২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কাগিসো রাবাদা।
২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কাগিসো রাবাদা। ছবি: টুইটার

২০১৫ সালের নভেম্বর। মোহালিতে টেস্ট অভিষেক হলো কাগিসো রাবাদার। প্রথম উইকেটটি পেতে বেশি দেরি হলো না দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ফাস্ট বোলারের। নিজের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলেই টেস্টে উইকেটের খাতা খুললেন রাবাদা। প্রথম নামটি যেনতেন কারও নয়—বিরাট কোহলি। অফস্টাম্প বরাবর করা লেংথ বলটিতে ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন কোহলি। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যান শুধু গালিতে ডিন এলগারের ক্যাচই হতে পেরেছিলেন।

টেস্ট অভিষেকে একটিই উইকেট রাবাদার। সিরিজের পরের দুই টেস্টে মাত্র ১ উইকেট। রাবাদা তো বাদ পড়লেন শেষ টেস্টের দল থেকেই। ক্যারিয়ারের প্রথম তিন টেস্টে মাত্র ২ উইকেট পাওয়া সেই রাবাদা আজ ছুঁয়ে ফেললেন ২০০ উইকেটের মাইলফলক। করাচিতে পাকিস্তানের হাসান আলীকে বোল্ড করে অষ্টম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে ৪৪তম টেস্টেই মাইলফলকটা ছুঁয়েছেন রাবাদা। দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে কম ম্যাচে ২০০ ছুঁয়েছেন শুধু ডেল স্টেইন। সব দেশ মিলিয়ে ম্যাচের হিসাবে রাবাদার চেয়ে কম ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন ১২ জন।

বলের হিসাবে ২০০–তে তৃতীয় দ্রুততম রাবাদা। ৮,১৫৪ বলে ২০০তম উইকেট পেয়েছেন প্রোটিয়া পেসার।
বিজ্ঞাপন

তবে শুধু যখন বলের হিসাব করা হবে, তখন ওই ১২ জনের ১০ জনই পিছিয়ে থাকেন রাবাদার চেয়ে। বলের হিসাবে ২০০–তে তৃতীয় দ্রুততম রাবাদা। ৮,১৫৪ বলে ২০০তম উইকেট পেয়েছেন প্রোটিয়া পেসার। পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনিস (৭,৭৩০) ও রাবাদার সতীর্থ ডেল স্টেইনই (৭,৮৪৮) শুধু এর চেয়ে কম বল করে ২০০ উইকেট পেয়েছেন।

default-image

সময়ের হিসাবেও ‘২০০’ ক্লাবের বেশির ভাগ সদস্যের চেয়ে এগিয়ে রাবাদা। টেস্ট অভিষেকের ৯,৩৭৮ দিন পর ২০০তম উইকেট পেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করা রাবাদা। সময়ের হিসাবে তাঁর চেয়ে এগিয়ে মাত্র তিনজন। বলের হিসাবের মতো এখানেও সবার চেয়ে এগিয়ে ওয়াকার ইউনিস। ৮,৭৮৮ দিনেই ২০০ উইকেট পেয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। ইউনিস ও রাবাদার মধ্যে আছেন দুই ভারতীয় কপিল দেব ও হরভজন সিং।

টেস্টে কম সময়ে ২০০ উইকেট

তবে টেস্ট ইতিহাসে যে ৭৯ জন বোলার ২০০ উইকেট পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে স্ট্রাইকরেটের হিসাবে রাবাদাই সবার সেরা। এখন পর্যন্ত প্রতি ৪০.৮ বলে একটি উইকেট পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারে ৪ বার ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া রাবাদা। তাঁর সতীর্থ ডেল স্টেইন আছেন দুইয়ে। ৪৩৯ উইকেটের মালিক প্রতি ৪২.৩ বলে পেয়েছেন একটি করে উইকেট। স্ট্রাইকরেটের এই হিসাবে পেস বোলারদেরই জয়জয়কার। তালিকার প্রথম ২৪ জনে নেই কোনো স্পিনার। ঠিক ৫৪ স্ট্রাইকরেট নিয়ে যৌথভাবে ২৫তম অস্ট্রেলিয়ার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল ও ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

টেস্টে সবচেয়ে কম স্ট্রাইকরেট (কমপক্ষে ২০০ উইকেট)

২২.৯৬ গড় নিয়ে ২০০ উইকেটের ক্লাবে ১২ নম্বরে আছেন রাবাদা। গড়ের হিসাবে সবার ওপরে ম্যালকম মার্শাল। প্রয়াত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি ২০.৯৪ গড়ে পেয়েছেন ৩৭৬ উইকেট।

বিজ্ঞাপন
ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন