বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইনিংসটাও কী! যেন চার আর ছক্কার ফুলঝুরি। ১৪তম ওভারে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্দ্রে রাসেল আউট হওয়ার পর ক্রিজে নেমে প্রথম বলে ১ রান নিয়েছেন, ওই ওভারেরই শেষ দুই বলে—তাঁর মুখোমুখি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বল—ছক্কা আর চার!

১৫তম ওভারে বুমরাহ তাঁর কাছ থেকে দুটি ডট বল বের করে নিতে পেরেছেন, ইনিংস শেষে সেটিকেই মনে হচ্ছে বড় ব্যাপার! ওই ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুই ডটের পর আবার ছক্কা আর চার। শেষ বলে বুমরার ইয়র্কারে এক রান নিয়ে যে কামিন্স স্ট্রাইক ধরে রেখেছেন, পেছনে তাকিয়ে সেটিকেই বুঝি এখন শাপ-শাপান্ত করছেন ১৬তম ওভারটি করতে যাওয়া ড্যানিয়েল স্যামস!

তাঁর বলে কামিন্স যেভাবে মেরেছেন, তুলোধুনোতেও সম্ভবত এর চেয়ে কম মারতে হয়! ওই ওভারের আগেই ৮ বলে ২২ রান ছিল কামিন্সের, কলকাতার তখনো জয়ের জন্য ৩০ বলে ৩৫ রান দরকার। ওভার শেষে? খেলা শেষ!

default-image

প্রথম বলে স্যামসের স্লোয়ারে ছক্কা, পরের বলে ডিপ মিডউইকেটে চার, পরের বলে ডিপ মিডউইকেটেই ছক্কা। পরের বলও উড়ে গেল সীমানার বাইরে!

পঞ্চম বলে হলো নাটক। একেবারে অ্যাকশান-ভর্তি কোনো থ্রিলার! স্যামসের ফুলটসে লংঅফে মারতে গিয়ে এক হাত ছুটে যায় কামিন্সের, বাউন্ডারিতে দারুণ ক্যাচ ধরেন সূর্যকুমার। বল ধরতে গিয়ে ভারসাম্য থাকছে না দেখে বলটা বাতাসে ভাসিয়ে বাউন্ডারির বাইরে এক পা ফেলেন, এরপর আবার বাতাসে গা ভাসিয়ে ক্যাচটা ধরে বাউন্ডারির ভেতরে চলে আসেন সূর্যকুমার। দারুণ ক্যাচ, কিন্তু বিফলে। রিপ্লে দেখাল, ফুলটস বলটা কোমরের ওপরেই ছিল কামিন্সের। নো বল! দৌড়ে দুই রানও নিয়েছেন কামিন্স ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার, এর মধ্যে আবার ফ্রি-হিটও পেলেন।

কামিন্সকে আর পায় কে! পরের বলে আবার স্লোয়ার স্যামসের, কিন্ত কামিন্সের তখন ওসবে পাত্তা দেওয়ার সময় নেই। সেটিকেও ডিপ স্কয়ার লেগে বাউন্ডারি ছাড়া করলেন। তাতেই রেকর্ড! ১৪ বলে অর্ধশতক—আইপিএল ইতিহাসে দ্রুততম! এর আগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (এখন পাঞ্জাব কিংস) হয়ে ১৪ বলে ৫০ করেছিলেন লোকেশ রাহুল। তা রেকর্ড গড়ার পরের বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েই দিলেন কামিন্স!

default-image

অনেক অনেক দিন মনে রাখার মতো এমনই এক টি-টোয়েন্টি ইনিংস যে, ক্রিজের অন্য প্রান্তে এতক্ষণ কলকাতাকে টেনে নিয়ে যাওয়া ভেঙ্কটেশন আইয়ারই যেন অপ্রাসঙ্গিক! অথচ অর্ধশতক পেয়েছেন তিনিও, তাঁর ৪১ বলে ৫০ রানের ইনিংসটিই কলকাতাকে রানতাড়ায় বাঁচিয়ে রেখেছে। না হলে অজিঙ্কা রাহানে (১১ বলে ৭), শ্রেয়াস আইয়ার (৬ বলে ১০), আন্দ্রে রাসেলরা (৫ বলে ১১) তো দলকে টানতেই পারেননি। রাসেল আউট হওয়ার সময়ও কলকাতার ৪১ বলে ৬১ রান দরকার ছিল। কামিন্সের ব্যাটে সে রান কলকাতা পেরিয়ে গেছে ১৭ বলে!

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা মুম্বাই সূর্যকুমার যাদবের ৩৬ বলে ৫২, তিলক ভার্মার ২৭ বলে ৩৮ আর ডেভাল্ড ব্রেভিসের ১৯ বলে ২৯ রানের সৌজন্যে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলে ইনিংস শেষ করে। কলকাতার বোলারদের মধ্যে কামিন্সই সবচেয়ে বেশি ২ উইকেট পেলেও ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি ১২.২৫ করে!

সেটির ঝালই ব্যাট হাতে মেটালেন কামিন্স!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন