default-image

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শ্রেয়াস আয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস ৩০ রানের। ক্যারিয়ারেও তাঁর ছক্কা সংখ্যাও ছিল মাত্র ৪টি। আজ এক ধাক্কায় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ছক্কা সংখ্যাও হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। ৫ ছক্কায় ৬২ রান তুলেছেন এই ব্যাটসম্যান। অথচ শূন্য রানেই ফেরার কথা তাঁর। তাহলেই আজ ভারত ১৭৪ রানের এত বড় বোঝা বাংলাদেশের ঘাড়ে ফেলতে পারত না। পাওয়ার প্লেতেই ২ উইকেট ফেলে দিয়েও ভারতের ৫ উইকেতের বেশি ফেলতে পারেনি বাংলাদেহস

শফিউলের সুবাদে ৩৫ রান দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেলেছে ভারত। সেটা ৩৬ রানে ৩ উইকেট হওয়ার কথা। শফিউলের ওভারেই নিজের দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন আয়ার। কিন্তু আমিনুল ইসলাম বলটা হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারলেন না। শূন্য রানেই জীবন ফিরে পেলেন আয়ার। কী ভয়ংকরভাবেই না সেটা কাজে লাগালেন এই ব্যাটসম্যান।

কঠিন এক উইকেটে দারুণ স্ট্রোক পলে দেখিয়েছেন কেএল রাহুল। ৭ চারে ৩৫ বলে ৫২ রান করে আল আমিনের বলে ফিরে গেছেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। তার আগে ৭ ওভারের কম সময়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন ৫৯ রান। কিন্তু এসব কিছুই হয়তো সম্ভব হতো না, যদি আয়ার সে সময় আউট হতেন। ঋষভ পন্তের বাজে ফর্মের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ কাজে লাগাতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু আমিনুল ক্যাচ ধরতে পারেননি, তার ফল ভোগ করতে হয়েছে দলকে।

এক প্রান্তে রাহুল ইনিংস টেনে গেছেন, অন্যদিকে নিজের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন আয়ার। ৯ ওভার শেষেও ভারতের রান ছিল মাত্র ৫৯। দশম ওভারে মোস্তাফিজকে দুটি চার মেরে শুরুটা রাহুলই করেছেন। কাকতালই হয়তো, পরের ওভারে ওই আমিনুলকে দিয়েই নিজের হাত খুললেন আয়ার। ওই ওভারে এল একটি চার ও এক ছক্কা। ১৪তম ওভারে সৌম্যকে আরেক ছক্কা। তবে আয়ারের সেরা রূপ দেখা গেল ১৫তম ওভারে। প্রথমবারের মতো বল হাতে নিলেন আফিফ হোসেন। প্রথম বলটি লং অন দিয়ে উড়ে গেল। পরের বলও আফিফের মাথার ওপর দিয়ে হারাল গ্যালারিতে। তৃতীয় বলটা লং অন দিয়ে ৯৮ মিটার দূরে পাঠালেন আয়ার, হ্যাটট্রিক।

আয়ারের এমন মূর্তিতে ১৫তম ওভার শেষে ভারতের স্কোর ৩ উইকেটে ১২৯। অর্থাৎ মাত্র ৬ ওভারে ৭০ রান তুলেছে ভারত। ৪৫ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে পন্তের অবদান মাত্র ৬। এ জুটিতে ১৫ বলে ৩৮ রান তুলেছেন আয়ার। বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়ে সৌম্য সরকারের বলে ৬২ রানে ফিরেছেন আয়ার। ৩৩ বলের ইনিংসে পাঁচ ছক্কার সঙ্গে ৩ চার ছিল তাঁর।

শেষ ৩ ওভারে তবু ৩০ রান তুলতে সমস্যা হয়নি ভারতের। নিজেদের পরিকল্পনা ভুলে এলোমেলো বল করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সে সুবাদে ১৩ বলেই ২২ রান তুলেছেন মনীশ পাণ্ডে। তাঁকেও একবার জীবন দিয়েছেন আমিনুল।

নাগপুরে দেড় শ রানের বেশি হলেই ম্যাচ জেতা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল। সে ক্ষেত্রে আজও ২০ রানের আক্ষেপে পোড়ার গল্প শোনার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0