্যাটট্রিকে বড় পার্থক্য আছে। ফুটবলে তিনটা গোল যেকোনো সময় করলেই হয়। কিন্তু ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক ব্যাপারটি খেলাটির মতোই যেন ‘নাক উঁচু’, ‘অভিজাত’ হতে চেয়েছে। এখানে হ্যাটট্রিক হয় কেবল মাত্র টানা তিন বলে তিন উইকেট পেলেই। একটি উইকেট পেতেই কখনো কখনো কত হাপিত্যেশ করতে হয় বোলারদের। সেখানে টানা তিন বলে আবার তিন উইকেট! ভীষণ কষ্টসাধ্য কাজ!

ক্রিকেটে তাই হ্যাটট্রিকের দেখা পাওয়াটা বেশ কঠিন। তবে এমন কাজও যে করা সম্ভব, সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম দেখিয়েছিলেন ফ্রেডেরিক স্পফোর্থ। তাঁর মুঠো থেকে বেরোনো তিনটি ডেলিভারির সৌজন্যেই টেস্ট ক্রিকেটে দেখা গিয়েছিল প্রথম হ্যাটট্রিকের ঘটনা। সেই দিনটি ছিল আজ থেকে ঠিক ১৩৭ বছর আগে।

১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরে দুটি টেস্ট খেলেছিল, এরপর বেশ কিছুদিন কোনো টেস্ট খেলেনি তারা। পরবর্তী সিরিজ আয়োজন করতে ২২ মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেল। ১৮৭৯ সালের ২ জানুয়ারি মেলবোর্নেই এ মাঠের তৃতীয় টেস্টে মুখোমুখি হলো দুদল। টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন সফরকারী ইংলিশ অধিনায়ক লর্ড হ্যারিস। তার একটু পরেই এক পশলা বৃষ্টি নামে মাঠে, পিচ হয়ে ওঠে ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকূপ। মাত্র ১৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।

তবে বড় ধাক্কাটি দলের ২৬ রানে। ৩ রানে ব্যাট করছিলেন ভারনন রয়েল। তাঁকে বোল্ড করে দিয়ে নিজের তৃতীয় উইকেটটি পেয়ে যান স্পফোর্থ। উইকেটে আসেন ফ্রান্সিস ম্যাককিনন, প্রথম বলেই বোল্ড তিনিও। আটে নামা টম অ্যামেটকেও প্রথম বলেই টম হোরানের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান স্পফোর্থ। ব্যস, ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা মিলল। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৮ রানে ৬ উইকেট পেলেন স্পফোর্থ। দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের ভয়ংকর বোলিং করেছিলেন ‘ডেমন’ নামে সুখ্যাতি পেয়ে যাওয়া এই বোলার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬২ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে একাই হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

মাত্র তৃতীয় টেস্টেই প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা মিললেও ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করা কতটা কঠিন সেটি বুঝতে পারা গেছে ভবিষ্যতে। সে জন্যই তো ১৩৮ বছরের ইতিহাসে ২১৯৬টি টেস্টে মাত্র ৪১টি হ্যাটট্রিকের দেখা মিলেছে। ওয়ানডেতে তো সংখ্যাটি আরও কম, মাত্র ৩৯টি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তিনবার। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৩ বার দেখা যাওয়া এমন ঘটনার শুরু স্পফোর্থের সৌজন্যেই। 

স্পফোর্থের পরিচয় এখানেই থামছে না। ১৮৮২ সালে তাঁর আরেকটি অসাধারণ বোলিং পারফরম্যান্সে ওভাল টেস্টে হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। যেটি ভূমিকা রেখেছিল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী লড়াই ‘অ্যাশেজ সিরিজ’ শুরুর।
টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররাও দুবার হ্যাটট্রিক করেছেন। এত দিন ধরে টেস্ট খেলেও দুবারের বেশি হ্যাটট্রিক নেই ভারত-নিউজিল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্টে হ্যাটট্রিক তো মাত্র একটি। এর থেকেও বোঝা যাবে, যে যাত্রা শুরু করেছিলেন স্পফোর্থ, কত কঠিন সেই পথ ধরে হেঁটে যাওয়া!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0