পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের উদযাপন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের উদযাপন।ফাইল ছবি: এএফপি

মুশফিকুর রহিমের প্যাডে বল করেছিলেন জুনায়েদ খান। শর্ট ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে উল্লাসে ফেটে পড়েন মুশফিক।

অন্য প্রান্ত থেকে ছুটে আসা সৌম্য সরকারকে ধরলেন জড়িয়ে। ১২৭ রান করে অপরাজিত সৌম্যর চোখেমুখেও খুশির ঝিলিক। ক্রিকেটপ্রেমীরা এই মুহূর্তটুকু জমা রেখেছেন ইউটিউবে। চাইলে আজ আরও একবার দেখে আসতে পারেন।

কিন্তু দেখতে গেলে সূত্র তো লাগবে! কোন সিরিজ, কার বিপক্ষে ম্যাচ, তা তো কিছুই বলা হলো না। একটা সূত্র দেওয়া যায়, সৌম্যর ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটাই এখনো সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ঠিকই ধরেছেন।

৬ বছর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। সৌম্যর দুর্দান্ত সেই সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের ২৫০ রানের সংগ্রহ বাংলাদেশ টপকে গিয়েছিল ৮ উইকেটে, ৬৩ বল হাতে রেখে।

এত দিন পর সেই জয় মনে করার কারণ তো আছেই। শুধু এটুকু বলে রাখা ভালো, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়। সেবার টেস্ট সিরিজে হারলেও ওয়ানডে সিরিজ ৩–০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

আসলে প্রথম যেকোনো কিছুই স্মরণীয়। যেমন ধরুন, ২০১৫ সাল বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু ‘প্রথম’-এর দেখা পাইয়ে দেয়। সেবার প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ সিরিজ জিতে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম অধ্যায়টা লিখেছিল বাংলাদেশ।

শুধু ২০০৯ সালেই বাংলাদেশের সাফল্য সেবারের চেয়ে বেশি ছিল। বিশ্বকাপ দিয়ে ২০১৫ সালে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেখানে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালের দেখা পাওয়ার পর বাংলাদেশ সফরে এসেছিল পাকিস্তান।

default-image

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে আজহার আলীর দলকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এরপর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও মেলে সিরিজ জয়ের স্বাদ।

কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ধবলধোলাইয়ের স্বাদ রাজনৈতিক ইতিহাস বিচারে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সব সময়ই অন্য রকম। পাকিস্তান নামটা এলেই যে বাংলাদেশের মানুষের মনে পড়ে যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঞ্চনার ইতিহাস আর ৩০ লাখ শহীদের কথা।

পরিসংখ্যানও বলছে, পাকিস্তানকে সেই সিরিজে ধবলধোলাই করে এক খরা কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা ২৫ ম্যাচ হেরেছিল বাংলাদেশ। ১৬ বছর এভাবে জয়শূন্য থাকার পর ২০১৫ সালের সেই ওয়ানডে সিরিজে ‘তিনে তিন জয়’ আদায় করে নেন মাশরাফি-তামিমরা।

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ও মুশফিক। ৬ উইকেটে ৩২৯ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগপর্যন্ত ওয়ানডেতে এটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। পাকিস্তান তাড়া করতে নেমে ৭৯ রানে হেরেছিল তাসকিন (৩/৪২) ও আরাফাত সানির (৩/৪৭) বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে না পেরে।

default-image

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পরে ব্যাট করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে (১১৬) ২৪০ রানের লক্ষ্য ৭১ বল হাতে রেখে টপকে যায় বাংলাদেশ। সিরিজ জয়ের স্বাদ মিলেছিল সেই জয়েই। তৃতীয় ম্যাচেও পরে ব্যাট করে বাংলাদেশ, এবার ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়ে যান সৌম্য, সে সুবাদে বাংলাদেশও পায় পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ।

বিজ্ঞাপন

ওয়ানডেতে এ পর্যন্ত ১৪ বার প্রতিপক্ষ দলকে হোয়াইটওয়াশ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। সেটি ন্যূনতম ২ ম্যাচের সিরিজ বিচারে।

২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সব কটি জিতে প্রথম এর স্বাদ পেয়েছিলেন হাবিবুল বাশার-মোহাম্মদ আশরাফুলরা। সে বছর আরও তিনবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার দেখা পায় বাংলাদেশ-কেনিয়াকে আরও একবার, স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েকে একবার করে।

default-image

এরপর শুধু ২০১৫ সালেই অন্তত দুবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। এর মধ্যে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারার স্মৃতি অন্তত আজ আন্দোলিত করার কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের।

পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের (তৃতীয় ওয়ানডে জয়) সেই দিনটা যে আজ!

ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন