অভিষেক টেস্টের সে মুহূর্ত।
অভিষেক টেস্টের সে মুহূর্ত।ছবি: সংগৃহীত

২০০০ সালের নভেম্বর, বিশেষ এক মুদ্রা নিয়ে টস করতে নামছেন নাঈমুর রহমান ও সৌরভ গাঙ্গুলী। এখনো মনে হয় যেন সেদিনের ঘটনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো টেস্ট অভিষেকের ২০ বছর পূর্ণ হয়ে গেল আজ। এ সময়ে বাংলাদেশ দল সাফল্য পেয়েছে অনেক। শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে জয় পেয়েছে। জিম্বাবুয়েকে তো নিয়মিতই হারিয়েছে বাংলাদেশ।

নিজের উঠানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে দাপটে লড়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন তামিম-ইমরুল। টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে সেঞ্চুরি বা দশ উইকেট পাওয়ার রেকর্ডও বাংলাদেশের। একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিকের মতো ঘটনাও বাংলাদেশের সুবাদে দেখেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ২০ বছরে আসলেই কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ দল?

বিজ্ঞাপন

প্রথম ২০ বছরে বাংলাদেশ ১১৯টি টেস্ট খেলেছে। এক শ্রীলঙ্কা (১২১) ছাড়া অন্য কোনো দল এত বেশি টেস্ট খেলেনি প্রথম ২০ বছরে। কাছাকাছি থাকা জিম্বাবুয়ে খেলেছে ৮৭ টেস্ট। এত বেশি ম্যাচ খেলার কারণেই হয়তো বাংলাদেশের পারফরম্যান্সটা অন্য সব দলের তুলনায় একটু বেশিই হতাশাজনক।

১১৯ টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স:

default-image

২০ বছরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে পরিচিত প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে বরাবরই সাহায্য করে এসেছে দলটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই বাংলাদেশের জয় সবচেয়ে বেশি। মোট সাতবার আফ্রিকার দলটিকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মাঝে বেশ কিছুদিন টেস্ট ক্রিকেটে অনুপস্থিত ছিল জিম্বাবুয়ে। আর তাই সাদা পোশাকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে শ্রীলঙ্কা। ২০ ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় যদিও মাত্র একটি। সে তুলনায় ১৬ ম্যাচে উইন্ডিজকে চারবার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

উপমহাদেশের মধ্যে শুধু শ্রীলঙ্কাকেই হারাতে পেরেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান (১১), ভারত (১১) ও আফগানিস্তানের (১) সঙ্গে এখনো জেতা হয়নি বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও এখনো জয়ের দেখা মেলেনি।

default-image
বিজ্ঞাপন

টেস্টে বাংলাদেশের গৌরবের রেকর্ড

  • সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান। ২০০১ সালে টেস্ট অভিষেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭ বছর ৬৩ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

  • সবচেয়ে কম বয়সে ১০ উইকেট। ২০০৫ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২ উইকেট নেওয়া ম্যাচের শুরুর দিন এনামুল হক জুনিয়রের বয়স ছিল ১৮ বছর ৪০ দিন।

  • ২০১৪ সালে ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম দুজন ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ইয়ান বোথাম ও ইমরান খান।

একই ম্যাচে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক

২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি সোহাগ গাজীর।

অভিষেকে দশে নেমে সর্বোচ্চ
২০১২ সালে খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে দশে নেমে ১১৩ রান আবুল হাসানের।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ২০ বছরটা বেশ হতাশায় কেটেছে। ২০ বছরে ২০টি ম্যাচেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবে শুরুর দিকটায় অনেক দলকেই এমন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথম ২০ বছরে নিউজিল্যান্ড কোনো জয় পায়নি। অবশ্য দলটি খেলেছেই মাত্র ২০ ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকা তো ম্যাচ খেলেছে আরও কম। তবে ১৯ ম্যাচ খেলে ৪টিতে জয় পেয়েছিল দলটি।

ওদিকে ২৭ ম্যাচ খেলে মাত্র এক জয় পেয়েছে ভারত। পাকিস্তান অবশ্য এদিক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ এগিয়ে। ৬২ ম্যাচ খেলে ১০ জয় তাদের। তবে শ্রীলঙ্কাই সবচেয়ে ভালো করেছে। ১২১ ম্যাচের প্রায় ২৫ ভাগ ম্যাচে (২৯) জয়ী তারা। তবে প্রাথমিক সাফল্যে ইংল্যান্ডের ধারে কাছে নেই কেউ। প্রথম ৫২ ম্যাচের ৩১টিতেই জয়ী তারা। এতে অবশ্য সদ্য টেস্ট খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ভালো অবদান ছিল।

default-image

টেস্টে বাংলাদেশের যন্ত্রণার রেকর্ড

  • অভিষেক থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে ভারত সিরিজ পর্যন্ত টানা ১৬টি সিরিজে হারে বাংলাদেশ। টানা সিরিজ হারার বিশ্ব রেকর্ড এটাই। ২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত টানা ১১ সিরিজ হেরে দুইয়েও বাংলাদেশ।

  • টানা টেস্ট হার। ২০০১ সালের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট থেকে শুরু করে ২০০৩ সালের ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট পর্যন্ত টানা ২১ টেস্ট হারে বাংলাদেশ।

  • এক দিনে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড। ২০০২ সালে কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৫০৯ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।

  • ইনিংসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি। ২০০১ সালে মুলতানে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে একমাত্র ইনিংসে পাঁচ সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ৫৪৬ রান করে পাকিস্তান। ১৯৫৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরাও পাঁচ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।

  • ইনিংসে সবচেয়ে বেশি শূন্য। ২০০২ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ছয় ব্যাটসম্যান শূন্য রানে আউট। এই রেকর্ডে বাংলাদেশের সঙ্গী পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত।

  • উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ ও নিল ম্যাকেঞ্জি প্রথম উইকেটে ৪১৫ রান তোলে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0